Tarique Rahman's India Visit Chances: এখন নাকি চাই মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণ! তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে নয়া বার্তা ঢাকার

কয়েক দিন আগেও দুই দেশের মধ্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সফর ভেস্তে যায়। কারণ, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।

Published on: Aug 21, 2026, 08:55:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বাংলাদেশ। তারেকের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়ে দিলেন, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর এখনই হচ্ছে না। দুই দেশের মধ্যে ‘উপযুক্ত পরিবেশ’ তৈরি হলেই সফরের বিষয়ে এগোনো হবে। হুমায়ুনের কথায়, পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, কূটনৈতিক আলোচনা এবং মর্যাদাপূর্ণ আমন্ত্রণ- এই সবকিছুর উপর নির্ভর করছে সফর।

তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বাংলাদেশ। (@ihcdhaka)
তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ফের নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল বাংলাদেশ। (@ihcdhaka)

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েনের মধ্যেই ঢাকার এই বার্তা এসেছে। কয়েক দিন আগেও দুই দেশের মধ্যে তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সফর ভেস্তে যায়। কারণ, নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য ঘিরে বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।

৫ অগস্ট নয়াদিল্লিতে সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই বক্তব্য ঘিরে ঢাকায় নতুন করে ক্ষোভ ছড়ায়। তবে ভারত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে সরকারের কোনও যোগ ছিল না। অনুষ্ঠান বা সেখানে দেওয়া বক্তব্যকেও ভারত সরকার সমর্থন করেনি।

এই ঘটনাই তারিক রহমানের ভারত সফরের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক আবেগ এখনও তীব্র। ২০২৪ সালের অগস্টে রাজনৈতিক পালাবদলের পর হাসিনা ভারতে চলে আসেন। পরে তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানায় ঢাকা। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

ঢাকার বিদেশ উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির অবশ্য জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ স্পষ্ট না করে কোনও শীর্ষ স্তরের সফরে তাড়াহুড়ো করবে না বাংলাদেশ। তাঁর বক্তব্য, দুই দেশের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হলে এবং যথাযথ পরিবেশ তৈরি হলে দিল্লি সফরের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। এদিকে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা। তার আগে তারেকের ভারত সফরের সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই জানানো হয়েছে।

তবে দিল্লির অবস্থান তুলনায় ইতিবাচক। বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক হলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি এর আগেও বলেছেন, ভারত তারিক রহমানের সফরকে ইতিবাচক ভাবে দেখতে চায়।

সম্প্রতি তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চান তারিক রহমানের ভারত সফর স্মরণীয় হয়ে উঠুক। দুই দেশের মধ্যে মতভেদ থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রাখা দরকার বলেও বার্তা দিয়েছেন তিনি। এখন প্রশ্ন, শেখ হাসিনাকে ঘিরে এই টানাপড়েন কতটা কাটবে? ঢাকার কাছে হাসিনার প্রত্যর্পণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়। অন্য দিকে দিল্লিও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি খারাপ করতে চাইছে না। দুই দেশই জানে, ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তার দিক থেকে একে অপরের গুরুত্ব অনেক। ফলে আপাতত কূটনীতির বল পড়ে রয়েছে দুই দেশের কোর্টেই। ঢাকা চাইছে ‘সম্মানজনক’ পরিবেশ। দিল্লি চাইছে সরাসরি আলোচনা। তারিক রহমান কবে দিল্লি আসবেন, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে এই দুই অবস্থানের মধ্যে কত দ্রুত সেতু তৈরি হয় তার উপর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More