TMC Latest Update: সাংসদ পদ নিয়ে টানাটানির মাঝেই স্ট্যান্ডিং কমিটির মাথায় কাকলি! ক্ষুব্ধ অভিষেক

শনিবার কমিটির চেয়ারম্যান বদলের সিদ্ধান্ত সামনে আসে। কীর্তি আজাদের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কাকলিকে। তৃণমূলের বক্তব্য, কাকলি এখন নিজেকে এনসিপিআইয়ের সাংসদ বলে দাবি করছেন। আবার লোকসভার সরকারি হিসাব অনুযায়ী তিনি এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসাবেই রয়েছেন।

Published on: Oct 4, 2026, 08:48:33 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদে রদবদল ঘিরে ফের কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতে তৃণমূল কংগ্রেস। লোকসভার গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ও সার বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে কীর্তি আজাদকে সরিয়ে সেখানে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বসানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি তুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে তিনি জানতে চেয়েছেন, যে সাংসদের দলীয় পরিচয় নিয়েই বিতর্ক রয়েছে, তাঁকেই বা কী করে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির মাথায় বসানো হল।

কীর্তি আজাদের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কাকলিকে। (Naveen Sharma)
কীর্তি আজাদের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কাকলিকে। (Naveen Sharma)

শনিবার কমিটির চেয়ারম্যান বদলের সিদ্ধান্ত সামনে আসে। কীর্তি আজাদের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কাকলিকে। তৃণমূলের বক্তব্য, কাকলি এখন নিজেকে এনসিপিআইয়ের সাংসদ বলে দাবি করছেন। আবার লোকসভার সরকারি হিসাব অনুযায়ী তিনি এখনও তৃণমূলের সাংসদ হিসাবেই রয়েছেন। ফলে কোন দলের প্রতিনিধিত্বে তাঁকে চেয়ারম্যান করা হল, সেই প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।

অভিষেকের চিঠিতে এই বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ২৩ সেপ্টেম্বর স্পিকারকে দেওয়া আগের চিঠিতেই তিনি অনুরোধ করেছিলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে অভিযোগ বিচারাধীন, তাঁদের মামলা মেটার আগে গুরুত্বপূর্ণ সাংসদীয় দায়িত্বে না বসানো হোক। সেই অবস্থান বজায় থাকার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

তৃণমূল সাংসদের আরও দাবি, লোকসভার ওয়েবসাইটে এখনও তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ২৮ জন বলেই দেখানো হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কাকলিকে যদি তৃণমূলের কোটায় চেয়ারম্যান করা হয়ে থাকে, তা হলে দলের মনোনীত চেয়ারম্যানকে সরানোর কারণ কী, সেটি স্পষ্ট করা দরকার। আর যদি এনসিপিআইয়ের কোটায় এই পদ দেওয়া হয়ে থাকে, তা হলে কোন সিদ্ধান্তে তাঁর দলীয় পরিচয় স্বীকৃতি পেল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন অভিষেক।

তৃণমূলের মতে, সাংসদের দলীয় পরিচয় নিয়ে মামলা চলতে থাকলে তাঁকে সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত সংসদীয় রীতির সঙ্গে যায় না। অভিষেক স্পিকারের কাছে দাবি করেছেন, নতুন নিয়োগ বাতিল করে আগের চেয়ারম্যানকে দায়িত্বে ফেরানো হোক। পাশাপাশি দলত্যাগ বিরোধী আইনে চলা মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তিরও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও স্থায়ী কমিটির রদবদল হয়েছে। বাণিজ্য সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে তৃণমূলের দোলা সেনকে সরিয়ে সেখানে বিজেপির সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মোট আটটি কমিটির গঠনেও বদল এসেছে।

এই পরিবর্তন নিয়েও রাজ্যসভায় সরব হয়েছে তৃণমূল। দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়েন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনকে চিঠি লিখে অভিযোগ করেছেন, সংখ্যার বিচারে তৃতীয় বৃহত্তম দল হয়েও বার বার তৃণমূলকে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় পদ থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ২০১৯ সালেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করা হলেও ফের একই পথে হাঁটা হচ্ছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

ফলে স্থায়ী কমিটির রদবদল এখন শুধু সাংসদদের দায়িত্ব বদলের বিষয় থাকছে না। এর মধ্যে দিয়ে সংসদে তৃণমূলকে রাজনৈতিক ভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলছে কালীঘাট শিবির।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More