Brazil presidential elections: লুলা বনাম বলসোনারো পুত্র, নজর ট্রাম্পের! ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে চড়ছে পারদ

Brazil presidential elections: রবিবারের ভোটে কোনও প্রার্থী বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি না পেলে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী ২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন।

Published on: Oct 4, 2026, 19:10:04 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Brazil presidential elections: দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, তীব্র রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভোটারদের বাড়তে থাকা অনাগ্রহের মধ্যেই রবিবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিয়েছে ব্রাজিলের ১৫ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ। সে দেশের রাজনীতিতে আবারও মুখোমুখি হয়েছে দুই পরিচিত রাজনৈতিক শিবির। নির্বাচনে, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছেন বামপন্থি প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থি সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো, যিনি জেলবন্দি প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর পুত্র।

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে চড়ছে পারদ (Reuters)
ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে চড়ছে পারদ (Reuters)

দুজনই ব্রাজিলের জন্য ভিন্ন রাজনৈতিক পথের কথা তুলে ধরছেন। রবিবারের ভোটে কোনও প্রার্থী বৈধ ভোটের অর্ধেকের বেশি না পেলে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী ২৫ অক্টোবরের দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে মুখোমুখি হবেন। আমেরিকাস কোয়ার্টারলির প্রধান সম্পাদক ও আমেরিকাস সোসাইটি/কাউন্সিল অব দ্য আমেরিকাসের নীতি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রায়ান উইন্টার বলেন, ‘এটি দেশটি কেমন হবে এবং লাতিন আমেরিকা কোন পথে যাবে, তা নিয়ে দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির লড়াই।’ বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ ব্রাজিলে অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের জন্য ভোট দেওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে দেশটিতে সাধারণত ভোটার উপস্থিতিও বেশ বেশি থাকে। তবে এবারের নির্বাচন শুধু ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। নির্বাচনের ফল বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের অবস্থানেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। দেশটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রক্ষণশীল জোটের দিকে ঝুঁকবে, নাকি লুলার অনুসৃত বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতির পথেই থাকবে, সেটিও এই ভোটের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।

প্রার্থীরা কারা?

৮০ বছর বয়সি লুলা চতুর্থ এবং সম্ভবত শেষবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করছেন। ২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন। দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে লুলা ৫৮০ দিন কারাগারে ছিলেন। পরে ২০২১ সালে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা বাতিল করে এবং রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়। এরপর ২০২২ সালের নির্বাচনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোকে হারিয়ে আবারও ক্ষমতায় ফেরেন তিনি।

এবার সমীক্ষায় লুলার সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করছেন ফ্লাভিও বলসোনারো। বাবার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। জাইর বলসোনারো বর্তমানে শারীরিক কারণে মানবিক বিবেচনায় গৃহবন্দি রয়েছেন। তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। ২০২২ সালের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নিয়ে অভ্যুত্থানের চেষ্টা করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিনি ২৭ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

লুলা ও ফ্লাভিওর পেছনে রয়েছেন আরও চার প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। তাঁরা হলেন মধ্যপন্থি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বেস্টসেলার লেখক অগুস্তো কুরি, ডানপন্থি প্রাক্তন গোয়াস রাজ্যের গভর্নর রোনালদো কাইয়াদো, মুভিমেন্তো ব্রাসিল লিভরির ডানপন্থি প্রতিষ্ঠাতা রেনান সান্তোস এবং মিনাস জেরাইস রাজ্যের প্রাক্তন গভর্নর ও অর্থনৈতিকভাবে উদারপন্থি রোমেউ জেমা।

এগিয়ে রয়েছেন কে?

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ কয়েকটি সমীক্ষায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তবে কোনও প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পাওয়ার অবস্থানে না থাকায় নির্বাচন গড়াতে পারে দ্বিতীয় দফায়। সেই ভোট অনুষ্ঠিত হবে ২৫ অক্টোবর। সিএনটি-এমডিএ সমীক্ষায় প্রথম দফায় বৈধ ভোটের হিসাবে লুলা পেয়েছেন ৪৭.৮ শতাংশ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর সমর্থন ৪২.১ শতাংশ। অগুস্তো কুরি ৩.৬, রোনালদো কাইয়াদো ৩.৪ এবং রেনান সান্তোস ১.৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। রোমেউ জেমার সমর্থন ০.৯ শতাংশ। দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য লড়াইয়ে এই জরিপে লুলার সমর্থন ৪৭.৩ শতাংশ, আর ফ্লাভিও বলসোনারোর ৪৩.১ শতাংশ।

ফ্লাভিও বলসোনারো'র পাশে ডোনাল্ড ট্রাম্প?

তবে বিশ্ব রাজনীতিতে ব্রাজিলের অবস্থান নিয়েও লুলা ও ফ্লাভিওর মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। ফ্লাভিও বলসোনারো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং লুলার সঙ্গে মতবিরোধ থাকা অন্যান্য নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। মে মাসে, ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে ওভাল অফিসে বৈঠক করেন ফ্লাভিও। বৈঠকে সংঘবদ্ধ অপরাধ, শুল্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়। পরদিন তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স ও বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও'র সঙ্গেও বৈঠক করেন। ওয়াশিংটন সফরের সময় ফ্লাভিও ব্রাজিলের দুটি শক্তিশালী অপরাধী সংগঠনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। কয়েক দিন পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেয়। লুলার সরকার অবশ্য এর বিরোধিতা করে বলেছে, ব্রাজিলের অপরাধী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদবিরোধী কাঠামো প্রয়োগ অনেকটা বিদেশি হস্তক্ষেপের অজুহাত হয়ে উঠতে পারে।