৫৪ বছরের রেকর্ড ভাঙল 'আর্টেমিস-২!' চাঁদের দূরপ্রান্তে ইতিহাস গড়ার পথে ৪ মহাকাশচারী
নাসার মতে, এই সফল মিশন কেবল চাঁদে ফেরার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের প্রথম অভিযানের শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করল।
মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হল। অ্যাপোলো-১৩-এর ৫৬ বছর আগের গড়া রেকর্ড ভেঙে নাসার আর্টেমিস-২ মহাকাশযানের চারজন মহাকাশচারী এখন পৃথিবী থেকে সর্বাধিক দূরত্বে অবস্থান করছেন।

সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ১২:৫৬ মিনিটে মহাকাশযানে থাকা চার মহাকাশচারী পৃথিবী থেকে ৪০০,১৭১ কিমি (২৪৮,৬৫৫ মাইল) দূরত্ব অতিক্রম করেন, যা ১৯৭০ সালে ‘অপোলো ১৩’ মিশনের গড়া সর্বোচ্চ দূরত্বের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। নাসার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এটি মানব ইতিহাসে কোনও মহাকাশযানের পাড়ি দেওয়া সর্বোচ্চ দূরত্ব। চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে ভ্রমণের সময় এই মিশনটি পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার (২ লক্ষ ৫২ হাজার ৭৬০ মাইল) দূরত্বে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এরপর কী?
এই ফ্লাইবাই মিশনের সময় মহাকাশচারীরা চাঁদের পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ ও নথিভুক্ত করতে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় করবেন। এরপর ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ফ্রি-রিটার্ন ট্রাজেক্টরি বা মুক্ত-প্রত্যাবর্তন পথ ধরে পৃথিবীর দিকে রওনা হবে, যা সম্পন্ন করতে সময় লাগবে প্রায় চার দিন। বলে রাখা ভালো, গত ১ এপ্রিল ভোরে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চার মহাকাশচারী- কমান্ডার রিড ওয়াইসম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, অভিযান বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হানসেনকে নিয়ে চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিয়েছিল নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান। চাঁদের দূরবর্তী অংশের ফ্লাইবাইয়ে মহাকাশচারীরা অজানা ভূপৃষ্ঠের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করছেন। এগুলো ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানকে নতুন দিক নির্দেশ করবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির প্রধান।
'চন্দ্রযাত্রা'
গত বুধবার (১ এপ্রিল) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে শক্তিশালী এস.এল.এস রকেটের পিঠে চেপে মহাকাশে পাড়ি দেয় আর্টেমিস-২। অ্যাপোলো মিশন শেষ হওয়ার পর এই প্রথম কোনও মানববাহী মহাকাশযান চাঁদের অভিমুখে যাত্রা এটি। চাঁদের একেবারে কাছে (৪,০৬৭ মাইল দূরত্বে) পৌঁছানোর পর মহাকাশচারীরা প্রথমবারের মতো মানুষের চোখে চাঁদের ‘ফার সাইড’ বা অন্ধকার দিক সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। চাঁদের আড়ালে যাওয়ার কারণে পৃথিবী থেকে প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বা ‘ব্ল্যাকআউট’ পিরিয়ড তৈরি হবে। এরপর ডিপ স্পেস নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পুনরায় হিউস্টনের কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপিত হবে। তাঁরা মহাকাশ থেকে একটি বিরল সূর্যগ্রহণও প্রত্যক্ষ করবেন। এই তথ্যগুলো ভবিষ্যতে চাঁদে স্থায়ী ‘মুন বেস’ তৈরির পরিকল্পনাকে সমৃদ্ধ করবে।
নাসার মতে, এই সফল মিশন কেবল চাঁদে ফেরার প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানুষের প্রথম অভিযানের শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করল। ১০ দিন মহাকাশে থাকার পর প্রশান্ত মহাসাগরে স্প্ল্যাশডাউন হবে ওরিয়নের। তারপর থেকেই শুরু হবে পরের ধাপের প্রস্তুতি। ২০২৭ সালে আর্টেমিস থ্রি মিশনে চাঁদের কক্ষপথে ল্যান্ডারের সঙ্গে ডকিং মহড়া। আর ২০২৮ সালে আর্টেমিস ফোর -এ চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে মানুষের পা পড়বে প্রথমবার।
E-Paper











