Indian Startup: মহাকাশ থেকে দেশের ওপর নজরদারি! বিদেশি স্যাটেলাইটের গোপন চক্রান্ত ফাঁস করবে ভারতীয় স্টার্টআপ

Indian Startup: ঠিক এই জায়গাতেই এক নতুন বিপ্লব আনতে চলেছে ভারতীয় স্পেস স্টার্টআপ 'দিগন্তরা।' লাদাখের তীব্র ঠান্ডায় নিঃশব্দে কাজ শুরু করেছে তাদের তৈরি বিশেষ স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস সিস্টেম 'মোজাইক (MOSAIC)।'

Published on: Aug 23, 2026, 23:11:14 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Indian Startup: লাদাখের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার এক নিস্তব্ধ রাত। মাথার ওপরের অনন্ত আকাশের দিকে মুখ করে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে রয়েছে ছোট একটি অত্যাধুনিক যন্ত্র।

বিদেশি স্যাটেলাইটের গোপন চক্রান্ত ফাঁস করবে ভারতীয় স্টার্টআপ (সৌজন্যে টুইটার)
বিদেশি স্যাটেলাইটের গোপন চক্রান্ত ফাঁস করবে ভারতীয় স্টার্টআপ (সৌজন্যে টুইটার)

আগে থেকে জানে না এটি মহাকাশে কোন নির্দিষ্ট কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের খোঁজ করছে। কোনও অপারেটর এসে দিকনির্দেশ করে নির্দিষ্ট দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যও সেটি অপেক্ষায় বসে নেই। বরং এটি রাতের আকাশের একটি নির্দিষ্ট অংশের ওপর গভীর নজর রাখছে-সেখান দিয়ে যা কিছুই অতিক্রম করছে তা সঙ্গে সঙ্গে শনাক্ত করছে এবং অত্যন্ত নিপুণভাবে নক্ষত্র ও মহাকাশের আবর্জনা (স্পেস ডেব্রি) থেকে স্যাটেলাইটগুলোকে আলাদা করে চিহ্নিত করছে। মহাশূন্য দিয়ে অতিক্রম করা প্রতিটি অচেনা বস্তু ভারতের জন্য এক বৃহত্তর ধাঁধার একেকটি টুকরো সমাধান করে দিচ্ছে: ভারতের ঠিক মাথার ওপর এই মুহূর্তে কারা নজর রাখছে? তারা আবার কখন এই আকাশসীমায় ফিরে আসবে? আর মহাকাশ থেকে তারা ভারতের ঠিক কোন কোন গতিবিধির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে? পোখরান পারমাণবিক পরীক্ষার সময় বিদেশি স্পাই স্যাটেলাইট বা গোয়েন্দা উপগ্রহের চোখ এড়িয়ে কাজ করা ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই ভারতের জন্য বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর সুনির্দিষ্টভাবে জানা দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

পোখরানে পরমাণু পরীক্ষার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভারতের মাথার ওপরের মহাশূন্যের চরিত্র আমূল বদলে গেছে। মহাকাশ এখন আর হাতে গোনা কয়েকটি দেশের সীমিত সংখ্যক উপগ্রহের নিয়ন্ত্রণে আবদ্ধ নেই। যোগাযোগ, নির্দেশনা (নেভিগেশন), নিখুঁত চিত্রগ্রহণ এবং সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে হাজার হাজার স্যাটেলাইট আজ অবিরাম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে। আধুনিক সমরকৌশলে বিশ্বের সেনাবাহিনীগুলো এখন মহাকাশ থেকে আসা তথ্যের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। 'অপারেশন সিঁদুর' পরবর্তী নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতায় কক্ষপথের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যতটা জল, স্থল বা আকাশসীমার ওপর নজর রাখা। ভারত নিজস্ব 'নেত্র' (NETRA) কর্মসূচির মাধ্যমে মহাকাশ নজরদারিতে কিছুটা সক্ষমতা অর্জন করেছে ঠিকই; তবে এবার ভারতের একঝাঁক নতুন প্রজন্মের বেসরকারি প্রযুক্তি সংস্থা অতিরিক্ত নজরদারি ক্ষমতা গড়ে তুলতে মাঠে নেমেছে। এর লক্ষ্য হলো দেশকে নিজস্ব আকাশসীমার ওপরের গতিবিধি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ও স্বয়ংসম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করা।

ঠিক এই জায়গাতেই এক নতুন বিপ্লব আনতে চলেছে ভারতীয় স্পেস স্টার্টআপ 'দিগন্তরা।' লাদাখের তীব্র ঠান্ডায় নিঃশব্দে কাজ শুরু করেছে তাদের তৈরি বিশেষ স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস সিস্টেম 'মোজাইক (MOSAIC)।' এটি আকাশের একটি নির্দিষ্ট অংশে নিজস্ব নজরদারি চালিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মহাকাশের বস্তু, নক্ষত্র এবং কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য চিহ্নিত করতে সক্ষম। প্রথাগত টেলিস্কোপ ব্যবস্থার মতো 'মোজাইক'-কে আলাদা করে নির্দেশনা দিতে হয় না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে পরিচালিত এই সিস্টেমটি চালু হলেই নিজের দৃশ্যসীমার মধ্যে আসা সমস্ত বস্তুকে শনাক্ত ও ট্যাগ করা শুরু করে। এক একটি ইউনিট প্রতি রাতে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টি পৃথক উপগ্রহ ও মহাকাশীয় বস্তুর গতিবিধি ট্র্যাক করতে পারে। এর ফলে বিদেশি নজরদারি উপগ্রহ কখন ভারতের ওপর দিয়ে যাচ্ছে, তার নিখুঁত হিসেব রাখা সম্ভব হবে।

মহাকাশ নজরদারিতে এক যুগান্তকারী প্রযুক্তির কথা তুলে ধরেছেন ভারতীয় মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা ‘দিগন্তরা’র (Digantara) প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও অনিরুদ্ধ শর্মা। তাঁর মতে, তাঁদের এই উদ্ভাবনী ব্যবস্থাটি একটি ওয়াইড-ফিল্ড বা বিস্তৃত ক্ষেত্রভিত্তিক সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় নজরদারি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। অনিরুদ্ধ শর্মা জানান, এই সিস্টেমটিকে চালু করে আকাশের যে কোনও একটি নির্দিষ্ট অংশের দিকে তাক করে রাখলেই হলো; এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই পুরো অঞ্চল পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে এবং এর দৃষ্টিসীমার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করা প্রতিটি গতিশীল বস্তুকে নিজে থেকেই শনাক্ত ও ট্যাগ করে ফেলে। এই প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, মহাকাশে ঠিক কোন নির্দিষ্ট উপগ্রহটিকে ট্র্যাক করতে হবে—তা আগে থেকে এই সিস্টেমে ইনপুট দেওয়ার কোনো প্রয়োজন পড়ে না। বরং এটি নিজেই অবিরাম স্ক্যান চালিয়ে সবকিছু শনাক্ত করে নেয়।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনও স্থান বা সামরিক কার্যকলাপ আড়াল করার আগে এটি জানা দরকার যে উপর থেকে কে নজর রাখছে। দিগন্তরার এই প্রযুক্তি ভারতের বর্তমান 'নেত্র' কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের নিজস্ব মহাকাশ নজরদারি ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে। ফলে কক্ষপথে ভারতের আকাশসীমার ওপর নজর রাখা যেকোনও বিদেশি স্পাই স্যাটেলাইটের গোপন অবস্থান এবার সহজেই প্রকাশ্যে চলে আসবে।