বিয়ে টিকবে না! জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী শুনে ভয়ঙ্কর পদক্ষেপ টেকির, বেঙ্গালুরুতে হুলুস্থূল
সম্প্রতি মেয়েকে নিয়ে এক জ্যোতিষীর কাছে গিয়েছিলেন বিদ্যাজ্যোতির বাবা-মা। মেয়ের ভাগ্যে কী আছে, দেখতে বলেন জ্যোতিষীকে।
সাংঘাতিক! জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী শুনে ভয়ে-অবসাদে আত্মহত্যা করলেন মাত্র ২৭ বছরের এক টেকি। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু শহরে।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধ্যায় বেঙ্গালুরুর বগলাগুন্তে ঘটনাটি ঘটেছে। মৃতার নাম বিদ্যাজ্যোতি। বেঙ্গালুরুতে একটি বহুজাতিক সংস্থায় টেকি হিসাবে কর্মরত ছিলেন ওই যুবতী। গত শুক্রবার রাতে ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যেরা। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বিদ্যাজ্যোতির সঙ্গে এক যুবকের দীর্ঘদিন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে দু’জন ভিন্ন জাতির। প্রথমে এ নিয়ে পরিবারের অমত ছিল। কিন্তু বিদ্যাজ্যোতির ইচ্ছে অনুযায়ী, দুই পরিবারই তাদের বিয়ের জন্য রাজি হয়।
সম্প্রতি মেয়েকে নিয়ে এক জ্যোতিষীর কাছে গিয়েছিলেন বিদ্যাজ্যোতির বাবা-মা। মেয়ের ভাগ্যে কী আছে, দেখতে বলেন জ্যোতিষীকে। হাত দেখে, কুষ্ঠি বিচার করে সেই জ্যোতিষী বিদ্যাজ্যোতিকে বলেছিলেন, তার বিয়ে মাত্র দুই বছর টিকবে এবং শেষে বিচ্ছেদের সম্ভবনা রয়েছে। এই বাধা কাটানোর জন্য জ্যোতিষী তাঁকে নয় দিনের একটি রীতি করার পরার্মশও দিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রের খবর, জ্যোতিষীর কথা অনুযায়ী বিদ্যাজ্যোতি সেই রীতি সম্পন্ন করছিলেন। নবম দিনে, রীতি অনুযায়ী যখন তাঁর পরিবার মন্দির গিয়েছিলেন, তখন তিনি বাড়িতে একা ছিলেন। পরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়। দরজায় টোকা দেওয়ার পরেও মেয়ের সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে বাবা ঘরে ঢুকেছিলেন। তারপরেই দেখেন, সিলিং ফ্যান থেকে গলায় ওড়না জড়িয়ে ঝুলছে মেয়ে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। ইতিমধ্যে বগলাগুন্তে পুলিশ এটিকে অস্বাভাবিক মৃত্যু বলে মামলা দায় করেছে এবং পরর্বতী তদন্ত এখনও চলছে। মনে করা হচ্ছে, জ্যোতিষীর কথায় মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে এমন পদক্ষেপ করে থাকতে পারেন প্রযুক্তিবিদ।
E-Paper

