Bangladesh: ‘দিল্লি নয়, পিন্ডিও নয়!’ ভারত ও পাকিস্তানের থেকে সমদূরত্বের বার্তা তারেক রহমানের

Bangladesh: শনিবার বাংলাদেশের ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বনানীতে আয়োজিত দলীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। 

Published on: Nov 7, 2026, 20:30:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Bangladesh: ভারত এবং পাকিস্তান, উভয়ের থেকেই সমদূরত্ব বজায় রেখে চলতে চায় বাংলাদেশ। শনিবার ফের তা বুঝিয়ে দিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, 'দিল্লি নয়, পিন্ডিও (রাওয়ালপিন্ডি) নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ।'

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শনিবার বাংলাদেশের ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বনানীতে আয়োজিত দলীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে নির্বাচনের প্রচার পর্বে যে স্লোগান সামনে রেখে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল, সরকার পরিচালনার নয় মাসের মাথায় দাঁড়িয়েও সেই অবস্থানের কোনও হেরফের হয়নি বলেই স্পষ্ট করেন তিনি। সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনও অপশক্তি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে বাংলাদেশকে একটি ‘তাঁবেদার রাষ্ট্রে’ পরিণত করতে না পারে, তার জন্য সরকার এবং জনগণকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই নিজের এই অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন তারেক। ভোটের প্রচারে বার বার দাবি করেছিলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। দিল্লি এবং রাওয়ালপিন্ডির প্রসঙ্গ টেনে এই স্লোগান তুলেই ভোটের প্রচার শুরু করেছিলেন তিনি। ক্ষমতায় আসার ন’মাস পরে এ বার নিজের সরকারের সেই অবস্থানই ফের বুঝিয়ে দিলেন তারেক।

এদিন ঢাকার বনানীর সমাবেশ থেকেই বাংলাদেশবাসীর উদ্দেশে ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়’ স্লোগান দেন তারেক রহমান। তাঁর কথায়, 'ভবিষ্যতে কেউ যেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে।' তারেকের বক্তৃতায় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এবং দু’বছর আগের ছাত্র-যুবদের আন্দোলন— উভয়ই উঠে আসে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, '১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই।' দু’বছর আগেও ওই আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত’ হয়েছে বলেও জানান তিনি।

দু’বছর আগে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন এবং আওয়ামী লিগের পতনের পরে বিভিন্ন সময়ে ‘দিল্লি না ঢাকা…’ স্লোগান উঠেছে বাংলাদেশে। হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপি-র নেতৃত্বের মুখে কিছুদিন আগেও এই স্লোগান শোনা গিয়েছে। হাসিনার সঙ্গে তারেকদের এক বন্ধনীতে ফেলার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। বিএনপির সরকারকে ‘নব্য স্বৈরাচার’ বলে আক্রমণ শানিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে শনিবারের বক্তৃতায় তারেক ভারত এবং পাকিস্তানের থেকে সমদূরত্বের বার্তা দিয়ে এসিপি-র মুখ বন্ধের চেষ্টা করলেন বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামও নিজেদের রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারসাম্য এবং সার্বভৌম মর্যাদা অটুট রাখাই যে বর্তমান ঢাকা প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য, বনানীর এই সমাবেশ থেকে ফের তা দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করলেন তারেক রহমান।