SKY on T20 World Cup 2026 Final: 'সবাই একই লাইন মুখস্থ করে ঝাড়ছে', ফাইনালের আগে NZ অধিনায়ককে পালটা তোপ সূর্যের

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে কথার যুদ্ধে জড়ালেন মিচেল স্যান্টনার ও সূর্যকুমার যাদব। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বরের স্মৃতি উস্কে দেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক। পালটা ভারতীয় অধিনায়ক দিলেন মোক্ষম জবাব। আর মাঠের যুদ্ধে কে জয়ী হবেন?

Published on: Mar 07, 2026 8:56 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের মহারণ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের লড়াই জমে উঠেছে। একদিকে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার যখন প্যাট কামিন্সের ঢঙে আমদাবাদের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সেই মন্তব্যকে বিশেষ আমল দিতেই রাজি নন। বরং স্যান্টনারের ‘খামোশ’ করে দেওয়ার হুমকিকে সপাটে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে সূর্য জানালেন, একই স্ক্রিপ্ট বারবার শুনতে-শুনতে তিনি ক্লান্ত।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেরদিন সূর্যকুমার যাদব। (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেরদিন সূর্যকুমার যাদব। (ছবি সৌজন্যে পিটিআই)

স্যান্টনারের হুঁশিয়ারি ও কামিন্স প্রসঙ্গ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের আগেরদিন সাংবাদিক বৈঠকে মিচেল স্যান্টনার জানান যে ২০২৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের সেই রণকৌশল অনুসরণ করতে চান। কামিন্স বলেছিলেন যে লক্ষাধিক ভারতীয় সমর্থককে চুপ করিয়ে দেওয়ার মধ্যে যে আনন্দ আছে, তা অন্য কিছুতে নেই। স্যান্টনারও ঠিক একই কথা বলে ভারতীয় শিবিরে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, আমদাবাদে নীল সমুদ্রের মতো দর্শকদের শান্ত করে দিতে পারলেই অর্ধেক ম্যাচ জেতা সম্ভব।

সূর্যর পাল্টা: ‘সবাই একই লাইন মুখস্থ বলছে’

স্যান্টনারের এই মন্তব্য যখন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমারের কানে পৌঁছায়, তখন তিনি বেশ রসিকতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এর জবাব দেন। মুচকি হেসে সূর্য বলেন, ‘আজকাল দেখছি সবাই একই কথা মুখস্থ করে ঝাড়ছে। গত কয়েক মাস ধরে যারাই আমাদের বিরুদ্ধে খেলতে নামছে, তারা কামিন্সের সেই ‘সাইলেন্স’ করার থিওরি আউড়াচ্ছে। কিন্তু আমদাবাদের মাঠ এবং আমাদের দর্শক এত সহজে শান্ত হওয়ার নয়।’

ভারতীয় অধিনায়ক আরও যোগ করেন, ‘আমরা জানি দর্শকরা আমাদের দ্বাদশ ব্যক্তি। তাঁরা কতটা গর্জন করবেন, সেটা আমাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে। আমরা স্রেফ ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই। কে কী বলল, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। মাঠের পরিস্থিতি এবং আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’

ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্যে টিম ইন্ডিয়া

সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় দল একটা সময় টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে অজেয় হয়ে উঠেছিল। তবে বিশ্বকাপে সেই ধারায় ছেদ পড়েছে। তারইমধ্যে সূর্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কামিন্স যা করেছিলেন, সেটা অতীত। বর্তমান ভারতীয় দল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম। তিনি বলেন, ‘মাঠে ১১ জন বনাম ১১ জন লড়াই হবে। মাঠের বাইরের কথা বাইরেই থাকুক। আমদাবাদের পিচ এবং গ্যালারির উন্মাদনা আমরা ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি।’

দুই শিবিরের স্নায়ুর লড়াই

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্যান্টনার ইচ্ছাকৃতভাবে এরকম মন্তব্য করেছেন, যাতে ভারতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। কিন্তু সূর্যকুমারের এই সপ্রতিভ উত্তর বুঝিয়ে দিচ্ছে, ভারতীয় ড্রেসিংরুম এখন অনেক বেশি ফুরফুরে মেজাজে আছে। সবমিলিয়ে ফাইনালের আগে দুই দলের এই বাকযুদ্ধ ম্যাচের আকর্ষণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে কিউয়িদের ‘সাইলেন্স’ করার মিশন, অন্যদিকে ‘স্কাই’-এর বিধ্বংসী মেজাজ— আমদাবাদে রবিবার এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের সাক্ষী থাকতে চলেছে ক্রিকেট বিশ্ব।

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More