Tripura BSF Assaulted: ত্রিপুরায় পাচারকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে উত্তপ্ত সীমান্ত, আহত বিএসএফের সহকারী কমান্ড্যান্ট-সহ চার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে বিএসএফের ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধীন আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। পাচার সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিএসএফের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।

Published on: Nov 3, 2026, 07:31:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় পাচার সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ানদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। সোমবার সকালে সেপাহিজলা জেলার বক্সনগর এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। সংঘর্ষে বিএসএফের সহকারী কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমার-সহ অন্তত চার জন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়।

ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় পাচার সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ানদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।
ত্রিপুরার আন্তর্জাতিক সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় পাচার সংক্রান্ত বিবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ানদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল।

ইন্ডিয়া টুডে এনই-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে বিএসএফের ৪৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের অধীন আশাবাড়ি বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। পাচার সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বিএসএফের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় এক বিএসএফ জওয়ান হেফজুর রহমান নামে এক স্থানীয় বাসিন্দাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসীদের মধ্যে।

পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বক্সনগর-রহিমপুর সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর ফলে ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রহিমপুর বর্ডার আউটপোস্টের সহকারী কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমার। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েক জন বিএসএফ কর্মী ছিলেন। অভিযোগ, সেখানে উত্তেজিত জনতার একাংশ তাঁদের উপর হামলা চালায়। রোহিত কুমারের গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত বিএসএফ কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছন। কিন্তু তাঁদের উপস্থিতির পরেও উত্তেজনা কমেনি। বরং নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। এই সংঘর্ষেই সহকারী কমান্ড্যান্ট রোহিত কুমার-সহ চার জন আহত হন।

আহতদের প্রথমে বক্সনগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাঁরা নিজেদের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তবে এই ঘটনার বিবরণ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলাকারীরা এক বিএসএফ জওয়ানের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কোথাও আবার একটি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও প্রকাশিত হয়েছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে আগ্নেয়াস্ত্রগুলি বিএসএফের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও অস্ত্র ছিনতাই এবং উদ্ধারের বিষয়ে এখনও সরকারি ভাবে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি।

আহতের সংখ্যা নিয়েও বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা অমিল রয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে এনই-র প্রতিবেদনে সহকারী কমান্ড্যান্ট-সহ চার জনের আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্য দিকে, কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিন জন বিএসএফ কর্মী এবং বেশ কয়েক জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছয় পুলিশ এবং বিএসএফের অতিরিক্ত বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। তবে সীমান্তবর্তী গ্রামে উত্তেজনা যাতে নতুন করে ছড়িয়ে না পড়ে, সে দিকে নজর রাখছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

এই ঘটনায় দু'পক্ষের অভিযোগ এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারা বিএসএফ কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছিল, পাচার চক্রের সঙ্গে তাদের কোনও যোগ রয়েছে কি না এবং অস্ত্র ছিনতাইয়ের অভিযোগ কতটা সত্য, তা তদন্তের মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকাগুলির মধ্যে ত্রিপুরার সেপাহিজলা অন্যতম। সেই এলাকায় পাচারকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘাত নতুন করে সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াল। বিশেষ করে দায়িত্বে থাকা বিএসএফ কর্মীদের উপর হামলা এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন নিরাপত্তা আধিকারিকেরা। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন নজর।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More