Asian Games 2026: খাদ্য সংকট, ঘন্টার পর ঘন্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা! এশিয়ান গেমসে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার শিকার ভারতীয় দল
Asian Games 2026: এবার এশিয়ান গেমসে কোনও স্থায়ী ‘অ্যাথলিটস ভিলেজ’ তৈরি করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রায় পাঁচ হাজার অ্যাথলিটকে রাখা হচ্ছে ‘কোস্টা সেরেনা’ নামের একটি ইতালীয় বিলাসবহুল ক্রুজে এবং বাকিদের শহরের বিভিন্ন হোটেল ও অস্থায়ী কাঠের কন্টেনারে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
Asian Games 2026: আর মাত্র কয়েকটা দিনের অপেক্ষা, তার পরেই জাপানের আইচি-নাগোয়ায় পর্দা উঠতে চলেছে ২০তম এশিয়ান গেমসের (Asian Games 2026)। তবে ময়দানের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই আয়োজক শহরে গিয়ে চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও পরিকাঠামোগত বিশৃঙ্খলার মুখে পড়ল ভারতীয় দল। যার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই স্পোর্টিং ইভেন্ট। অলিম্পিক বা এশিয়ান গেমসের চেনা রীতি ভেঙে এবার কোনও স্থায়ী ‘অ্যাথলিটস ভিলেজ’ তৈরি করা হয়নি। সূত্রের খবর, জাপানে পৌঁছেই ভারতীয় অ্যাথলিটদের জন্য বরাদ্দ রুম পেতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে সবথেকে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছেন ভারতের শ্যুটিং দলের সদস্যরা। ফলে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত শুটাররা সারা রাত গেমস সেন্টারের লবির সোফায় ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন এবং শেষমেশ ভোরের দিকে তাঁদের ঘরে ঢোকার অনুমতি মেলে। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকেই ভারতের পদক জয়ের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র শুটিং ইভেন্ট শুরু হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনিক ব্যর্থতার জেরে অ্যাথলিটদের শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে বড় ধাক্কা এসেছে।
জানা গেছে, ভারতের শ্যুটিং দলের শুটিং রেঞ্জে পৌঁছতে বাসেই সময় লেগে যাচ্ছে দুই ঘণ্টারও বেশি। তার ওপর অনুশীলন ভেন্যুতে সাধারণ পানীয় জল ছাড়া খাবার বা বিশ্রামের কোনও পরিকাঠামোই রাখা হয়নি। এমনকী দল কোথায় অনুশীলন করবে, প্রতিযোগিতার ঠিক মুখে দাঁড়িয়েও তা স্পষ্ট জানাতে পারছে না আয়োজক কমিটি। সূত্রের খবর, ভারতের একাধিক অ্যাথলিট ও অফিশিয়ালের পূর্বনির্ধারিত রুম বুকিং হঠাৎ বাতিল হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘর না পেয়ে তাঁদেরকে বিমানবন্দরেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে এক সূত্র জানিয়েছে, এই মারাত্মক সংকট সামাল দিতে ভারতীয় ডেপুটি শেফ দ্য মিশন শরথ কমলের হস্তক্ষেপে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত ১৫টি হোটেল রুমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্রীড়াবিদদের চেয়েও শোচনীয় পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন কোচ ও টেকনিক্যাল সাপোর্ট স্টাফরা। বুধবার দুপুর দেড়টায় পৌঁছে রাত দশটা পর্যন্ত ঘর না পেয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে তাঁদের।
জাপানের মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত দেশে এমন নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ৪৫টি দেশের প্রায় ১১ হাজারেরও বেশি ক্রীড়াবিদের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। ১৯৫১ সালে ভারতের নয়াদিল্লিতে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়া এশিয়ান গেমসের ইতিহাস বহু সাফল্যের সাক্ষী। ২০২৩ সালের হাংঝৌ গেমসের সফল আয়োজন করেছিল জাপান। এবার এশিয়ান গেমসে কোনও স্থায়ী ‘অ্যাথলিটস ভিলেজ’ তৈরি করা হয়নি। পরবর্তীতে প্রায় পাঁচ হাজার অ্যাথলিটকে রাখা হচ্ছে ‘কোস্টা সেরেনা’ নামের একটি ইতালীয় বিলাসবহুল ক্রুজে এবং বাকিদের শহরের বিভিন্ন হোটেল ও অস্থায়ী কাঠের কন্টেনারে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৫ হাজার ক্রীড়াবিদ ও অফিশিয়ালের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে জাপানে এশিয়ান গেমস শুরু পরিকল্পনা করা হলেও, অগস্টের শেষের দিকে সেই সংখ্যা একলাফে ১৭ হাজারে পৌঁছয়। ফলে জাপানে পা রেখেই আবাসন সংকটের মুখে পড়েছেন বিভিন্ন দেশের অ্যাথলিটরা। এই পরিস্থিতিতে অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (OCA) স্পষ্ট জানিয়েছে, জুলাইয়ের ডেডলাইনের মধ্যে যাঁদের নাম নথিভুক্ত হয়েছে, কেবল তাঁদেরই থাকার ব্যবস্থা করা হবে; আর যারা দেরিতে নাম পাঠিয়েছেন, তাঁদের থাকার ব্যবস্থা নিজেদেরই করে নিতে হবে।
E-Paper

