TMC Logo Case in SC: সুপ্রিম কোর্টে মিটল না তৃণমূলের ‘প্রতীক যুদ্ধ’, কমিশনকেই দ্রুত সিদ্ধান্তের পথে হাঁটার নির্দেশ
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, দুই পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশের সুযোগ দিতে হবে ঠিকই, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনির্দিষ্ট কাল ধরে চলতে পারে না। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার ফের মামলাটি শুনবে আদালত।
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে টানাপড়েনে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করল না সুপ্রিম কোর্ট। তবে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি দীর্ঘায়িত না করে দ্রুত মিটিয়ে ফেলার জন্য সময়সীমা জানানোর নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, দুই পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশের সুযোগ দিতে হবে ঠিকই, কিন্তু সেই প্রক্রিয়া অনির্দিষ্ট কাল ধরে চলতে পারে না। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর, সোমবার ফের মামলাটি শুনবে আদালত।

মামলার কেন্দ্রে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের আসল নাম এবং প্রতীক নিয়ে দুই গোষ্ঠীর বিরোধ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী—দু’পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে। এই বিরোধের জেরেই ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহারে স্থগিতাদেশ দেয়। একই সঙ্গে আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই গোষ্ঠীকেই আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়।
কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মমতা শিবির পেয়েছে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক। অন্য গোষ্ঠীকে দেওয়া হয়েছে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘খাম’ প্রতীক। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন ৬ অক্টোবর হওয়ার কথা। সেই নির্বাচন সামনে রেখেই এই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, এটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। দলের নাম ও প্রতীকের উপর আসল অধিকার কার, তা পৃথক প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করা হবে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতা শিবির। বৃহস্পতিবার শুনানিতে তাঁদের হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাঁর বক্তব্য, কমিশন দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে ভোটের মাঝপথে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেছে। আগে সিদ্ধান্ত হলে আদালতে যাওয়ার সুযোগও থাকত বলে যুক্তি দেন তিনি। তবে এই মুহূর্তে উপনির্বাচনের উপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হচ্ছে না জানিয়ে সিব্বল কমিশনকে দ্রুত, এমনকি দিন-দিন শুনানির মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানান।
কিন্তু ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পরে কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় আদালত সরাসরি হাত দিতে রাজি হয়নি। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি বলেন, এই পর্যায়ে নির্বাচন ঘিরে কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাকে সরাসরি বদলে দেওয়া সহজ নয়। মূল প্রশ্ন এখন কমিশন কত দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে।
শুনানিতে বার বার উঠে আসে শিব সেনার পুরনো প্রতীক-বিতর্কের প্রসঙ্গও। ঋতব্রত শিবিরের হয়ে সওয়াল করা মুকুল রোহতগি জানান, এ ধরনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ কমিশন আগেও দিয়েছে। তখনই বিচারপতি বাগচির মন্তব্য, ‘‘শিব সেনার ক্ষেত্রে বিলম্বের কী পরিণতি হয়েছে, তা আমরা দেখেছি।’’ অর্থাৎ তৃণমূলের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখার পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা আদালত চাইছে না।
অন্য দিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী নীরজ কিশন কউলও দ্রুত নিষ্পত্তির বিরোধিতা করেননি। তবে তাঁর বক্তব্য, দশ বা কুড়ি দিনের মধ্যে এমন জটিল সাংগঠনিক বিরোধ মেটানো বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। দুই পক্ষের নথি, হলফনামা এবং প্রমাণ পরীক্ষা করতে সময় প্রয়োজন বলেও তিনি আদালতকে জানান। কমিশনের তরফে আরও বলা হয়, বিরোধ মেটার আগ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তাদের রয়েছে।
শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট কোনও সময়সীমা বেঁধে না দিয়ে কমিশনের কাছেই জানতে চেয়েছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাস্তবে কতটা সময় লাগবে। আগামী সোমবার সেই সময়সীমা আদালতকে জানাতে হবে। ফলে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে জোড়াফুল প্রতীক বা মূল তৃণমূলের নাম ফিরে পেল না কোনও পক্ষই। আপাতত কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাই বহাল থাকছে। এখন নজর ২৮ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে—কত দিনের মধ্যে এই ‘প্রতীক যুদ্ধ’ মেটানোর রূপরেখা দেয় নির্বাচন কমিশন।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


