IIT Bombay Student Death: 'দায়িত্ব পালন করছিলেন!' আইআইটি বম্বের ছাত্রমৃত্যুতে অভিযুক্ত অধ্যাপকের পাশে শিক্ষকমহল
IIT Bombay Student Death: সোমবার আইআইটি বম্বের ফ্যাকাল্টি ফোরামের তরফে অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার সমর্থনে বিবৃতি জারি করা হয়। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে মিছিলও করেন ফ্যাকাল্টি সদস্যরা।
IIT Bombay Student Death: সম্প্রতি খবরের শিরোনামে আইআইটি বম্বে। প্রতিষ্ঠানের শক্তি বিজ্ঞান এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের (DESE) অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা এক মর্মান্তিক ও সংবেদনশীল ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিষ্ঠানের বি-টেক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাহিল ওয়াকোরের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগের তীর তাঁর দিকেই। ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির ডিন অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাফেয়ার্স তথা অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে তাঁর পদ থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এই আবহে অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার পাশে শক্ত হাতে দাঁড়াল আইআইটি বম্বে, দিল্লি, মাদ্রাজের শিক্ষকরা।

সোমবার আইআইটি বম্বের ফ্যাকাল্টি ফোরামের তরফে অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার সমর্থনে বিবৃতি জারি করা হয়। পাশাপাশি, ক্যাম্পাসে মিছিলও করেন ফ্যাকাল্টি সদস্যরা। ফোরামের সঙ্গে প্রায় ৭৫০ জন ফ্যাকাল্টি সদস্য যুক্ত রয়েছেন। আইআইটি বম্বের ফ্যাকাল্টি ফোরাম সোমবার দাবি করেছে, অধ্যাপক দুল্লা একজন পরীক্ষা পরিদর্শক হিসেবে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনেই তাঁর দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরীক্ষায় যে অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনা ঘটেছিল, যা তিনি নিয়মমাফিক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত দুল্লার বিরুদ্ধে সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ফ্যাকাল্টি ফোরাম। ফ্যাকাল্টি ফোরামের দাবি, অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে আইআইটি বম্বে থেকে সাসপেন্ড করা হয়নি। তিনি এখনও প্রতিষ্ঠানের ফ্যাকাল্টির সদস্য এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও জানানো হয়েছে। তবে ১৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সাময়িকভাবে ডিন অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাফেয়ার্স-এর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফোরাম।
ফোরামের বিবৃতিতে অধ্যাপক দুল্লাকে প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্রদের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নতির জন্য তিনি দু’টি পুরস্কার পেয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এছাড়াও ডিন হিসেবে তাঁর কাজ এবং ছাত্রকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ফ্যাকাল্টি ফোরাম আরও জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ প্রতিবেদনের কারণে অধ্যাপক দুল্লার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। ফ্যাকাল্টি ফোরামের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক রাজকুমার এস প্যান্টের নামে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। দুল্লা পাশে পেয়েছেন তাঁর নিজের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অধীনন্থ ‘পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি’-র গবেষক, পড়ুয়া এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদেরও। তাঁরাও সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে, আইআইটি মাদ্রাজ ফ্যাকাল্টি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক এথায়ারাজা মণি এক বিবৃতিতে বলেছেন, 'কোনও ছাত্রের এমন অকালমৃত্যু সমগ্র সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি। সাহিল ওয়াকোরের বাবা-মা, পরিবার, সহপাঠী ও আইআইটি বম্বের শোকাহত ছাত্র সমাজের প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল অগ্রাধিকার হওয়া উচিত ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।' তবে একই সঙ্গে বিবৃতির মাধ্যমে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই শোকের সময়ে সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করা উচিত। আইআইটি বম্বে ফ্যাকাল্টি ফোরামের সুরেই আইআইটি মাদ্রাজ শিক্ষক সমিতি জানিয়েছে, অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা একজন শিক্ষক ও পরীক্ষা পরিদর্শক (Invigilator) হিসেবে আইআইটি অনুমোদিত নিয়মকানুন মেনেই পড়ুয়ার অবৈধ কাজের কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।
আইআইটি দিল্লির অধ্যাপকরাও দুল্লার সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। তাঁদের যুক্তি, তিনি শুধুমাত্র নিজের দায়িত্ব পালন করছিলেন। একই সঙ্গে কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তীব্র নিন্দাও জানিয়েছেন তাঁরা। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআইটি দিল্লি ফ্যাকাল্টি ফোরাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'এই ফোরাম অধ্যাপক দুল্লা, তাঁর ছাত্রছাত্রী এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছে এবং তাঁর ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, 'আইআইটি বম্বেতে তৈরি হওয়া পরিস্থিতির কারণে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং অ্যাকাডেমিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা নিয়ে শিক্ষকদের মনে এক ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইআইটি দিল্লি ফ্যাকাল্টি ফোরাম ছাত্রসমাজ, তাঁদের পরিবার এবং সমগ্র জাতির কাছে সমর্থনের আবেদন জানাচ্ছে, যাতে সমগ্র আইআইটি ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে শিক্ষকরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।'
ঘটনার সূত্রপাত
গত ১৮ সেপ্টেম্বর মিড-সেমিস্টার পরীক্ষার সময় চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) ও মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল ২০ বছর বয়সী সাহিলের বিরুদ্ধে। পরে হোস্টেল রুম থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার এই ঘটনায় বর্ণবিদ্বেষ ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মুম্বই পুলিশের কাছে এসসি/এসটি আইনে এফআইআর দায়ের করেছে। এদিকে, পড়ুয়াদের টানা বিক্ষোভের চাপে ২০ সেপ্টেম্বর রাতে সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে ‘ডিন অব স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার’ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ।
E-Paper

