Money Laundering Case: আর্থিক কেলেঙ্কারি! প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কন্যাকে তলব ইডি-র, হুলুস্থূল কেরল
Money Laundering Case: সম্প্রতি তল্লাশি অভিযানের সময় ইডি ২৪২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ফ্রিজ করার পর এই তদন্ত আরও গতি পেয়েছে। ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে একটি বীণা বিজয়নের অ্যাকাউন্ট বলেও জানা গেছে, যাতে আনুমানিক ১.৫ লক্ষ টাকা রয়েছে।
Money Laundering Case: সিএমআরএল-এক্সালজিক আর্থিক লেনদেন মামলায় এবার কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য পিনরাই বিজয়নের কন্যা বীণা বিজয়নকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইডি সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার বীণা বিজয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোচিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দফতরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বীণা ছাড়াও ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (সিএমআরএল)-এর আধিকারিক-সহ মোট ৯ জনকে এই মামলায় সমন পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ, খনিজ উত্তোলনকারী সংস্থা ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (সিএমআরএল) দ্বারা চুক্তিবদ্ধ বীণার মালিকানাধীন আইটি সংস্থা ‘এক্সালজিক’-এর মধ্যে বেশ কিছু ভুয়ো ও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়েছিল। এই বেআইনি লেনদেনের রহস্য উদঘাটনেই তদন্তে নেমেছে ইডি। দিনকয়েক আগেই বীণা বিজয়ন, এক্সালজিক এবং এই মামলার সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক স্থানে ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সাম্প্রতিক অভিযানে যেসব নথিপত্র এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তা সমন পাঠানো ব্যক্তিদের সামনে রেখেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তদন্তকারীরা।
আদালতে সিএমআরএল বড়সড় আইনি ধাক্কা খাওয়ার পরেই মূলত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। কর্পোরেট অপরাধ সংক্রান্ত একটি বিশেষ আদালত সম্প্রতি ইডি-র সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র শেয়ার করার বিরুদ্ধে সংস্থার দায়ের করা আবেদনটি খারিজ করে দেয়। একই সঙ্গে তদন্তকারীদের সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও)-এর রিপোর্টের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখার অনুমতি দিয়েছে আদালত। ইডি যেসব নথিপত্র চেয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে বীণা ও সিএমআরএল-এর মধ্যে চুক্তিপত্র, আয়কর রিটার্নের নথি এবং এই সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আর্থিক নথিপত্র। এসএফআইও আদালতকে জানিয়েছে যে, ইডি-র চাওয়া রেকর্ডগুলো তাদের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি কোনও বাধা নেই। সূত্র মারফত জানা গেছে, তদন্তের অংশ হিসেবে ইডি ইতিমধ্যেই প্রচুর নথি, ডিজিটাল এবং আর্থিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছে। কর্মকর্তারা এখন এই লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তহবিলের উৎস ও প্রবাহ যাচাই করার দিকে মনোনিবেশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি তল্লাশি অভিযানের সময় ইডি ২৪২টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ফ্রিজ করার পর এই তদন্ত আরও গতি পেয়েছে। ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে একটি বীণা বিজয়নের অ্যাকাউন্ট বলেও জানা গেছে, যাতে আনুমানিক ১.৫ লক্ষ টাকা রয়েছে। এদিকে, এই তদন্তকে কেন্দ্র করে কেরলের রাজনীতিতে তীব্র ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে ইডি-র এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সিপিএম এবং বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট-এর কর্মীরা। তিরুঅনন্তপুরমে ইডির তল্লাশি চালানো স্থানগুলোর বাইরে এই বিক্ষোভ এক সময় হিংসাত্মক রূপ নেয়, যার জেরে পুলিশ প্রায় ৩০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এবং ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। ইডি কর্মকর্তাদের দায়ের করা এফআইআর-এ অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিক্ষোভের সময় এজেন্সির কর্মী, পুলিশ কর্মকর্তা এবং সিআরপিএফ জওয়ানদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। কেরল সরকার অবশ্য পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে, অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো শাসক জোটের বিরুদ্ধে তদন্তে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছে।
বীণাকে সমন পাঠানো এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পরীক্ষার সবুজ সংকেত মেলার পর, এখন সবার নজর আগামী শুক্রবারের দিকে। সিএমআরএল-এক্সালজিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে ইডি-র এই তদন্তে শুক্রবারের জেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
E-Paper

