Taj Hotel Barricade ₹22 Crore Bill: ২৬/১১-র নিরাপত্তা বলয়ে কোটি টাকার বিল! তাজ হোটেলকে ২২ কোটির নোটিস মুম্বই পুরসভার

বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আসা এই নোটিস ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাজ হোটেলের চারপাশে ২০০৯ সালের জুন মাসে কংক্রিট ব্যারিকেড, লোহার বলার্ড, বড় টব (প্ল্যান্টার) সহ একাধিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো বসানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে কোনও জঙ্গি হামলা বা গাড়ি-বোমা হামলার ঝুঁকি কমানো।

Published on: Jul 16, 2026, 22:25:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক তাজ মহল প্যালেস হোটেলকে (Taj Mahal Palace Hotel) প্রায় ২২.০৩ কোটি টাকা পরিশোধের নোটিস পাঠাল বৃহন্মুম্বই পুরসভা (BMC)। অভিযোগ, ২০০৮ সালের ২৬/১১ জঙ্গি হামলার পর হোটেলের চারপাশে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল, তা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি রাস্তা ও ফুটপাথ দখল করে রয়েছে। সেই কারণেই 'অকুপেশন চার্জ' বা সরকারি জায়গা ব্যবহারের বাবদ এই বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়েছে।

তাজ হোটেলের চারপাশে ২০০৯ সালের জুন মাসে কংক্রিট ব্যারিকেড, লোহার বলার্ড, বড় টব (প্ল্যান্টার) সহ একাধিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো বসানো হয়েছিল।
তাজ হোটেলের চারপাশে ২০০৯ সালের জুন মাসে কংক্রিট ব্যারিকেড, লোহার বলার্ড, বড় টব (প্ল্যান্টার) সহ একাধিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো বসানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে আসা এই নোটিস ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাজ হোটেলের চারপাশে ২০০৯ সালের জুন মাসে কংক্রিট ব্যারিকেড, লোহার বলার্ড, বড় টব (প্ল্যান্টার) সহ একাধিক নিরাপত্তা পরিকাঠামো বসানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে কোনও জঙ্গি হামলা বা গাড়ি-বোমা হামলার ঝুঁকি কমানো। সেই নিরাপত্তা বলয় এখনও বহাল রয়েছে।

বিএমসি-র সরকারি নথি অনুযায়ী, এই নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য বর্তমানে প্রায় ৮০০ বর্গমিটার সরকারি রাস্তা এবং ১,১০০ বর্গমিটারেরও বেশি ফুটপাথ ব্যবহার করা হচ্ছে। এতদিন এই জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাজ হোটেলকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন স্থায়ী কমিটি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে রাস্তার চার্জে ৫০ শতাংশ ছাড় এবং ফুটপাথ ব্যবহারের চার্জ সম্পূর্ণ মকুব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

কিন্তু চলতি বছরের মে মাসে বিএমসি প্রশাসক সেই সমস্ত ছাড় প্রত্যাহার করে নেন। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE)-কেও চার্জ করা হয়েছিল। তারা সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরসভার পাঠানো দ্বিতীয় দফার নোটিসে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দ্রুত বকেয়া পরিশোধ না করলে প্রতি মাসে ১৫ শতাংশ হারে সুদ ধার্য করা হবে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অঙ্ক আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, তাজ হোটেল কর্তৃপক্ষ এই দাবির বিরোধিতা করেছে। হোটেলের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই বিএমসি-র শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, এই ব্যারিকেড বা নিরাপত্তা অবকাঠামো কোনও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। এগুলি সম্পূর্ণভাবে জননিরাপত্তার স্বার্থে বসানো হয়েছিল এবং এখনও শহরের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এগুলিকে বাণিজ্যিক দখল হিসেবে বিবেচনা করে চার্জ ধার্য করা উচিত নয়।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর পাকিস্তানি জঙ্গিদের ভয়াবহ হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল তাজ মহল প্যালেস হোটেল। প্রায় ৬০ ঘণ্টার সেই জঙ্গি অভিযানে বহু নিরীহ মানুষ ও নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। এরপর থেকেই হোটেলের নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থায়ী ব্যারিকেড ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

এখন প্রশ্ন উঠছে, জননিরাপত্তার জন্য গড়ে তোলা এই নিরাপত্তা বলয়ের খরচ কি একটি বেসরকারি হোটেলকেই বহন করতে হবে, নাকি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই ধরনের অবকাঠামোর ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় বজায় রাখা উচিত? তাজ হোটেল ও বিএমসি-র আলোচনার ফলাফলের দিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More