Indigenous rifle UGRAM: পাঁচ ফুটবল মাঠ ছাপিয়ে ছুটবে গুলি! CAPFs-এ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ১০০ দিনে তৈরি দেশি রাইফেল ‘উগ্রম’

Indigenous rifle UGRAM: রাইফেলটির পাল্লা ৫০০ মিটার বা প্রায় পাঁচটি ফুটবল মাঠের সমান। অর্থাৎ, ৫০০ মিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা যাবে।

Published on: Jul 6, 2026, 22:36:55 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Indigenous rifle UGRAM: ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল তেলাঙ্গানার স্টার্টআপ সংস্থা 'দ্বীপা ডিফেন্স।' তাদের তৈরি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির ৭.৬২X৫১ মিলিমিটার ক্যালিবারের যুদ্ধকালীন রাইফেল 'উগ্রম' সফলভাবে ভারতীয় সেনা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সমস্ত কঠিন ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) এই রাইফেল সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে।

১০০ দিনে তৈরি হল দেশি রাইফেল ‘উগ্রম’ (সৌজন্যে টুইটার)
১০০ দিনে তৈরি হল দেশি রাইফেল ‘উগ্রম’ (সৌজন্যে টুইটার)

‘ডিফেন্স রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ বা ‘ডিআরডিও’-র শাখা সংস্থা, ‘আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাব্লিশমেন্ট’ বা ‘এআরডিই’-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই 'উগ্রম' রাইফেলটি তৈরি করেছে দ্বীপা ডিফেন্স। মাত্র ১০০ দিনের রেকর্ড সময়ে রাইফেলটির নকশা তৈরি থেকে শুরু করে এর নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে, যা দেশের দ্রুততম দেশীয় অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির একটি অনন্য নজির। সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ কোয়ালিটেটিভ রিকোয়ারমেন্ট (জিএসকিউআর) ট্রায়াল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বোর্ড ট্রায়ালের পাশাপাশি সমস্ত ধরনের চরম আবহাওয়ায় রাইফেলটির ফিল্ড ইভ্যালুয়েশন বা মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন করা হয়েছে। উগ্রম রাইফেলটি তার নির্ভরযোগ্যতা এবং সহনশীলতার প্রতিটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। বর্তমানে সিআরপিএফ, আইটিবিপি, এসএসবি এবং এনএসজি-র মতো দেশের প্রথম সারির এলিট বাহিনীগুলো এটি নিজেদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করতে চলেছে।

সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর শিবু জোসেফ জানান, ২০২১ সালে তাঁরা অস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পান। এরপর তেলাঙ্গানা সরকারের দেওয়া হায়দরাবাদের ১৩ একরেরও বেশি জমিতে একটি পুর্ণাঙ্গ উৎপাদন কারখানা গড়ে তোলেন তারা। তাঁর কথায়, '২০২১ সালে লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত আমরা ১০০টিরও বেশি দেশীয় অস্ত্র ব্যবস্থা এবং তার বিভিন্ন সংস্করণ তৈরি করেছি। এর মধ্যে 'উগ্রম' আমাদের ফ্ল্যাগশিপ বা প্রধান অস্ত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য ভারতেই বিশ্বমানের প্রতিরক্ষা সামগ্রী তৈরি করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।' কঠোর শীত, প্রখড় তাপ এবং জলের নীচে বন্দুকটি কেমন চলে, তার ক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। সেই সব পরীক্ষায় পাশ করায়, আগামী দিনে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীগুলির সদস্যদের হাতে হাতে দেখা যাবে দেশিয় বন্দুক, উগ্রম। আত্মনির্ভরতার পথে যখন পা বাড়িয়েছে ভারত, দেশীয় প্রযুক্তিতে এই ঘাতক রাইফেল সেই পথে সাফল্যের আরও একটি নতুন দিক খুলে দিল বলে মনে করছেন অনেকেই।

কী কী বৈশিষ্ট্য রয়েছে 'উগ্রম' রাইফেলে?

১. ওজন: ৪ কেজিরও কম, যা জওয়ানদের সহজে বহন করতে সাহায্য করবে।

২. রেঞ্জ: রাইফেলটির পাল্লা ৫০০ মিটার বা প্রায় পাঁচটি ফুটবল মাঠের সমান। অর্থাৎ, ৫০০ মিটার দূর পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা যাবে। রাইফেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবেও চালানো যাবে। আবার একেরবারে একটি করেই গুলি বের হবে, এমনভাবেও ব্যবহার করা যাবে।

৩. প্রযুক্তি: এতে ব্যবহার করা হয়েছে আধুনিক গ্যাস-অপারেটেড রোটেটিং বোল্ট সিস্টেম।

উগ্রম-এর সাফল্যের পর দ্বীপা ডিফেন্স এখন দেশীয় প্রযুক্তির একগুচ্ছ নতুন অস্ত্রের সম্ভার গড়ে তুলছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউ-১৯ সাব-মেশিন গান, আল্ট্রা-লাইট মেশিন গান, ইউ-৪৫ অ্যাসাল্ট রাইফেল, ইউ-৩৯ প্ল্যাটফর্ম এবং উগ্রম আর্কিটেকচারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি অস্ত্রসজ্জিত অ্যান্টি-ড্রোণ সিস্টেম। ২০১৮ সালে পথ চলা শুরু করা দ্বীপা ডিফেন্সের এই সাফল্য ভারতকে বিদেশি ক্ষুদ্র অস্ত্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে যেমন সাহায্য করবে, তেমনই হায়দরাবাদকে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনের একটি অন্যতম প্রধান হাব বা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।