Wheat Export: ‘নিষিদ্ধ’ থেকে ‘মুক্ত!’ গম রফতানি নীতিতে বড় পরিবর্তন কেন্দ্রের

Wheat Export: সোমবার গম রফতানি নীতিটি ‘নিষিদ্ধ’ তালিকা থেকে সরিয়ে ‘মুক্ত’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড’-এর (DGFT) জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

Published on: Aug 25, 2026, 23:52:34 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Wheat Export: ডুরম গম-সহ সব ধরনের গমের উপর থেকে রফতানি নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নিয়েছে ভারত সরকার। এর ফলে ভারতীয় উৎপাদক এবং রফতানিকারকদের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের বাজারে গম এবং গমজাত পণ্যের দাম ও সরবরাহের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

গম রফতানি নীতিতে বড় পরিবর্তন কেন্দ্রের Credit: Sanjeev Kumar/HT Archive
গম রফতানি নীতিতে বড় পরিবর্তন কেন্দ্রের Credit: Sanjeev Kumar/HT Archive

সোমবার গম রফতানি (Wheat Export) নীতিটি ‘নিষিদ্ধ’ তালিকা থেকে সরিয়ে ‘মুক্ত’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড’-এর (DGFT) জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সরকার গম থেকে তৈরি আটা এবং ময়দা ও সুজির মতো অন্যান্য পণ্য রফতানিরও অনুমতি দিয়েছে। ফলে এই পণ্যগুলি রফতানির ক্ষেত্রে আগের নিষেধাজ্ঞা আর কার্যকর থাকবে না। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে সরকার সীমিত পরিমাণে গম রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। এবার দেশীয় বাজারে সরবরাহ এবং মজুতের পরিস্থিতি বদলানোর পর সেই নীতিতে পরিবর্তন আনা হল।

২০২২ সালের মে মাসে ভারত গমের রফতানি নীতি ‘মুক্ত’ থেকে ‘নিষিদ্ধ’ করেছিল। এরপর একই বছরের আগস্টে এই বিধিনিষেধ গমের আটা রফতানির ক্ষেত্রেও বাড়ানো হয়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে গমের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পর ভারতীয় গমের চাহিদা দ্রুত বেড়ে গিয়েছিল। এর প্রভাব পড়েছিল দেশের বাজারেও এবং গমের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। দেশের প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০২২ সালের মে মাসে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কেন্দ্র। এর আগে গমের আটার রফতানির ক্ষেত্রে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা বা বড় ধরনের বিধিনিষেধ ছিল না। পরে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের বাজারে আটা ও গমজাত পণ্যের বাড়তে থাকা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পরেও কিছু ক্ষেত্রে গমজাত পণ্য রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নির্দিষ্ট কিছু পণ্য এবং পরিস্থিতিতে রফতানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল না।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও দেশে গমের মজুত পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় কেন্দ্র ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন বা ২৫ এলএমটি গম রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। এর পাশাপাশি আরও ৫ এলএমটি গমজাত পণ্য রফতানির অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন কেন্দ্র জানিয়েছিল, দেশে পর্যাপ্ত মজুত, গমের দামে কিছুটা নরম ভাব এবং উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গম ওঠার মরশুমে কৃষকদের যাতে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য না হতে হয়, সেটিও সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ ছিল। সরকারের বক্তব্য ছিল, ২৫ এলএমটি গম এবং ৫ এলএমটি গমজাত পণ্য রফতানির অনুমতি দেশীয় দাম স্থিতিশীল রাখতে, বাজারে নগদের প্রবাহ বাড়াতে, মজুতের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের আয় আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এর পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও বজায় থাকবে বলে জানিয়েছিল কেন্দ্র। এবার আটা, ময়দা, সুজি এবং হোলমিল আটাকে ‘মুক্ত’ রফতানি শ্রেণিতে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সেই নীতির আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।