Philippines defence chief: সম্মেলনের মাঝে টেবিলে চিনের চিরকুট! আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেজিংকে তোপ ফিলিপিন্সের

Philippines defence chief: সম্মেলন চলাকালীন চিনের এহেন কৌশল আঁচ করতে পেরে সামান্যতম পিছপা হননি ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষা সচিব। মঞ্চে দাঁড়িয়েই তিনি প্রশ্ন তোলেন, বক্তব্য চলাকালীন একজন মন্ত্রীকে কীভাবে বাধা দেওয়া যায়?

Published on: Sep 9, 2026, 22:00:08 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Philippines defence chief: আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে বক্তৃতা দেওয়ার মাঝেই এক অভাবনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষাসচিব গিলবার্তো তেওদোরো। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীতে আয়োজিত 'সিওল ডিফেন্স ডায়ালগ'-এ তিনি যখন দক্ষিণ চিন সাগর ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে নাটকীয় ঘটনা।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেজিংকে তোপ ফিলিপিন্সের
আন্তর্জাতিক মঞ্চে বেজিংকে তোপ ফিলিপিন্সের

সাদা স্পোর্টস কোট পরা এক ব্যক্তি পিছন থেকে এসে হঠাৎ গিলবার্তো তেওদোরোর পাশের টেবিলে একটি কাগজের চিরকুট রেখে যান। সঙ্গে সঙ্গে নিজের বক্তব্য থামিয়ে চিরকুট তুলে নেন ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষা সচিব। এক পলক চোখ বুলিয়েই তিনি বুঝে ফেলেন সেটি আসলে চিনের পাঠানো বার্তা। মুহূর্তেই সম্মেলন কক্ষের পরিবেশ বদলে যায়। তেওদোরো উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, 'আমার কাছে একটি চিরকুট রয়েছে, আমার মনে হয় এটি চিন থেকে এসেছে। আমি কী এটা পড়তে পারি?' এরপরই তিনি সেই চিঠিটি পড়তে শুরু করেন, যা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।

ওই চিঠিতে লেখা ছিল—দক্ষিণ চিন সাগর সংক্রান্ত সালিশি (আর্বিট্রেশন) নিয়ে চিনের অবস্থান 'স্পষ্ট, সামঞ্জস্যপূর্ণ ও দৃঢ়' এবং ২০১৬ সালের সেই সালিশি 'আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিকে লঙ্ঘন করেছে।' মূলত রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক সনদ বা 'আনক্লস' (UNCLOS)-এর আওতায় ফিলিপিন্সের দায়ের করা ঐতিহাসিক মামলার রায়কে নিশানা করেই ওই চিঠি পাঠিয়েছিল বেজিং। ২০১৬ সালের সেই আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের ঐতিহাসিক অধিকারের দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছিল এবং জানিয়েছিল ফিলিপিন্সের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (EEZ) চিনের কোনও আইনগত অধিকার নেই।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হলেও পরে জানা যায়, এর নেপথ্যে ছিল এক বড়সড় ভুল বোঝাবুঝি। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদ সংস্থা 'ইয়নহাপ' জানিয়েছে, সিওলে অবস্থিত চিনা দূতাবাসের এক মিলিটারি অ্যাটাশে ওই চিরকুটটি সম্মেলন কক্ষের এক কর্মীর হাতে দিয়ে তেওদোরোকে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ওই কর্মী ভুলবশত ভেবেছিলেন এটি ফিলিপিন্স প্রতিনিধিদলেরই কোনও অভ্যন্তরীণ বার্তা এবং ভুল বুঝেই বক্তব্য চলাকালীন প্রতিরক্ষা সচিবের টেবিলে তা পৌঁছে দেন।

আন্তর্জাতিক মঞ্চেই চিনকে তোপ

সম্মেলন চলাকালীন চিনের এহেন কৌশল আঁচ করতে পেরে সামান্যতম পিছপা হননি ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষা সচিব। মঞ্চে দাঁড়িয়েই তিনি প্রশ্ন তোলেন, বক্তব্য চলাকালীন একজন মন্ত্রীকে কীভাবে বাধা দেওয়া যায়? তেওদোরো ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, 'আমাকে করা প্রশ্নের বাইরেও, একটি আন্তর্জাতিক ফোরামে আপনারা এমন একটি দেশের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করতে পারেন, যারা এই ফোরামের আয়োজকদের অসম্মান করছে? আপনারা কীভাবে এর সঙ্গে ভদ্রভাবে আচরণ করার আশা করেন?' চিনকে 'জবরদখলকারী, আক্রমণাত্মক এবং আগ্রাসন' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, চিনের এই বার্তা কেবল আন্তর্জাতিক আইন ও আনক্লস সনদকে পদদলিত করছে না, এটি আয়োজক দেশ দক্ষিণ কোরিয়া এবং এখানে উপস্থিত আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের প্রতিও চরম অসম্মানজনক।

এরপরই তিনি চিঠিটিকে একটি 'স্মারক' হিসেবে নিজের কাছে রাখার কথা জানিয়ে কটাক্ষের সুরে বলেন, মুক্ত দুনিয়ার সামনে চিন কতটা মরিয়া ও অকার্যকর, এই চিঠি তার প্রমাণ। চিরকুটটি এনে দেওয়া কর্মীর উদ্দেশে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেন, 'আপনি নিজের দেশের অনেক বড় উপকার করলেন। ধন্যবাদ, আশা করি এর জন্য আপনাকে কোনও গুলাগ বা বন্দিশিবিরে গিয়ে কষ্ট পেতে হবে না।' চিনের পাঠানো বার্তা ভেস্তে দিয়ে সেই সুযোগেই দক্ষিণ চিন সাগরে বেজিংয়ের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরও সুর চড়ান ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষা সচিব। তিনি বলেন, 'আমাদের সার্বভৌম ভূখণ্ড এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চিন যেভাবে প্রতিদিন বেআইনি দখলদারি চালানোর চেষ্টা করছে, তা আজ গোটা বিশ্বের জানা। বাধ্য হয়েই আত্মরক্ষার তাগিদে ফিলিপিন্সকে আন্তর্জাতিক সামরিক জোট মজবুত করতে হচ্ছে।'

পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজেদের মুখ বাঁচাতে আসরে নামে বেজিং। চিনা বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, তারা পরিস্থিতির বিশদ বিবরণ জানে না। তবে তেওদোরোর নাম না করে তারা পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলে, 'দক্ষিণ চিন সাগরে নিজেদের অবস্থান নিয়ে অনড় চিন। আমরা ফিলিপিন্সের কিছু মানুষকে অশান্তি সৃষ্টি বন্ধ করতে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নষ্ট না করার পরামর্শ দিচ্ছি।' তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গোপনে বা আলোচনার টেবিলের বাইরে চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান জাহির করতে গিয়ে উল্টে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মুখ পুড়ল চিনের।