পঞ্জাবে ভোটের আগে বড় ধাক্কা আপে, দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন তিন বিধায়ক

মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পঞ্জাবের তিন আপ বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপিতে। রবিবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন দুই বিধায়ক হরমিত সিং পাঠানমাজরা এবং চেতন সিং জৌরমাজরা। সোমবার তাঁদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক তথা আপ বিধায়ক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিংহও।

Published on: Nov 2, 2026, 12:38:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পঞ্জাবে বড় রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে আম আদমি পার্টি (আপ)। মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলের তিন বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপিতে। রবিবার দল ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন দুই বিধায়ক হরমিত সিং পাঠানমাজরা এবং চেতন সিং জৌরমাজরা। সোমবার তাঁদের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিলেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক তথা আপ বিধায়ক কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিংহও। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। এই যোগদানকে পঞ্জাবে আপের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

পঞ্জাবের তিন আপ বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপিতে।
পঞ্জাবের তিন আপ বিধায়ক যোগ দিলেন বিজেপিতে।

বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন বিধায়ক হলেন অমৃতসর উত্তর কেন্দ্রের কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিংহ, সানৌর কেন্দ্রের হরমিত সিং পাঠানমাজরা এবং সামানা কেন্দ্রের চেতন সিং জৌরমাজরা। রবিবার প্রথমে দলীয় সদস্যপদ ছাড়ার কথা জানান পাঠানমাজরা ও জৌরমাজরা। সোমবার সকালে বিধানসভা থেকে ইস্তফা দেন কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ। এর পরেই তিন জনের বিজেপিতে যোগদানের খবর সামনে আসে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের উপস্থিতিতে তাঁদের আনুষ্ঠানিক ভাবে দলে নেওয়া হয়।

কেন আপ ছাড়লেন বিধায়কেরা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামনে আসছে দলের অন্দরের অসন্তোষ। রবিবার চণ্ডীগড় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করে আপ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন পাঠানমাজরা এবং জৌরমাজরা। তাঁদের অভিযোগ, পঞ্জাবের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল আপ, তা পূরণ করতে পারেনি ভগবন্ত মানের সরকার। বিশেষ করে মাদক পাচার বন্ধ করা এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি করেন তাঁরা।

দুই বিধায়কের অভিযোগ, রাজ্যে মাদকের কারবার বন্ধ হয়নি। বরং মাদক সহজেই বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, তোলাবাজি, গ্যাংস্টারদের দৌরাত্ম্য এবং সরকারি দফতরে দুর্নীতির অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দুই নেতা। তাঁদের নিশানায় ছিলেন আপের সর্বভারতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরীওয়াল এবং মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান।

তবে এই দলবদলের নেপথ্যে নির্বাচনী অঙ্কও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আপ ইতিমধ্যেই ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ৪০ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় পাঠানমাজরা এবং জৌরমাজরার নাম ছিল না। তাঁদের কেন্দ্র সানৌর ও সামানায় নতুন বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাও নিয়োগ করেছিল আপ। ফলে আগামী নির্বাচনে তাঁরা টিকিট পাবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। পাঠানমাজরা জানিয়েছেন, বিজেপি পঞ্জাবে ক্ষমতায় এলে রাজ্যের উন্নয়নে সুবিধা হবে। মাদকমুক্ত পঞ্জাব গড়ার প্রতিশ্রুতির কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। ২০২৭ সালে সানৌর কেন্দ্র থেকেই বিজেপির হয়ে লড়তে চান বলে জানিয়েছেন এই নেতা।

অন্য দিকে, কুনওয়ার বিজয় প্রতাপ সিংহের দলত্যাগের ঘটনাও তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক এই নেতা ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আপে যোগ দিয়েছিলেন। এক সময় দলের অন্যতম পরিচিত মুখ ছিলেন তিনি। তবে ২০২৫ সালের জুনে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তাঁকে পাঁচ বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। দলের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্বও ক্রমে বেড়েছিল। সোমবার বিধায়ক পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করে তিনি পঞ্জাবে মাদক, তোলাবাজি, গ্যাংস্টার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

তিন বিধায়কের দলবদল নিয়ে আপের পঞ্জাব শাখার সভাপতি অমন অরোরা দাবি করেছেন, ওই দুই বিধায়ক দলের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে চলছিলেন না। তাঁদের দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত। অন্য দিকে, বিজেপি নেতা রবনীত সিংহ বিট্টু সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, রাজনৈতিক ছবির কেবল শুরু হয়েছে। ফলে বিধানসভা ভোটের আগে পঞ্জাবে আরও দলবদল হতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। ২০২২ সালে বিপুল জয় নিয়ে ক্ষমতায় আসা আপের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ দলের ঐক্য ধরে রাখা এবং নির্বাচনের আগে অসন্তোষ সামলানো।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More