Pakistan Army: ব্রাত্য WhatsApp! পাক সেনাবাহিনীকে চিনের WeChat ব্যবহারের নির্দেশ, নেপথ্যে কোনও ছক?
Pakistan Army: চিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই উইচ্যাট হল বৃহত্তম ‘সুপার অ্যাপ।’ এখানে মেসেজিং ছাড়াও আরও নানা সুবিধা রয়েছে।
Pakistan Army: চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের কৌশলগত ও সামরিক সম্পর্ক ক্রমশ আরও গভীর হচ্ছে। তারই নতুন ইঙ্গিত মিলল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের অফিসার, সেনাকর্মী এবং প্রশাসনিক কর্মীদের সরকারি ও সামরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। তার পরিবর্তে চিনের জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম উইচ্যাট ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি, তবু গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা ও ডিজিটাল সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক বার্তা বিনিময়ে সাইবার ঝুঁকি কমাতে এবং কৌশলগত নিরাপত্তা বাড়াতেই পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সামরিক অফিশিয়াল বার্তা আদান-প্রদানে হোয়াটসঅ্যাপের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিল ইসলামাবাদ। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের ফলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য চুরি কিংবা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারির ঝুঁকি থেকে যায়। সেই তুলনায় চিনা অ্যাপ উইচ্যাট সামরিক অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের ক্ষেত্রে অধিক নিরাপদ ও কার্যকর বলে মনে করছে পাকিস্তান সেনা সদর।
কেন উইচ্যাট?
চিনের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই উইচ্যাট হল বৃহত্তম ‘সুপার অ্যাপ।’ এখানে মেসেজিং ছাড়াও আরও নানা সুবিধা রয়েছে। অর্থাৎ টেক্সট চ্যাট ছাড়াও ভয়েস ও ভিডিও কল, ফাইল শেয়ারিং, ডিজিটাল লেনদেনের মতো নানা সুবিধা এই অ্যাপকে ‘অল-ইন-ওয়ান’ করে তুলেছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কেবল যোগাযোগ মাধ্যম পরিবর্তন নয়, বরং পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সুসম্পর্কের নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হলো বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। বিগত বছরগুলোতে দুই দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, অস্ত্র ক্রয় এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উইচ্যাট বেছে নেওয়ায় দুই দেশের সামরিক সমন্বয় ও যোগাযোগ আরও সহজতর হবে।
ভারতে উইচ্যাট নিষিদ্ধ
এদিকে, এই অ্যাপ ভারতে নিষিদ্ধ। ২০২০ সালের জুনে গালওয়ান সংঘর্ষের পর ৫৯টি চিনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে দেয় নরেন্দ্র মোদী সরকার। এর মধ্যে ছিল উইচ্যাটও। ‘জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল একে। সেই ‘বিতর্কিত’ অ্যাপকেই এবার ভরসা করছে পাকিস্তান। আসলে চিন ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অংশীদারি ক্রমশ গভীর হয়েছে। এক সময় কেবল সামরিক সরঞ্জামের আদানপ্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও, আজ সাইবার নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও হাত ধরাধরি করে চলছে বেজিং ও ইসলামাবাদ।
E-Paper

