Himalayan Glacial Threat: হিমালয়ে বাড়ছে হিমবাহ হ্রদের বিপদ, ঝুঁকিতে আট দেশ, বিপদের মেঘ বাংলার ওপরও

বদলাচ্ছে হিমালয়ের পরিবেশ। গলছে হিমবাহ। গলে যাচ্ছে পারমাফ্রস্ট অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মাটির স্তর। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ২৩০টি হিমবাহ হ্রদকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি হ্রদে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

Published on: Sep 21, 2026, 09:20:23 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Himalayan Glacial Threat: উষ্ণতা বাড়ছে। তার সঙ্গে দ্রুত বদলাচ্ছে হিমালয়ের পরিবেশ। গলছে হিমবাহ। গলে যাচ্ছে পারমাফ্রস্ট অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মাটির স্তর। এর ফলে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ছে। তৈরি হচ্ছে নতুন বিপদ। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ২৩০টি হিমবাহ হ্রদকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৫টি হ্রদে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন গবেষকরা।

দ্রুত বদলাচ্ছে হিমালয়ের পরিবেশ।
দ্রুত বদলাচ্ছে হিমালয়ের পরিবেশ।

‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’-এর গবেষণায় এই তথ্য সামনে এসেছে। তাঁদের মতে, এই হ্রদগুলির কোনওটি ভেঙে গেলে আচমকা বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসতে পারে। তৈরি হতে পারে ভয়ঙ্কর হড়পা বান। সমস্যা আরও বড়। সম্ভাব্য বানের পথে রয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। এর মধ্যে রয়েছে সেতু, বাড়িঘর এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ফলে কোনও হ্রদ ভেঙে গেলে শুধু নদীর আশপাশের এলাকা নয়, বহু দূরের জনবসতিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই আশঙ্কা শুধু নেপালকে ঘিরে নয়। হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চল ছড়িয়ে রয়েছে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চিন, ভারত, মায়ানমার এবং পাকিস্তানজুড়ে। এই দেশগুলির পাহাড়, নদী ও হিমবাহ পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। তাই পাহাড়ে কোনও বড় ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশেও পৌঁছতে পারে।

আগস্টে নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের ঘটনা নতুন করে এই আশঙ্কা সামনে এনেছে। গবেষকদের মতে, সেই দুর্যোগ দেখিয়েছে পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি কত দ্রুত বদলে যেতে পারে। প্রথমে ভূমিধস। তার পরেই আচমকা নেমে আসতে পারে জল, পাথর এবং বরফের বিশাল স্রোত।

‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও একই ধরনের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাপমাত্রা বাড়ার ফলে হিমবাহ দ্রুত গলছে। অন্যদিকে পারমাফ্রস্ট গলে যাওয়ায় পাহাড়ের মাটি ও পাথরের বাঁধন দুর্বল হচ্ছে। ফলে পাহাড়ের ঢাল আরও অস্থির হয়ে উঠছে।

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। বরফ গলার কারণে অনেক হিমবাহ হ্রদের আয়তন বাড়ছে। একসময় এই হ্রদগুলি অতিরিক্ত জলে পূর্ণ হয়ে যেতে পারে। তখন বাঁধের মতো থাকা বরফ বা পাথরের অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তৈরি হতে পারে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে হড়পা বান।

এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে ভূমিধস এবং পাথর-বরফ ধসের ঝুঁকি। একটি ঘটনা অন্য একটি বিপদকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে একই সময়ে বন্যা, ভূমিধস এবং ধসের মতো একাধিক দুর্যোগ দেখা দিতে পারে।

চলতি বর্ষার আগেই হিন্দুকুশ হিমালয় নিয়ে সতর্ক করেছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’। সংস্থাটি বলেছিল, এই অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং হিমবাহ হ্রদ ভেঙে হড়পা বানের ঝুঁকি বাড়ছে।

গবেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে শুধু একটি দেশের পক্ষে প্রস্তুতি নেওয়া যথেষ্ট নয়। পাহাড়ি অঞ্চলের বিপদ অনেক সময় সীমান্ত মানে না। একটি দেশে হ্রদ ভেঙে বা পাহাড় ধসে যে জল নেমে আসবে, তা অন্য দেশের নিচু এলাকায় গিয়ে বড় ক্ষতি করতে পারে।

তাই হিমালয় সংলগ্ন দেশগুলির মধ্যে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান প্রয়োজন। বাড়াতে হবে হিমবাহ ও হ্রদের নজরদারি। দ্রুত সতর্কবার্তা দেওয়ার ব্যবস্থাও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশগুলির মধ্যে যৌথ প্রস্তুতি জরুরি।

গবেষকদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট। হিমালয়ের পরিবর্তন শুধু পাহাড়ের সমস্যা নয়। এর প্রভাব পড়তে পারে কোটি কোটি মানুষের জীবন ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর উপর। তাই বিপর্যয় ঘটার আগেই প্রস্তুতি নেওয়াই এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More