Venezuela Earthquake: বিধ্বংসী জোড়া ধাক্কায় ভেনেজুুয়েলায় মৃত্যুমিছিল! প্রকৃতির রোষে নিখোঁজ ৫০ হাজার মানুষ, ক্ষুব্ধ…
Venezuela Earthquake: লা গুয়াইরা অঞ্চলের একটি ভেঙে পড়া আবাসন এলাকায় উদ্ধারকারী দলের প্রধান নাদিওমার পোলাঙ্কো এএফপিকে জানান, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা খুব কম। এখন মূল লক্ষ্য মৃতদেহ উদ্ধার করা।
Venezuela Earthquake: পরপর দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। বুধবার পরপর ৭.২ এবং ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের একাধিক এলাকা। এই ভয়াবহ বিপর্যয়কে গত এক শতকেরও বেশি সময়ে ভেনেজুয়েলার অন্যতম ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সাহায্য পৌঁছলেও অনেক সাধারণ মানুষ নিজেরাই উদ্ধারকাজে নেমে পড়েছেন। খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনদের খোঁজ করছেন তাঁরা।ভেনেজুয়েলা সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ৯২০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৬০ জন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্পের পর এখনও ১৭২ জন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন। এর মধ্যেই শুক্রবার বিকালে কারাকাস এবং কাছাকাছি মারাকাই শহরে ৪.৯ মাত্রার আরেকটি মৃদু আফটারশক অনুভূত হওয়ায় মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় সরকারি ত্রাণ ও উদ্ধারকাজের ধীরগতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। লা গুয়াইরা রাজ্যের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সেখানে ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকট এবং প্রশাসনের সীমিত উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরা খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছেন।
লা গুয়াইরা শহরের ‘হুগো চাভেজ’ নামের একটি আট তলা আবাসন কমপ্লেক্সের নিচে চাপা পড়ে আছেন ২৫ বছর বয়সি জেনিফার পালাসিওসের ৬ বছরের ছেলে-সহ পরিবারের ছয় সদস্য। ক্ষোভ প্রকাশ করে জেনিফার বলেন, 'কেবল স্থানীয় কমিউনিটির মানুষেরাই নিজেদের চেষ্টায় এ পর্যন্ত লোকজনকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছে। কংক্রিটের স্ল্যাবগুলো সরানোর জন্য আমাদের ক্রেন দরকার। এখনও অনেক মানুষ ভেতরে আটকে আছে।' বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা উদ্ধারকাজের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা মানুষদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। যদিও খাবার ও জল পাওয়ার সুযোগ থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। লা গুয়াইরা অঞ্চলের একটি ভেঙে পড়া আবাসন এলাকায় উদ্ধারকারী দলের প্রধান নাদিওমার পোলাঙ্কো এএফপিকে জানান, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা খুব কম। এখন মূল লক্ষ্য মৃতদেহ উদ্ধার করা।তবে শুক্রবার রাতে উদ্ধারকাজে আরও সমস্যা তৈরি হয়। বিশৃঙ্খলা, যানজটের কারণে প্রশাসন বিপর্যস্ত এলাকায় প্রবেশে বিধিনিষেধ জারি করে। উদ্ধারকাজে অংশ নিতে সরকারি অনুমতির প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, জরুরি সামগ্রী সংগ্রহ করতে দোকান, ফার্মেসি এবং খাবারের গাড়ির সামনে মানুষের লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। কোথাও কোথাও খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। অনেক জায়গায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে; বিমানবন্দরের সংলগ্ন ‘কাতিয়া লা মার’ নামক একটি এলাকায় অতিপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং টয়লেট পেপারের মতো নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের দোকানে মানুষ মরিয়া হয়ে লুটপাট পর্যন্ত চালিয়েছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, আটকে পড়া মানুষদের বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দারা স্লেজহ্যামার এবং পাওয়ার টুলস দিয়ে কংক্রিটের ভারী স্ল্যাব ভেঙে ভেতরে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আর তা দেখতে দেখতে নাজারেথ জিমেনেজ তার এক প্রিয়জনের কাঁধে মুখ গুঁজে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলেন। তিনি বিড়বিড় করে বললেন, 'হায় ঈশ্বর, আমরা ওদের ওখান থেকে কীভাবে বের করে আনব?'
আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল এবং মানবিক সাহায্য
যদিও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল এবং মানবিক সাহায্য ভেনিজুয়েলায় পৌঁছতে শুরু করেছে, কিন্তু তা সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সমানভাবে বণ্টন করা যাচ্ছে না। ভেনেজুয়েলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মেক্সিকো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এল সালভাদর, সুইৎজারল্যান্ড, কলম্বিয়া-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে ৮৬১ জন আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন। আরও প্রায় ১,০০০ জরুরি উদ্ধারকর্মী ২৫টি আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার পথে রয়েছেন বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘ। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে ত্রাণ পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই ১৭টি দেশের উদ্ধারকারী দল এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। স্পেন, এল সালভাদর, সুইৎজারল্যান্ড, কলম্বিয়া ও মেক্সিকোর তরফে পাঠানো উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। ভেনেজুয়েলাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে ভারত, চিন, ব্রাজিল এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানও। পাশাপাশি পোপ লিও চতুর্দশ দেশটির জন্য প্রাথমিকভাবে ১ লক্ষ ইউরোর আর্থিক সহায়তা পাঠিয়েছেন।
E-Paper

