Tarique Rahman Latest Update: তারেকের ভারত সফর নিয়ে ফের আলোচনা, নভেম্বরেই কি ঢাকা-দিল্লির নতুন সমীকরণ?

তারেকের সফরকে ঘিরে আলোচনা এমন সময়ে ফের গতি পেয়েছে, যখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতা ছাড়ার পর ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর পরবর্তী বক্তব্য ও কার্যকলাপ নিয়েও ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

Published on: Sep 18, 2026, 12:51:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সরকারি পর্যায়ের আলোচনা ফের শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দুই দেশের কর্মকর্তারা ঢাকায় ধারাবাহিক বৈঠক করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফরের সম্ভাব্য সময় ও আলোচ্যসূচি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে নভেম্বর মাসে একটি উপযুক্ত সময়ে এই সফর আয়োজনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সরকারি পর্যায়ের আলোচনা ফের শুরু হয়েছে। (@ihcdhaka)
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে সরকারি পর্যায়ের আলোচনা ফের শুরু হয়েছে। (@ihcdhaka)

এই সফরকে ঘিরে আলোচনা এমন সময়ে ফের গতি পেয়েছে, যখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতা ছাড়ার পর ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁর পরবর্তী বক্তব্য ও কার্যকলাপ নিয়েও ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। গত আগস্টে ভারতে শেখ হাসিনার একটি ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছিল। এর পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি হয়।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগ্রহও স্পষ্ট হচ্ছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, ঢাকা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় এবং এমন একটি সময়কে অগ্রাধিকার দেবে, যখন দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।

সম্ভাব্য ভারত সফরের আলোচ্যসূচিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জায়গা পেতে পারে। ‘দ্য হিন্দু’-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে স্বাভাবিক করা এবং গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির নবীকরণের বিষয় আলোচনায় থাকতে পারে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ ডিসেম্বরের শেষদিকে শেষ হওয়ার কথা থাকায় বিষয়টি দুই দেশের কাছেই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর পাশাপাশি সীমান্ত, ভিসা, বাণিজ্য, জ্বালানি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো বিষয়ও ভবিষ্যতের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। ভারতীয় পক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক যোগাযোগ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, একাধিক অমীমাংসিত প্রশ্ন নিয়ে সরাসরি রাজনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

সম্প্রতি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে তিনি ওই সম্মেলনে যোগ দেননি এবং বাংলাদেশও কোনও প্রতিনিধি পাঠায়নি। ভারতের পক্ষ থেকে পরে জানানো হয়, তারেক রহমানকে ব্রিকসের পাশাপাশি আলাদা করে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণও দেওয়া হয়েছিল। ফলে ব্রিকস সফর না হলেও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের দরজা খোলা রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক তৎপরতাও নজর কেড়েছে। তিনি বাংলাদেশের একাধিক মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দুই দেশের কর্মকর্তারা এখন সম্ভাব্য সফরের আলোচ্যসূচি নিয়ে কাজ করছেন বলে সূত্রের দাবি।

তবে সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। নভেম্বরকে সম্ভাব্য সময় হিসেবে দেখা হলেও রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং দুই দেশের নেতাদের সময়সূচির ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন মতপার্থক্যও এখনও রয়েছে। ফলে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করলেও, সফরের আগে এবং পরে আলোচনায় কী ফল পাওয়া যায়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More