Jantar Mantar protests: সোশ্যাল মিডিয়ায় টার্গেট! যন্তর মন্তরের প্রতিবাদে পরিচয় ‘গোপন’ দিল্লি পুলিশের?

Jantar Mantar protests: পুলিশ সূত্রের দাবি, আন্দোলনকারীদের বাধা, ধরপাকড়ের সময় নাম দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশকর্মীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

Published on: Oct 5, 2026, 13:03:19 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

Jantar Mantar protests: দিল্লিতে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক প্রতিবাদ আন্দোলনে উপস্থিত বহু পুলিশকর্মীর উর্দিতে নাম লেখা পরিচয় দেখা যায়নি। জুলাইয়ের বিক্ষোভের সময় এ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুলিশের অনেকে দাবি করেছিলেন, ধস্তাধস্তিতে নাম খুলে পড়ে গিয়েছে। তবে এ বারের বিক্ষোভের সময় সংবাদসংস্থা পিটিআই সংশ্লিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করেছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মত নিয়েই ওই পুলিশকর্মীরা ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজেদের নাম প্রকাশ্যে আনেননি।

যন্তর মন্তরের প্রতিবাদে পরিচয় ‘গোপন’ দিল্লি পুলিশের? Photo for representation
যন্তর মন্তরের প্রতিবাদে পরিচয় ‘গোপন’ দিল্লি পুলিশের? Photo for representation

যন্তর মন্তরে কয়েক সপ্তাহের লাগাতার বিক্ষোভ ও অনশনের পর ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেডের একাধিক স্তর ভাঙার চেষ্টা করলে ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলিতে বহু বিক্ষোভকারীকে মারধর করতে দেখা গেছে। যদিও দিল্লি পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা হিংসাত্মক হয়ে ওঠায় বলপ্রয়োগ করা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।

শুক্রবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রথম দিনে বহু বিক্ষোভকারী পুলিশকর্মীদের ছবি তোলেন, ভিডিও করেন এবং কেন তাঁরা উর্দিতে ট্যাগ পরেননি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে কিছু পুলিশকর্মীকে বলতে শোনা যায় যে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তাঁদের ব্যাজ খুলে পড়ে গেছে। অন্যরা জানান, তাঁরা ব্যাজ লাগাতে ভুলে গেছেন। কেউ কেউ আবার বলেন, যাতে খুলে না যায় সেই ভয়ে তাঁরা ইচ্ছে করেই নেম ট্যাগ খুলে রেখেছেন। অনেকে আবার কোনও ব্যাখ্যা দিতেই অস্বীকার করেন। পুলিশ সূত্রের দাবি, আন্দোলনকারীদের বাধা, ধরপাকড়ের সময় নাম দেখে সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশকর্মীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে, পুলিশি নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে পুলিশকর্মীদের পরিবারকেও উপহাস ও ব্যঙ্গ করা হচ্ছে বলে দাবি। তাই চিহ্নিত হওয়া ঠেকাতেই উর্দিতে নাম লেখা ট্যাগ খুলে আসছেন পুলিশকর্মীরা।

ভিড় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শীর্ষ আধিকারিকরা জুলাইয়ের সিজেপি বিক্ষোভ সংক্রান্ত পর্যালোচনা বৈঠকে তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান যে, কেবল নিজেদের দায়িত্ব পালন করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের এবং পরিবারকে টার্গেট করে হেনস্থা করা হচ্ছে। পর্যালোচনা বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, 'বহু আধিকারিক জানিয়েছেন যে বন্ধুদের আড্ডায় বা সামাজিক পরিসরে তাঁদের পরিবারকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকী কয়েকজন আধিকারিক অভিযোগ করেছেন যে, তাঁদের পরিবারকে কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের মাধ্যমে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম বানিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নিশানা করা হয়েছে।' এর পর ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের আশ্বস্ত করা হয় যে, আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকে দায়িত্ব পালন করলে নেম ট্যাগ খুলে রাখার জন্য কারও বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

মাওবাদী উপদ্রুত এলাকা, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং জম্মু ও কাশ্মীরে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষেত্রে ‘নো-নেম-ট্যাগ’ বা নামের ব্যাজ না পরার কৌশল বহু দিন ধরেই প্রচলিত। সেখানে জঙ্গি দমন অভিযানের ছবিতেও বিশেষ বাহিনীর জওয়ানদের মুখ অস্পষ্ট (blur) করে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে দাবি, নাম ছাড়া উর্দি পরলেও যদি কোনও পুলিশকর্মী আইন মেনে কাজ করেন তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে না বলে আশ্বাস মিলেছে।