Mysterious Well: এলাকায় আগে ভূমিকম্প হওয়ায় স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, এটাও হয়তো তারই কোনও সঙ্কেত। কেউ কেউ আবার এর পিছনে অতিপ্রাকৃত কোনও কারণ রয়েছে বলেও গুজব ছড়াতে শুরু করেন। তবে জেলা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এর সঙ্গে ভূমিকম্পের কোনও সম্পর্ক নেই।
Mysterious Well: ভারতের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে আছে এমন কিছু রহস্যময় স্থান, যার নাম শুনলেই শিরদাঁড়া দিয়ে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। রাজস্থানের পরিত্যক্ত কেল্লা থেকে শুরু করে কার্শিয়াংয়ের কুয়াশাচ্ছন্ন জঙ্গল- এই জায়গাগুলি আজও পর্যটকদের কাছে পরম বিস্ময়। কোথাও শোনা যায় মৃত রাজপুত্রের করুণ আর্তনাদ, আবার কোথাও অভিশপ্ত গ্রাম জনমানবহীন হয়ে পড়ে আছে বছরের পর বছর। এই জায়গাগুলোর রহস্য আজও অধরা। সেই তালিকায় নাম জুড়তে চলেছে গুজরাটের (Gujarat)? সে রাজ্যের মোরবি তালুকের বীরপর্দা গ্রামে একটি অস্বাভাবিক ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গুজরাটের গ্রামে 'ভূতুড়ে কাণ্ড', নেপথ্যে কোনও রহস্য? (সৌজন্যে টুইটার)
বৃহস্পতিবার মোরবি তালুকের বীরপর্দা গ্রামের কুয়োর (Mysterious Well) জল আপনা থেকেই নড়াচড়া করতে থাকায় তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে নাগাদ এই অস্বাভাবিক কাণ্ডটি পুনরায় শুরু হয়েছে। দু’দিন আগেও একই ধরনের ঘটনা দেখা গিয়েছিল। এদিকে, একটা কুয়োর জল নিজে থেকেই এদিক-ওদিক দুলছে, যা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। বীরপর্দা গ্রামের এই ঘটনা দেখতে এখন কাতারে কাতারে লোক ভিড় জমাচ্ছেন। তবে এই ঘটনার আসল কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, প্রাণজীবন সাদরি নামের এক ব্যক্তির চাষের জমিতে এই কুয়োটি রয়েছে। ১৮ ফুট গভীর এই কুয়োর জলই অদ্ভুতভাবে দু'দিকে দুলছে। এই ঘটনা প্রথম শুরু হয় ২ আগস্ট। মাঝে একবার থেমে গেলেও বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে থেকে আবার জল দুলতে শুরু করে, যা গ্রামবাসীদের নজরে আসে।
এলাকায় আগে ভূমিকম্প হওয়ায় স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, এটাও হয়তো তারই কোনও সঙ্কেত। কেউ কেউ আবার এর পিছনে অতিপ্রাকৃত কোনও কারণ রয়েছে বলেও গুজব ছড়াতে শুরু করেন। তবে জেলা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এর সঙ্গে ভূমিকম্পের কোনও সম্পর্ক নেই। এটা একটা স্বাভাবিক ভৌগোলিক কারণে হতে পারে। এই অদ্ভুত ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তা নজর কেড়েছে নেটাগরিকদের। ভাইরাল হয়েছে সেই ভিডিওটি। যদিও এই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। জেলা ভূতত্ত্ববিদ জে. এস. ভাদ্ধের বলেছেন, 'এটা কোনও ভূমিকম্পের পূর্বাভাস নয়।' তাঁর মতে, প্রবল বৃষ্টির পর জল যখন মাটির নীচে প্রবেশ করে, তখন পাথরের খাঁজে আটকে থাকা বাতাস বাইরে বেরিয়ে আসে। সেই কারণেই কুয়োর জলে এই ধরনের আলোড়ন তৈরি হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের আতঙ্ক দূর করতে প্রশাসন গান্ধীনগরের ইনস্টিটিউট অফ সিসমোলজিক্যাল রিসার্চ-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, বিশেষজ্ঞদের একটি দল এসে জায়গাটি ভালোভাবে খতিয়ে দেখবে।