TMC Row Update: তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে কমিশনে ‘যুদ্ধ’, মমতার শিবিরকে তোপ ঋতব্রতের

শনিবার সকালে প্রথমে কমিশনের দফতরে যান ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেখানে পৌঁছয় কালীঘাটপন্থী দলের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, অতীতে দলের ভিতরে নিয়মকানুন এবং নথিপত্রের তুলনায় ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

Published on: Sep 12, 2026, 15:09:08 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক শেষ পর্যন্ত কার দখলে থাকবে? দলের ‘আসল’ দাবিদারই বা কোন শিবির? এই প্রশ্নের নিষ্পত্তিতে শনিবার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করল নির্বাচন কমিশন। দিল্লিতে কমিশনের ডাকে মুখোমুখি হল তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী শিবির এবং কালীঘাটের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে সরাসরি মমতার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন ঋতব্রত।

শনিবার সকালে প্রথমে কমিশনের দফতরে যান ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। (PTI)
শনিবার সকালে প্রথমে কমিশনের দফতরে যান ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। (PTI)

‘মমতা যা বলতেন, সেটাই শেষ কথা’

শনিবার সকালে প্রথমে কমিশনের দফতরে যান ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল। প্রায় এক ঘণ্টা পর সেখানে পৌঁছয় কালীঘাটপন্থী দলের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে ঋতব্রত দাবি করেন, অতীতে দলের ভিতরে নিয়মকানুন এবং নথিপত্রের তুলনায় ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্তই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

তাঁর বক্তব্যে ছিল কটাক্ষও। তিনি বলেন, ‘না খাতা না বহি, জো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কহে, ওহি সহি’—এভাবে কোনও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল চলতে পারে না। তাঁর আরও দাবি, তৃণমূল কোনও পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এই দল তৈরি হয়েছে নিচুতলার কর্মীদের নিয়ে। তবে কমিশনের ঘরের আলোচনার বিস্তারিত তিনি প্রকাশ্যে আনতে চাননি। শুধু জানিয়েছেন, বিভিন্ন তথ্য ও নথি কমিশনের সামনে পেশ করা হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত তাঁদের পক্ষে যাবে বলে তাঁরা আশাবাদী।

কমিশনের হাতে নথি, কী প্রমাণ দিল ঋতব্রত শিবির?

সূত্রের দাবি, দলের ওয়ার্কিং কমিটির পুরনো ও সাম্প্রতিক কাজকর্মের তুলনামূলক নথি কমিশনের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বৈঠকের কার্যবিবরণী এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কী ভাবে নেওয়া হত, সেই সংক্রান্ত কাগজপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ঋতব্রতদের মূল দাবি, বর্তমানে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। তাই সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং জোড়াফুল প্রতীকের উপরও তাঁদের অধিকার থাকা উচিত।

মমতার শিবিরের পালটা যুক্তি

অন্যদিকে কালীঘাটপন্থীদের অবস্থানও যথেষ্ট স্পষ্ট। তাঁদের বক্তব্য, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নাম এবং নেতৃত্বকে সামনে রেখেই দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে লড়েছেন এবং ভোটে জিতেছেন। তাই হঠাৎ তাঁর নেতৃত্ব অস্বীকার করে অন্য কোনও শিবির দল ও প্রতীকের উপর দাবি জানাতে পারে না। এই বিরোধ ঘিরেই দুই পক্ষ নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে। কমিশনও উভয় শিবিরের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি তাঁদের সাংগঠনিক প্রমাণ এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখছে।

ভোটে ভরাডুবির পরই প্রকাশ্যে ভাঙন

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরের বিরোধ অনেকটাই প্রকাশ্যে চলে আসে। কালীঘাটের নেতৃত্ব থেকে দূরত্ব তৈরি করে ঋতব্রতের নেতৃত্বে আলাদা শিবির গড়ে ওঠে। ওই শিবির মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলে। এখন সেই বিরোধই পৌঁছে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের দরজায়। একদিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্বের অধিকার—দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে বৈধ বলে তুলে ধরছে।

উপনির্বাচনের আগে সিদ্ধান্তের গুরুত্ব

পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ রাজ্যে সামনে রয়েছে দু’টি উপনির্বাচন। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবর ভোট হওয়ার কথা। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং ৯ অক্টোবর ফল প্রকাশ হবে। তার আগেই যদি জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে কমিশন কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে উপনির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণে তার বড় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ প্রার্থীরা কোন প্রতীক ব্যবহার করবেন, সেটিই হয়ে উঠতে পারে দুই শিবিরের শক্তি প্রদর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। এখন তাই নজর একটাই—নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত কাকে ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় এবং বহু পুরনো জোড়াফুল প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More