TMC Account Case Update: তৃণমূলের ৩ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে ছাড়, নাম-প্রতীক বিতর্কের মাঝে হাই কোর্টের নির্দেশ

আদালত যে ব্যবস্থা বহাল রেখেছে, তাতে সরাসরি আগের মতো অ্যাকাউন্ট চালানোর সুযোগ নেই। একটি বিশেষ পদ্ধতি মেনে টাকা তোলা যাবে। মমতা শিবিরের অনুমোদিত ব্যক্তিদের মধ্যে যে কোনও দু’জন অ্যাকাউন্টের চেকে সই করতে পারবেন। এরপর আদালত-নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিককেও সেই চেকে সই করতে হবে।

Published on: Sep 21, 2026, 14:09:08 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ এল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তে দলের প্রতীক সাময়িক ভাবে স্থগিত থাকলেও, তার প্রভাব এই মুহূর্তে আগের আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে পড়ছে না। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির ওই অ্যাকাউন্টগুলি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে পারবে।

দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। (PTI)
দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। (PTI)

আদালত যে ব্যবস্থা বহাল রেখেছে, তাতে সরাসরি আগের মতো অ্যাকাউন্ট চালানোর সুযোগ নেই। একটি বিশেষ পদ্ধতি মেনে টাকা তোলা যাবে। মমতা শিবিরের অনুমোদিত ব্যক্তিদের মধ্যে যে কোনও দু’জন অ্যাকাউন্টের চেকে সই করতে পারবেন। এরপর আদালত-নিযুক্ত বিশেষ আধিকারিককেও সেই চেকে সই করতে হবে। তার পরেই ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। এই ব্যবস্থা আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে আদালত জানিয়েছে।

অর্থাৎ অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে আদালত নিয়ন্ত্রণও রেখেছে। একই সঙ্গে দৈনন্দিন আর্থিক কাজকর্ম পুরোপুরি বন্ধও করছে না। এর আগে জুলাইয়ে আদালত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে বিশেষ আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তাঁর নজরদারিতে অ্যাকাউন্ট থেকে প্রয়োজনীয় টাকা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

সোমবারের শুনানিতে মমতা শিবিরের আইনজীবী সোহেব আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে দলীয় নাম ও প্রতীকের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত ভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। দুই গোষ্ঠীকেই নতুন নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। তাই প্রতীক সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারে সমস্যা হওয়ার কথা নয় বলে তাঁদের বক্তব্য।

অন্যদিকে, রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্য, তিনটি অ্যাকাউন্টে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ রয়েছে। এর মধ্যে একটি অ্যাকাউন্টে ২৫ কোটিরও বেশি টাকা আছে। প্রতীক ও দলের নাম পরিবর্তনের পর পুরনো স্বাক্ষরকারীদের ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অধিকার থাকা উচিত কি না, সেই প্রশ্নও তোলা হয়। রাজ্যের তরফে আগের অনুমতি বাতিল করার আবেদন জানানো হয়েছিল।

শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানতে চান, দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পরে রাজ্য কী ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালত আগের নির্দেশই বহাল রাখে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশনের প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আপাতত আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করেই কার্যকর হয়েছে। তাই সেই সিদ্ধান্তকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের আগের আদালতের নির্দেশ বাতিলের কারণ হিসেবে এখনই ধরা হচ্ছে না।

এই মামলার সূত্রপাত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং দলের তহবিল নিয়ে বিরোধ থেকে। কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রথমে পুলিশ হিমঘরে রাখে। পরে আর্থিক তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপেও সেই অ্যাকাউন্ট নিয়ে জটিলতা বাড়ে। মমতা শিবির আদালতের কাছে দৈনন্দিন প্রয়োজনে টাকা ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল। জুলাইয়ের নির্দেশে আদালত বিশেষ আধিকারিকের নজরদারিতে সেই সুযোগ দেয়।

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের পুরনো নাম ও প্রতীক সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে। দুই গোষ্ঠীকে আলাদা নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছে। ফলে দলীয় নাম, প্রতীক এবং তহবিল—তিনটি বিষয়ই এখন আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

এই অবস্থায় হাই কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ মমতা শিবিরকে অন্তত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের ব্যবস্থা বজায় রাখার সুযোগ দিয়েছে। তবে টাকা তোলার ক্ষেত্রে আদালতের নির্ধারিত নিয়ম মানতেই হবে। অন্যদিকে, দলের নাম ও প্রতীকের চূড়ান্ত অধিকার কার হাতে থাকবে, সেই প্রশ্ন এখনও মীমাংসিত হয়নি।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More