Election Commission:ইসি-র নিশানায় থাকা আধিকারিকের হাতেই কমিশনের তথ্যপ্রযুক্তি উইংয়ের রাশ,চিঠি লিখেছিলেন ক্যাবিনেট সচিবকে
Election Commission: জুলাইয়ের চিঠিটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ছিল না। বরং ইসিআইয়ের সঙ্গে ডেপুটেশনে থাকা এক সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার কাজের ধরন নিয়ে ওই যোগাযোগ করা হয়েছিল।
Election Commission: নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অন্দরের মতপার্থক্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট সচিব টি ভি সোমনাথনকে পাঠানো চিঠি নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এল। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশি যে চিঠি পাঠিয়েছিলেন, সেটি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বা সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে ছিল না। বরং ইসিআই-তে ডেপুটেশনে থাকা এক সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার বা ডিইসি মনীশ গর্গের কাজকর্ম নিয়ে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে জানতে পেরেছে হিন্দুস্তান টাইমস।
নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের ক্যাবিনেট সচিবকে চিঠি পাঠানোর খবর সামনে আসার পর থেকেই কমিশনের অভ্যন্তরে সিইসি জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে মতপার্থক্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। তবে নতুন তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের চিঠিটি কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে ছিল না। বরং ইসিআইয়ের সঙ্গে ডেপুটেশনে থাকা এক সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার কাজের ধরন নিয়ে ওই যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁরা উল্লেখ করেছিলেন যে, যাঁর হাত দিয়ে আগে সীমা খান্নার ফাইলগুলো যেত—সেই উপ-নির্বাচন কমিশনার সঞ্জয় কুমার একজন অভিজ্ঞ আধিকারিক এবং সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে অত্যন্ত ওয়াকিবহাল। ফলে নজরদারির এই স্তরটি সরিয়ে দিয়ে মনীশ গর্গ কার্যত পুরো প্রক্রিয়াটির ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ণ করেছেন।
বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ; কারণ এটি নির্বাচন কমিশনের গত সপ্তাহে দেওয়া সেই ব্যাখ্যার আসল প্রেক্ষাপট সামনে আনে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে সোমনাথনকে লেখা নির্বাচন কমিশনারদের চিঠিগুলো কমিশনের কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত বা এর আইটি বিভাগ সম্পর্কিত নয়, বরং এটি কেবল জাতীয় নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশনে থাকা এক আধিকারিকের কাজের ধরন সংক্রান্ত। কমিশনের পক্ষ থেকে আরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল যে, গর্গের জারি করা কাজের পুনর্বণ্টনের নির্দেশ দুই কমিশনারের নির্দেশের পর বাস্তবে কার্যকর করা হয়নি এবং ডিইসি কর্তৃক আইটি বিভাগের ওপর নজরদারি প্রকৃতপক্ষে কখনও প্রত্যাহার করা হয়নি।'
তবে সংশ্লিষ্ট ডিইসি এবং ইউটি (UT) ক্যাডারের আইএএস আধিকারিক সঞ্জয় কুমার গত আগস্ট মাসে তাঁর নিজের মূল ক্যাডারে ফিরে যান এবং তাঁর সেই দায়িত্বগুলো এখন গর্গ নিজেই সামলাচ্ছেন—যার অর্থ হলো সীমা খান্নার ফাইলগুলো এখন তাঁর মাধ্যমেই নির্বাচন কমিশনারদের কাছে যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, কুমার নিজেই তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন কারণ তিনি দিল্লি সরকারে ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। এইচটি-র প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি কুমার। এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদনের পর সীমা খান্না এবং এই আইটি বিভাগ বর্তমানে একটি উত্তপ্ত বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, সীমা খান্না কর্তৃক চালু করা এবং নির্বাচন কমিশন অনুমোদিত নতুন আইটি প্রোটোকল বা সিস্টেম ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের—অর্থাৎ ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার্স (ERO) এবং সহকারী ইআরও-দের—ডাটাবেস ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
এইচটি-র প্রশ্নের কোনও জবাব দেননি সুখবীর সিং সান্ধু, বিবেক যোশি এবং মনীশ গর্গ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
E-Paper

