ভারতকে চাপে ফেলতে এবার রাষ্ট্রসংঘকে ব্যবহার করবে বাংলাদেশ? তারেকের মার্কিন সফরের আগে ঢাকা-দিল্লি টানাপোড়েন তুঙ্গে
শেখ হাসিনার পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক প্রয়াত ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি জানানো হচ্ছে। ঢাকার একাধিক সূত্রের দাবি, এই বিষয়গুলিতে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান না পাওয়া পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকছে।
রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম রাষ্ট্রসংঘ সফর। আর এই সফরের আগে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবি।

ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরানোর প্রসঙ্গ তুলতে পারেন। বিশ্বের সামনে ভারত বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ-অনুরোধকে গুরুত্ব দিচ্ছে না—এই বার্তাও দিতে চাইছে ঢাকা, এমনটাই দাবি বিএনপির এক শীর্ষ নেতার।
নিউইয়র্ক সফরের আগেই ভারতকে নিশানা
২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছনোর কথা তারেক রহমানের। সাত দিনের সফরে রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নেবেন। তার আগে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। শুক্রবার ঢাকা-সহ একাধিক জেলায় বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল মিছিল করে। সেখান থেকে ভারত-বিরোধী স্লোগানও ওঠে। ‘ভারত যদি বন্ধু হও, খুনিদের ফেরত দাও’ এবং ‘না দিল্লি, না পিন্ডি, ঢাকা ঢাকা’—এই ধরনের স্লোগান শোনা যায়। একইসঙ্গে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বার্তাও সামনে আনা হয়। বিএনপি সরকারের নতুন বিদেশনীতি হিসেবেও এই নীতিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামি লিগ নিয়েও বাড়ছে উত্তেজনা
ছাত্রদলের মিছিল থেকে আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের দাবিও ওঠে। এর মধ্যেই শুক্রবার ঢাকার গুলশনের ব্যস্ত এলাকায় আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকদের একটি জমায়েত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পুলিশের দাবি, সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে তারেকের নিউইয়র্ক সফরের আগে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
হাসিনার প্রত্যর্পণেই আটকে ভারত সফর?
শেখ হাসিনার পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক প্রয়াত ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও বাংলাদেশে ফেরানোর দাবি জানানো হচ্ছে। ঢাকার একাধিক সূত্রের দাবি, এই বিষয়গুলিতে ভারতের কাছ থেকে স্পষ্ট অবস্থান না পাওয়া পর্যন্ত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যেও বলা হয়েছে, ভারত থেকে হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে নয়াদিল্লির স্পষ্ট জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা।
দিল্লির বক্তব্য, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে
অন্যদিকে ভারত বারবার জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। তাই দ্রুত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। একইসঙ্গে নয়াদিল্লির বক্তব্য, একটি বা দুটি বিতর্কিত ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে পিছনে ঠেলে দেওয়া ঠিক হবে না। দিল্লির তরফে এও বার্তা দেওয়া হয়েছে, তারেক রহমান ভারত সফরে এলে তাঁকে যাতে ইতিবাচক পরিবেশে স্বাগত জানানো যায়, সেই চেষ্টা থাকবে। অর্থাৎ প্রত্যর্পণ ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও সম্পর্কের অন্য ক্ষেত্রগুলি সচল রাখার পক্ষেই রয়েছে ভারত।
ব্রিকস নিয়ে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক
এর মধ্যেই শনিবার দিল্লিতে শুরু হচ্ছে ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের আউটরিচ কর্মসূচিতেও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তিনি দিল্লিতে আসছেন না। ঢাকার অভিযোগ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বাংলাদেশের যুক্তি, তারেক রহমান প্রথমে দেশের প্রধানমন্ত্রী, সেই সূত্রেই তিনি বিমসটেকের চেয়ারম্যান। তাই আমন্ত্রণও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে হওয়া উচিত ছিল।
নয়াদিল্লির অবস্থান অবশ্য আলাদা। ভারতের বক্তব্য, যে পরিচয়ে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে কূটনৈতিক রীতির কোনও লঙ্ঘন হয়নি। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে তারেক রহমানের সম্ভাব্য বক্তব্যের আগে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠছে। এখন নজর, নিউইয়র্কে তিনি শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ কতটা জোরালোভাবে তোলেন এবং তার জবাবে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান কী হয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


