Maharashtra cliff tragedy: iPhoneর জন্য শেষ গোটা পরিবার! মহারাষ্ট্রের হাড়হিম ঘটনার নেপথ্যের কারণ কী?

Maharashtra cliff tragedy: ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এলাকার তিঁসগাঁও অঞ্চলে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ বছরের ছেলে এবং তাঁর বাবার মধ্যে তর্কের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত।

Published on: Aug 22, 2026, 21:29:52 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Maharashtra cliff tragedy: পাহাড়ের চূড়া থেকে খাদে ঝাঁপ দিয়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ল যুবক। আর তাকে বাঁচাতে গিয়ে নিচে পড়ে গেলেন বাবা এবং চোখের সামনে স্বামী-সন্তানের এই পতন দেখে সেই পাহাড় থেকেই ঝাঁপ দেন মা-ও! বর্তমান প্রজন্মের আইফোন ও গ্যাজেট-প্রীতির এমনই করুণ পরিণতি দেখল গোটা দেশ। দামী স্মার্টফোন কিনে না দেওয়ায় বাবা-মার সঙ্গে চরম অশান্তি। আর তার জেরেই ঘটে গেল এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। এই দুর্ঘটনায় তিনজনেরই ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এবার এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত চাঞ্চল্যকর কাহিনি সামনে এসেছে।

মহারাষ্ট্রের হাড়হিম ঘটনার নেপথ্যের কারণ কী? (সৌজন্যে টুইটার)
মহারাষ্ট্রের হাড়হিম ঘটনার নেপথ্যের কারণ কী? (সৌজন্যে টুইটার)

ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটেছে মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এলাকার তিঁসগাঁও অঞ্চলে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮ বছরের ছেলে এবং তাঁর বাবার মধ্যে তর্কের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত। এরপর ওই যুবক আত্মহত্যা করার উদ্দেশ্যে পাহাড়ে চলে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে যুবকের বাবা-মাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ ও দমকলের দল প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে যুবককে বোঝানোর এবং নিরাপদে নীচে নামানোর চেষ্টা করে। পাহাড়ের নীচে নিরাপত্তার জন্য জালও পাতা হয়েছিল। তবে যুবক বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন, যার ফলে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে পড়ে। এরই মধ্যে ছেলেকে বাঁচানোর জন্য তাঁর বাবা তাঁর কাছে পৌঁছে যান। পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, ওই যুবক আচমকাই পিছনের দিকে হেলে পড়ে এবং দু’জনেই পাহাড় থেকে নীচে পড়ে যান। বাবা ও ছেলেকে পড়ে যেতে দেখে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যুবকের মা-ও পাহাড় থেকে ঝাঁপ দেন। এই দুর্ঘটনায় তিনজনেরই—মুরলীধর চন্দগুড়ে, তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা এবং তাঁদের ১৮ বছরের ছেলে কুণালের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা কুণালকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখার মরিয়া চেষ্টা করা সত্ত্বেও কোনও লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পাহাড়ের কিনারা থেকে ঝাঁপ মারেন তিনি। কুণালকে বাঁচাতে কিছু না ভেবে ঝাঁপ মারেন তাঁর মা-বাবাও। পাহাড় থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে পরিবারের তিন জনেরই। সেই ভিডিওই প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আইফোন কেনার জন্য জেদ

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা সম্পর্কে নতুন এবং বিস্ময়কর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, ১৮ বছরের কুণাল বাবার কাছে আইফোন কিনে দেওয়ার জন্য জেদ করছিল। কুণালের বাবা মুরলীধর চন্দগুড়ে এতে রাজি ছিলেন না। তিনি এত দামি ফোন কিনে দিতে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন। এমনকী, ইএমআই-তেও ফোন কেনার পক্ষপাতী ছিলেন না কুণালের বাবা। এই নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে তীব্র তর্ক হয়েছিল। এরপর কুণাল রাগের বশে নিজেকে শেষ করার উদ্দেশ্যে পাহাড়ের উপর উঠে যায়। সেখানেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই মর্মান্তিক ঘটনা নিয়ে আরও একটি চাঞ্চল্যকর কাহিনি সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, কুণাল পাহাড়ে উঠে যাওয়ার পর তাকে বোঝাতে বাবা মুরলীধরের সঙ্গে মা সঙ্গীতাও সেখানে পৌঁছেছিলেন। মা সঙ্গীতা বারবার ছেলেকে বাঁচানোর এবং বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। মা ছেলের সামনেই নিজের মঙ্গলসূত্র খুলে ফেলে দিয়ে বলেছিলেন, 'তোমার ঝগড়া বাবার সঙ্গে… আমিও তাঁর সঙ্গে থাকব না, শুধু তুমি এসব কোরো না। আমরা দু’জন আলাদা থাকব।' কিন্তু ছেলে কুণাল মায়ের কথাও রাখেনি, তাঁর মঙ্গলসূত্রের মর্যাদাও রাখেনি। দেখতে দেখতে একটি হাসিখুশি পরিবার ধ্বংস হয়ে গেল।

পুলিশ তিনটি দেহই উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। কুণাল মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিল কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু মাত্র একটা ফোনকে কেন্দ্র করে একটি সাজানো-গোছানো পরিবারের এই করুণ পরিণতি স্তম্ভিত করে দিয়েছে সকলকে।