Trump Administration Removes Racist Post: ‘মিস্টার সিং’ বিজ্ঞাপনে বর্ণবিদ্বেষের ঝড়, চাপে পোস্ট মুছল ট্রাম্প প্রশাসন

বৃহস্পতিবার মার্কিন ডিএইচএস তাদের সেলফ ডিপোর্টেশনের প্রচারের অংশ হিসেবে ওই বিজ্ঞাপনটি এক্স-এ পোস্ট করেছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবিতে দেখা যায়, দাড়ি-গোঁফ থাকা এক বাদামি চেহারার পুরুষকে। ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘গেট অফ আওয়ার রোডস, ইউ ডোন্ট নো হাও টু ড্রাইভ মিস্টার সিং।’

Published on: Sep 11, 2026, 08:21:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Trump Administration Removes Racist Post: ‘আপনারা আমাদের রাস্তায় নামবেন না, গাড়ি চালাতে জানেন না মিস্টার সিং।’ আমেরিকার হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই বিজ্ঞাপন ঘিরেই তীব্র বিতর্কে জড়াল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযোগ উঠল, বেআইনি বাণিজ্যিক গাড়ি চালকদের বিরুদ্ধে প্রচারের নামে এক বিশেষ সম্প্রদায়কে নিশানা করা হয়েছে। প্রবল সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

‘আপনারা আমাদের রাস্তায় নামবেন না, গাড়ি চালাতে জানেন না মিস্টার সিং।’
‘আপনারা আমাদের রাস্তায় নামবেন না, গাড়ি চালাতে জানেন না মিস্টার সিং।’

শিখ সম্প্রদায়কে নিশানা করার অভিযোগ

বৃহস্পতিবার মার্কিন ডিএইচএস তাদের সেলফ ডিপোর্টেশনের প্রচারের অংশ হিসেবে ওই বিজ্ঞাপনটি এক্স-এ পোস্ট করেছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবিতে দেখা যায়, দাড়ি-গোঁফ থাকা এক বাদামি চেহারার পুরুষকে। ছবির সঙ্গে লেখা ছিল, ‘গেট অফ আওয়ার রোডস, ইউ ডোন্ট নো হাও টু ড্রাইভ মিস্টার সিং।’

‘সিং’ পদবি এবং ছবির চেহারার কারণে দ্রুতই অভিযোগ ওঠে, বিজ্ঞাপনটি আসলে শিখ সম্প্রদায়কে ইঙ্গিত করে তৈরি করা হয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের বিভিন্ন সংগঠন এই প্রচারের তীব্র বিরোধিতা করে। ডেমোক্র্যাট নেতারাও এই বর্ণবিদ্বেষী ও ভারতবিদ্বেষী বিজ্ঞাপনটিকে বর্ণবিদ্বেষী প্রচার হিসেবে আক্রমণ করেন।

সমালোচনার চাপে বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার

বিতর্ক বাড়তেই শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞাপনটি সরিয়ে নেয় ডিএইচএস। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিভিন্ন অধিকার সংগঠন। তাদের বক্তব্য, প্রশাসনের কোনও প্রচারই এমন হওয়া উচিত নয়, যেখানে একটি নির্দিষ্ট নাম, চেহারা বা সম্প্রদায়কে অপরাধ কিংবা অযোগ্যতার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়।

সমালোচকদের প্রশ্ন, বেআইনি অভিবাসন বা লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার থাকতেই পারে। কিন্তু সেই প্রচারে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের পরিচিত নাম ব্যবহার করে বার্তা দেওয়া কেন? তাদের দাবি, এই ধরনের প্রচার শুধু অপমানজনক নয়, আমেরিকায় বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের মধ্যে বৈষম্যের আশঙ্কাও বাড়ায়।

ট্রাম্প প্রশাসনের ‘কঠোর’ বার্তা

তবে একটি বিজ্ঞাপন সরিয়ে নেওয়া হলেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-বিরোধী প্রচারে কোনও নরম মনোভাব দেখা যায়নি। পরবর্তী পোস্টগুলিতে ডিএইচএস বেআইনি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরও কড়া বার্তা দিয়েছে। এমনকি অপরাধে অভিযুক্ত ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের নিয়েও পোস্ট করা হয়েছে।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার কি শুধুই বিতর্ক সামলানোর চেষ্টা, নাকি প্রশাসন সত্যিই বুঝতে পেরেছে যে প্রচারের ভাষায় সীমারেখা রয়েছে? সমালোচকদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন নীতিকে রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে বারবার অতিরিক্ত আগ্রাসী হয়ে উঠছে।

‘সিং’ বিতর্কে বড় প্রশ্ন

‘মিস্টার সিং’ লেখা ওই পোস্টটি শেষ পর্যন্ত মুছে ফেলা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই মার্কিন প্রশাসনের প্রচারের ধরন নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। আইন ভাঙার অভিযোগে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এক বিষয়, আর একটি সম্প্রদায়ের পরিচিত নাম ব্যবহার করে তাদের সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখানো সম্পূর্ণ অন্য বিষয়।

ট্রাম্প প্রশাসন বেআইনি অভিবাসন ঠেকানোর কথা বলছে। কিন্তু সেই লড়াইয়ে যদি বর্ণ, ধর্ম কিংবা পরিচয়ের ইঙ্গিত ঢুকে পড়ে, তা হলে প্রশাসনের নিজেরই বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। ‘মিস্টার সিং’ বিজ্ঞাপন বিতর্ক তাই ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন প্রচারের ভাষা ও মানসিকতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More