বোমাবর্ষণেও ভাঙছে না শাসনব্যবস্থা! ইরানের সরকারকে নিয়ে বিস্ফোরক মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট
গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি নিহত হলেও ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে এখনও ঐক্য বজায় রয়েছে।
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের লাগাতার হামলার পরও ইরানের ক্ষমতাশীল ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পতনের কোনও সম্ভাবনা নেই। এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। এমনকী, একাধিক মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে একই তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এমন তিনটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর একজন বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্টে ‘একই ধরনের বিশ্লেষণ’ উঠে এসেছে, যেখানে বলা হয়েছে- ইরানের সরকার পতনের কোনও ঝুঁকিতে নেই ও দেশটির জনসাধারণের উপর এখনও তাঁদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে আলোচনা করার অনুমতি না থাকায় তিনটি সূত্রই নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব কথা বলেন। তাঁদের মধ্যে একজন জানান, সর্বশেষ গোয়েন্দা রিপোর্টটি গত কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এদিকে, তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২০০৩ সালের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযানটি তিনি ‘শিগগিরই’ শেষ করতে পারেন। তবে ইরানের কট্টরপন্থী নেতৃত্ব যদি দৃঢ়ভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকে, তাহলে যুদ্ধের গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি নিহত হলেও ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের মধ্যে এখনও ঐক্য বজায় রয়েছে। একজন সিনিয়র ইজরায়েলি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ইজরায়েলি কর্মকর্তারাও নিজেদের মধ্যে আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে এই যুদ্ধের ফলে ইরানের ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। তবে সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে, পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গতিশীলতা যে কোনও সময় বদলে যেতে পারে। মার্কিন জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দফতর এবং সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আবার হোয়াইট হাউজও এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাব সঙ্গে সঙ্গে দেয়নি।
যুদ্ধের লক্ষ্য পরিবর্তন
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অবস্থান। ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করেছে। মার্কিন সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা করার সময় ট্রাম্প ইরানের জনগণকে ‘নিজেদের সরকার দখল করে নিতে’ আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে পরে তার শীর্ষ সহযোগীরা দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করা এই অভিযানের লক্ষ্য নয়। এই হামলায় খামেনি ছাড়াও আরও কয়েক ডজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) উচ্চপদস্থ অনেক কমান্ডার নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি একটি শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী, যা ইরানের অর্থনীতির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। তারপরেও মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ও খামেনির মৃত্যুর পর ক্ষমতা গ্রহণ করা অন্তর্বর্তী নেতারা এখনও দেশটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরানের শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতাদের সংগঠন অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে ঘোষণা করেছে। এদিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইজরায়েল চায় না যে আগের সরকারের কোনও অংশই টিকে থাকুক। তবে বর্তমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের সামরিক অভিযান কীভাবে ইরানের সরকারকে উৎখাত করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সূত্রটি বলেছে, এর জন্য সম্ভবত স্থল অভিযান দরকার হবে। এতে ইরানের ভেতরে মানুষ নিরাপদে রাস্তায় নেমে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে পারবে। ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ইরানে মার্কিন সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি।
E-Paper











