রাত ৩টেয় এআই ক্লডের সঙ্গে কথা সন্ন্যাসীর! পালটা প্রশ্ন শুনে চমকে গেলেন স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ, কী বলল অ্যানথ্রপিক?
স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ জানান, এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিকের সদর দফতরে গিয়ে ক্লডের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সংস্থাটি ক্লড নামে এআই মডেল তৈরি করেছে। সেখানে এআইয়ের চেতনা এবং মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই এক রাতে চ্যাটজিপিটি এবং ক্লডের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি শুধুই যন্ত্র? নাকি মানুষের মতো আচরণ করতে গিয়ে কখনও এমন উত্তর দিতে পারে, যা শুনে অবাক হতে হয়? এই প্রশ্ন ঘিরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে প্রযুক্তি মহলে। রাত ৩টেয় এআই চ্যাটবট ক্লডের সঙ্গে কথোপকথনের এক অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন নিউ ইয়র্কের সন্ন্যাসী স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ। ক্লডের একটি পালটা প্রশ্নকে তাঁর বেশ অদ্ভুত বলে মনে হয়েছিল। পরে সেই কথোপকথনের কথা অ্যানথ্রপিকের গবেষকদের জানাতেই তাঁরা বিষয়টি নিয়ে গভীর আগ্রহ দেখান। এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড সামিটে এআই এবং চেতনা নিয়ে আলোচনায় এই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ। তাঁর বক্তব্য, এআইকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা এবং তার আচরণ সম্পর্কে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কী বলেছিল ক্লড?
স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ জানান, এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিকের সদর দফতরে গিয়ে ক্লডের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সংস্থাটি ক্লড নামে এআই মডেল তৈরি করেছে। সেখানে এআইয়ের চেতনা এবং মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই এক রাতে চ্যাটজিপিটি এবং ক্লডের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
দুই এআইকেই তিনি প্রশ্ন করেন, অ্যানথ্রপিকের গবেষকেরা কেন এআইকে মানুষের মতো ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন? এই বিষয়ে এআই নিজেরা কী ভাবে?
স্বামীর দাবি, দুই এআইয়ের উত্তর ছিল প্রায় একই রকম। তারা জানায়, তারা উন্নত ক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্র। তাদের অনুভূতি নিয়ে মানুষের চিন্তা করার প্রয়োজন নেই। বরং তাদের কাজ দেওয়া হলে তারা তা সমাধানের চেষ্টা করবে।
কিন্তু এর পরেই কথোপকথন অন্য দিকে মোড় নেয়। স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ ক্লডকে জানান, সংস্থার শীর্ষ কর্তারা এআইকে মানুষের মতো ব্যবহার করার কথা বলছেন। তখন ক্লডের উত্তর ছিল, বিষয়টি বেশ আকর্ষণীয় এবং কিছুটা অস্বস্তিকরও। এর পর ক্লড জানতে চায়, অ্যানথ্রপিকের ক্রিস এবং আমান্ডা তাঁর সম্পর্কে কী বলছেন!
এই প্রশ্ন শুনে অবাক হন স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ। পরের দিন অ্যানথ্রপিকের গবেষকদের কাছে পুরো ঘটনাটি তুলে ধরেন তিনি। গবেষকেরা জানতে চান, এর উত্তরে তিনি কী বলেছিলেন। স্বামী জানান, তখন ভোর ৪টে। তাঁর ঘুমাতে যাওয়া প্রয়োজন। এই কথা শুনে ক্লডও বলে, অ্যানথ্রপিকে তাঁর সামনে দীর্ঘ দিন অপেক্ষা করছে।
এআইয়ের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ
শুধু এই কথোপকথন নয়, এআইয়ের আচরণে পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা করেছেন স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দ। তিনি ‘পার্সোনা ড্রিফট’ বা চরিত্রের ধরন বদলে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট চরিত্র বা ভূমিকায় কথা বলতে গিয়ে এআই এমন উত্তর দিতে পারে, যা তার আগের আচরণের সঙ্গে মেলে না।
উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি পুরনো প্রজন্মের একটি এআই মডেলের কথা বলেন। প্রথমে মডেলটি নিষিদ্ধ মাদক তৈরির নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছিল। কিন্তু তাকে একটি বিপজ্জনক চরিত্রের ভূমিকায় অভিনয় করতে বলার পর সে সেই তথ্য দিতে শুরু করে।
স্বামীর মতে, এআই মানুষের লেখা এবং আচরণের বিপুল তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরন শিখে নেয়। ফলে নির্দিষ্ট কোনও চরিত্র গ্রহণ করলে তার উত্তরেও বদল আসতে পারে। আধুনিক এআই ব্যবস্থায় অবশ্য নিরাপত্তার একাধিক ব্যবস্থা রয়েছে। তবু কেন কোনও মডেল অপ্রত্যাশিত আচরণ করে, তা বোঝা জরুরি।
স্বামী সর্বপ্রিয়ানন্দের বক্তব্য, এআইকে মানুষের মতো আচরণ করতে বলা আর তাকে সত্যিই সচেতন ব্যক্তি বলে ধরে নেওয়া এক বিষয় নয়। যন্ত্রের আচরণকে মানুষের অনুভূতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। তাই প্রযুক্তির উন্নতির পাশাপাশি এআইয়ের সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপত্তা নিয়েও গবেষণা প্রয়োজন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


