Threat to Kashmiri Pandits: ঠিকানা উল্লেখ করে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি, জঙ্গি চিঠিতে তীব্র আতঙ্ক উপত্যকায়
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দুটি হুমকি-পত্র সামনে এসেছে। সেখানে কয়েক ডজন কাশ্মীরি পণ্ডিতের নাম এবং তাঁদের সম্পূর্ণ ঠিকানা লেখা রয়েছে। চিঠিতে তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা দিল্লিতে বসে থাকা নিজেদের ‘মালিকদের’ নির্দেশে কাজ করছেন।
দীর্ঘ সময় পর ফের কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে জঙ্গি হুমকির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। এবার হুমকি-পত্রে শুধু নাম নয়, নির্দিষ্ট বাড়ির নম্বর, গলির নম্বর এবং সম্পূর্ণ ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে উপত্যকায় বসবাসরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দুটি হুমকি-পত্র সামনে এসেছে। সেখানে কয়েক ডজন কাশ্মীরি পণ্ডিতের নাম এবং তাঁদের সম্পূর্ণ ঠিকানা লেখা রয়েছে। চিঠিতে তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁরা দিল্লিতে বসে থাকা নিজেদের ‘মালিকদের’ নির্দেশে কাজ করছেন। একই সঙ্গে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন কার্যকলাপের উপর নজর রাখার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চিঠি দু’টি কে বা কারা পাঠিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা চিঠির উৎস, ব্যবহৃত ভাষা এবং এতে উল্লেখ থাকা তথ্যের সত্যতা যাচাই করছেন। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, যে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা কাশ্মীর ছেড়ে যাননি, তাঁরা নিরাপদ রয়েছেন। কিন্তু যারা উপত্যকা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, তাঁরা নাকি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) ‘অ্যাজেন্ডা’ বাস্তবায়ন করছেন।
‘আহমদ বিলাল’ নামে স্বাক্ষর করা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, এর আগেও সতর্ক করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিটি গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। এই ভাষ্য সামনে আসার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
তথ্য অনুযায়ী, ‘ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠনের নামে এই হুমকি দেওয়া হয়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সংগঠন ‘পানুন কাশ্মীর’-এর দাবি, সংগঠনটি লস্কর-এ-তইবার একটি ফ্রন্ট বা শাখা হিসেবে পরিচিত। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের চিঠির মাধ্যমে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো এবং তাঁদের উপত্যকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে পাঠানো একটি হুমকি-পত্রে তাঁদের নামের সঙ্গে টেলিফোন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সেই চিঠিতে সম্পূর্ণ ঠিকানা দেওয়া হয়নি। ওই হুমকির পর সরকারি দফতরগুলিতে কর্মরত কিছু কাশ্মীরি পণ্ডিতকে কয়েক দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছিল। ফলে এবার বাড়ির নম্বর ও গলির নম্বর পর্যন্ত উল্লেখ থাকায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
এরই মধ্যে কয়েক সপ্তাহ আগে কুলগামে দুই পরিযায়ী শ্রমিককে হামলা করে হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। সেই ঘটনার পর উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ধারাবাহিক এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে প্রশাসনের উপর চাপও বাড়ছে।
গত সপ্তাহে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাও কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের পাওয়া জঙ্গি হুমকিকে হালকাভাবে না নেওয়ার জন্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদ কার্যত শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে বারবার এই ধরনের হুমকি আসছে কোথা থেকে?
মুখ্যমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন, গত কয়েক বছরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিস্থিতির জেরেই বহু কর্মী কাশ্মীর ছাড়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন বলে তিনি জানান।
নতুন হুমকি-পত্রের ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। চিঠিতে যাঁদের নাম ও ঠিকানা রয়েছে, তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে হুমকির নেপথ্যে সক্রিয় নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য জঙ্গি যোগাযোগের সন্ধান চালানো হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


