Kisan Mahapanchayat: শম্ভু সীমান্তে হাজার হাজার কৃষক! দিল্লিতে ‘মহাপঞ্চায়েত'র প্রস্তুতি তুঙ্গে, সতর্ক পুলিশ

Kisan Mahapanchayat: পাঞ্জাবের ‘কিষান মজদুর সংঘর্ষ কমিটি’র তরফে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিল্লিতে তারা একদিনের ‘মহাপঞ্চায়েত’ আয়োজন করবে। মূলত ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি রদ করার জন্যেই ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ছত্রছায়ায় এই ‘মহাপঞ্চায়েত’-এর আয়োজন।

Published on: Jul 21, 2026, 11:37:34 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Kisan Mahapanchayat: ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দিল্লি পুলিশ। একদিকে যখন নয়া দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি। অন্যদিকে, তখন প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে দিল্লির কিষাণ ঘাটে আয়োজিত 'মহাপঞ্চায়েতে' যোগ দিতে মঙ্গলবার পাঞ্জাব, হরিয়ানা-সহ একাধিক রাজ্য থেকে হাজার হাজার কৃষক রাজধানীর উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। যাত্রার আগে পাঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু সীমান্তে জড়ো হন বহু কৃষক।

শম্ভু সীমান্তে হাজার হাজার কৃষক! (PTI)
শম্ভু সীমান্তে হাজার হাজার কৃষক! (PTI)

কেন 'মহাপঞ্চায়েতের' আয়োজন?

পাঞ্জাবের ‘কিষান মজদুর সংঘর্ষ কমিটি’র তরফে জানানো হয়, মঙ্গলবার দিল্লিতে তারা একদিনের ‘মহাপঞ্চায়েত’ আয়োজন করবে। মূলত ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি রদ করার জন্যেই ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’র ছত্রছায়ায় এই ‘মহাপঞ্চায়েত’-এর আয়োজন। কৃষকদের দাবি, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সস্তায় কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত পণ্য ভারতে আমদানি হতে পারে। এর ফলে দেশের কৃষক ও দুগ্ধ উৎপাদকদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন। বার্তা সংবাদ এএনআই-এর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার শম্ভু সীমান্তে ইতিমধ্যেই ১,০০০-এরও বেশি কৃষক জড়ো হয়েছেন। অন্যদিকে, কৃষকদের দিল্লি অভিযান ঠেকাতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। হরিয়ানা পুলিশ শম্ভু সীমান্তে ব্যারিকেড বসিয়ে সিল করে দিয়েছে। কৃষকরা যাতে দিল্লিতে পৌঁছতে না পারেন, সেই কারণে সিমেন্টের স্ল্যাব দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে শম্ভু সীমান্ত।

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীকে কড়া তোপ কৃষক নেতার

‘মহাপঞ্চায়েত’-এ যোগ দিতে দিল্লি যাওয়ার পথে শম্ভু সীমান্তে কৃষকদের আটকে দেওয়ার অভিযোগে হরিয়ানা সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ‘কিষান মজদুর মোর্চা’ নামে একটি সংগঠনের নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের। মঙ্গলবার সকালে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে দিল্লি অভিমুখে রওনা হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হরিয়ানা সরকার শম্ভু সীমান্ত পুরোপুরি বন্ধ করে তাঁদের পথ আটকে দিচ্ছে। ফতেগড় সাহিবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পান্ধের অভিযোগ করেন, এই ঘটনা হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনির 'আসল রূপ' ফাঁস করে দিয়েছে। যিনি প্রায়শই পাঞ্জাব সফরে এসে পাঞ্জাববাসীকে নানা বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন।

হরিয়ানায় কৃষক নেতা আটক

অন্যদিকে, প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির প্রতিবাদে দিল্লির কিষাণ ঘাটে আয়োজিত 'মহাপঞ্চায়েতে' যোগ দিতে যাওয়ার পথে সোমবার হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র জেলা থেকে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (বিকেইউ) নেতা গুরনাম সিং চড়ুনিকেও আটক করেছে পুলিশ। এই খবর ছড়াতেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়। সংগঠনের মুখপাত্র প্রিন্স ওয়ারাইচ জানান, পেহোওয়ার কাছে ১৫২ডি নম্বর জাতীয় সড়কে চড়ুনির গাড়িটি আটকায় পুলিশ। তিনি আরও বলেন, 'তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার পর পুলিশ আধিকারিকরা অন্য জায়গায় নিয়ে চলে যান।' চড়ুনিকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই থানা গ্রামের হিসার-চণ্ডীগড় জাতীয় সড়কের টোল প্লাজায় কৃষকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সেখানে বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে রাস্তা আটকে ধর্নায় বসেন কৃষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা

রাজধানীর কিষাণ ঘাটে কৃষকদের এই 'মহাপঞ্চায়েতের' কথা মাথায় রেখে ২১ জুলাইয়ের জন্য ট্রাফিক সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ। একাধিক জাতীয় সড়কে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। যানজট এড়াতে যাত্রীদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি গেট, রাজঘাট ক্রসিং, গুরু নানক চক, শান্তি বন চক, রাজঘাট ডিটিসি ডিপো এবং আইপি ফ্লাইওভার। এছাড়া সত্যাগ্রহ মার্গ, ভেলোড্রোম রোড, রাজঘাট ডিটিসি ডিপো রোড এবং পার্শ্ববর্তী সড়কগুলোতে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে বলে গাড়ি চালকদের বিকল্প পথ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।