Jabalpur tragedy: হলুদ সতর্কতা, লাইফ জ্যাকেট সিল! আনন্দের মিনিট কয়েক পরই বিষাদের ছায়া, জবলপুর ক্রুজের...

Jabalpur tragedy: জানা গিয়েছে, ওই ক্রুজটিতে ৪০ জন পর্যটকের টিকিট কাটা ছিল। বিকেলের মনোরম পরিবেশে পর্যটকরা যখন জলাধারের দৃশ্য উপভোগ করছিলেন, তখনই হঠাতই প্রবল ঝড় শুরু হয়। উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় টাল সামলাতে না পেরে ক্রুজটি মাঝ নদীতেই উল্টে যায়।

Published on: May 2, 2026, 12:58:55 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Jabalpur tragedy: হালকা গরম, মাঝে মধ্যে কালো মেঘে ঠান্ডা হাওয়া, সব মিলিয়ে পর্যটকদের জন্য মনোরম আবহাওয়া ছিল। আর মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র বার্গি বাঁধে নৌকাবিহার পর্যটকদের অত্যন্ত পছন্দের। নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে আশেপাশের মনোরম দৃশ্যও উপভোগ করে থাকে পর্যটকরা। কিন্তু এবার সেই ভ্রমণেই মর্মান্তিক পরিণতি। ঝড়ো হাওয়ার দাপটে মাঝ-নর্মদায় মুহূর্তেই ছন্দপতন। চোখের পলকে উল্টে গেল পর্যটক বোঝাই ক্রুজ। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বর্গি ড্যামে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্তের একটি ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। সেই ভিডিওতেই (যদিও এই ভিডিওটিরও সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা) স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে এক ভয়াবহ গাফিলতির ছবি - বিপদ যখন ঘনিয়ে আসছে, তখনও পর্যটকদের কারও গায়ে ছিল না লাইফ জ্যাকেট।

জবলপুরের ক্রুজের শেষ মুহূর্ত ভাইরাল (ANI Video Grab)
জবলপুরের ক্রুজের শেষ মুহূর্ত ভাইরাল (ANI Video Grab)

বৃহস্পতিবার বিকেল ৬টা থেকে সোয়া ৬টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। জানা গিয়েছে, ওই ক্রুজটিতে ৪০ জন পর্যটকের টিকিট কাটা ছিল। এছাড়া চালক ও কর্মী মিলিয়ে আরও দু'জন ছিলেন। বিকেলের মনোরম পরিবেশে পর্যটকরা যখন জলাধারের দৃশ্য উপভোগ করছিলেন, তখনই হঠাতই প্রবল ঝড় শুরু হয়। উত্তাল ঢেউয়ের ধাক্কায় টাল সামলাতে না পেরে ক্রুজটি মাঝ নদীতেই উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৯ জনের মৃত্যুর খবর মিলল। এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও খোঁজ নেই ছ’জন পর্যটকের। ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, যাত্রীরা ক্রুজের ভেতরে বসে আছেন এবং হঠাৎ করেই তারমধ্যে জল ঢুকতে শুরু করে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যাত্রীদের আনন্দ আর্তনাদে পরিণত হয়। ঝড়ের জেরে নদীর জল ভেতরে ঢুকে পড়ায় ক্রুজটি প্রচণ্ডভাবে হেলে পড়ে। যখন ক্রুজটি ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল এবং টলমল করছিল, তখন ক্রুজ কর্মীদের তাড়াহুড়ো করে বান্ডিল করা প্লাস্টিকের মোড়কে সিল করা লাইফ জ্যাকেটগুলো খুলতে দেখা যায়। যাত্রীরা, যাদের অনেকের কাছেই লাইফ জ্যাকেট ছিল না, তারা সিল করা প্লাস্টিকের মোড়ক থেকে সেগুলো বের করার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করতে থাকে।

এই ঘটনায় যাঁরা বেঁচে গিয়েছেন, তাঁরা গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রদেশ পর্যটন দফতরের নৌকাটিতে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়নি যাত্রীদের। ক্রুজে যখন জল ঢুকছিল, সেই সময় যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়। ইনল্যান্ড ভেসেলস অ্যাক্ট, ২০২১ অনুযায়ী, প্রত্যেক যাত্রীকে সঠিক লাইফ জ্যাকেট দিতে হবে জলযাত্রা শুরুর আগে। কিন্তু জবলপুরের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, সেই নিয়ম মানা হয়নি। ক্রুজে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। অভিযোগ, ২৯ জন যাত্রীকে টিকিট দেওয়া হয়েছিল। ফলে এখানে প্রশ্ন উঠছে, ক্রুজে যা যাত্রী নেওয়ার কথা ছিল, তার তুলনায় বেশি যাত্রী তোলা হয়েছিল। এরপরই প্রশ্ন উঠছে, কেন ৪০ জনের নামে টিকিট নথিভুক্ত করা হয়নি। কেন শুধু ২৯ জনের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল? এছাড়াও, ওই দিন আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস ছিল ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড় আসতে পারে। সেই সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কেন ক্রুজ চালানোর অনুমতি দেওয়া হল? অন্যদিকে, এই ভয়াবহ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। পর্যটন মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র ভাব সিং লোধি জানিয়েছেন, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে কেন এমন চরম গাফিলতি হল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত রাজ্যে এই ধরণের সমস্ত ক্রুজ পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে।