NEET-UG 2026 Cancelled: নাসিক থেকে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন রাজ্যে! নিট বাতিল হতেই হদিশ মূল চক্রের, আটক ১৫
NEET-UG 2026 Cancelled: সিবিআইয়ের পাশাপাশি রাজস্থান পুলিশের এটিএস এবং এসওজি-ও তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছে সীকর থেকে।
NEET-UG 2026 Cancelled: আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ। তার জেরে আচমকাই চলতি বছরের ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত ৩ মে নিট-ইউজি হয়েছিল সারা দেশে। ন’দিন পর, মঙ্গলবার সকালে সেই পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। তবে কী ভাবে এবং কোথা থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, তার একটা হদিস মিলেছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডের তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে সিবিআইয়ের হাতে।

কীভাবে ফাঁস হয়েছিল প্রশ্নপত্র?
তদন্তকারী একটি সূত্রের দাবি, প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, এই চক্রের সদস্যেরা মহারাষ্ট্রের নাসিকে সাক্ষাৎ করেন। সেখান থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের একটি কপি পাঠানো হয় হরিয়ানায়। সেখানে পাঁচটি আলাদা আলাদা প্রশ্নের সেট তৈরি করা হয়। এক একটি সেটে ১০টি করে প্রশ্নপত্র ছিল। এরপর সেই সেট পৌঁছোয় রাজস্থানের জয়পুর, সেখান থেকে জমবারামগড় এবং তারপর ওই রাজ্যেরই সীকরে। তারপর সেই প্রশ্নপত্রের সেট আলাদা আলাদা ভাবে পৌঁছে গিয়েছিল অন্ধ্রপ্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর, তেলাঙ্গানা, উত্তরাখণ্ড, দিল্লি এবং বিহারেও। সূত্রের খবর, এই চক্রের মাধ্যমে প্রতিটি রাজ্যে দশটি করে সেট পাঠানো হয়েছিল।
কী বলছে এনটিএ?
এনটিএ-এর তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আস্থা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, পরীক্ষার আগেই এক বিশেষ ‘গেস পেপার’ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল, যার সঙ্গে আসল প্রশ্নপত্রের হুবহু মিল পাওয়া গিয়েছে। সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'তদন্তের প্রাথমিক তথ্য এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিট-ইউজি ২০২৬ বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।' রাজস্থান পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৪১০টি হাতে লেখা প্রশ্ন সম্বলিত নথিটি পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে ছিল। স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ-এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) বিশাল বনসল এএনআইকে জানান, 'একটি গেস পেপারে ৪১০টি প্রশ্ন ছিল, যার মধ্যে প্রায় ১২০টি পরীক্ষায় এসেছিল বলে অভিযোগ।'
নিটের রসায়ন বিভাগে ৪৫টি প্রশ্ন থাকলেও, পরীক্ষায় চারটি ভিন্ন সেট ব্যবহার করা হয়েছিল। রাজস্থান স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ পরে জানায়, জীববিজ্ঞান ও রসায়ন বিভাগ মিলিয়ে ১০০টিরও বেশি প্রশ্ন আসল প্রশ্নপত্রের সাথে 'উল্লেখযোগ্য মিল' দেখিয়েছিল। তদন্তের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা এএনআইকে জানান যে, এই মিলগুলি পরীক্ষার ৭২০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৬০০ নম্বরের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতা তৈরি করতে পারতো। বিশাল বনসলের মতে, 'এই গেস পেপারটি' পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় ১৫ দিন থেকে এক মাস আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং এখন এটি প্রকাশ্যে এসেছে।
কী পদক্ষেপ করা হয়েছে?
সিবিআইয়ের পাশাপাশি রাজস্থান পুলিশের এটিএস এবং এসওজি-ও তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়েছে সীকর থেকে। কোটার পর গত কয়েক বছরেই সীকর হয়ে উঠেছে অন্যতম ‘কোচিং হাব’। মেডিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোচিংয়ের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটার মতো সীকরেও পড়তে আসেন বহু ছাত্রছাত্রী। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজস্থান থেকে ১৫ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। জয়পুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে মনীশ নামে এক ব্যক্তিকে। সন্দেহ তিনিই ‘মূল অভিযুক্ত’। সীকরের একটি কনসালটেন্সির মালিক রাকেশ মান্ডাওয়ারিয়াকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া আটকদের মধ্যে কোচিং সেন্টারের মালিক, ক্যারিয়ার পরামর্শদাতা এবং বর্তমানে কেরলে পড়াশোনা করা একজন মেডিকেল ছাত্র রয়েছেন। এখন প্রশ্ন উঠছে তা হলে কি ছাপাখানা থেকেই এই প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল? সে দিকটাও খতিয়ে দেখছে সিবিআই।
E-Paper

