ইরানের হুমকি! খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বিমানে উঠেন ট্রাম্প, তুরস্ক সফরের বিস্ফোরক রিপোর্ট

Donald Trump Secret Flight: জানা যায়, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের জন্য তুরস্কে যাওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। তবে ফেরার সময় তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি বিমানে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন।

Published on: Aug 11, 2026, 12:11:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Donald Trump Secret Flight: তাঁকে ‘খুন’ করা হতে পারে। ইরানের (Iran) হিটলিস্টে রয়েছেন তিনি। মাসখানেক আগেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। শুধু তাই নয়, গত মাসে তুরস্ক (Turkey) থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (US) ফেরার সময় কাতার থেকে উপহার পাওয়া নিজের বিমানের বদলে তিরিশ বছরের পুরনো একটি বিমানে ফিরেছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের তড়িঘড়ি বিমান বদলে তোলপাড় হয়েছিল আন্তর্জাতিক মহল। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বদল নিয়ে আরও কিছু বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে। জানা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক বিমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছিলেন, এমনকী, নিরাপত্তার কারণে তাঁকে ফুড ক্যাটেরিং ট্রাকেও লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। এমনটাই দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টে।

খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বিমানে উঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (AP Photo/Mark Schiefelbein)
খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বিমানে উঠেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (AP Photo/Mark Schiefelbein)

জানা যায়, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের জন্য তুরস্কে যাওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। তবে ফেরার সময় তিনি পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি বিমানে ফিরবেন বলে জানিয়েছিলেন। ক্যামেরার সামনে তাঁকে ওই বিমানে চড়তেও দেখা যায়। তবে কিন্তু সেটি ছিল আসলে একটি ছদ্মবেশী ব্যবস্থা। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্পকে খাবার পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ একটি কার্টে করে বিমানটির নিচ থেকে বের করে আনা হয়। পরে গাড়িতে করে তাঁকে আরেকটি বিমানে নেওয়া হয়। ওই তৃতীয় বিমানেই গোপনে ব্রিটেনে যান তিনি। ওয়াশিংটন পোস্টও এর আগে গোপন এই অভিযানের খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পকে বহনকারী তৃতীয় বিমানটি ছিল সি-৩২এ, যা বোয়িং ৭৫৭-এর একটি সামরিক সংস্করণ। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরও সব প্রশ্ন হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে, মূল টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিতে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের কয়েকজন কর্মীকে ওঠানো হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাকালীন প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিকরা জানতেনই না যে তাদের বিমানে প্রেসিডেন্ট নেই। ট্রাম্পের বিমান পৌঁছানোর কয়েক মিনিট পর ওই ডিকয় বা টোপ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানটি ব্রিটেনে অবতরণ করে। পরবর্তীতে এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের শুধু জানিয়েছিলেন যে, তারা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ফ্লাইটে ছিলেন। পাশাপাশি, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প একটি পোস্টে জানান, পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি এই পুরোনো বিমানটি ব্যবহার করছেন। এটি ছিল মূলত হামলাকারীদের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর একটি সুপরিকল্পিত টোপ।

ট্রাম্পকে গোপনে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায়, মার্কিন কর্মকর্তারা ইরানের হুমকিকে গুরুতর ও বিশ্বাসযোগ্য মনে করেছিলেন। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্প যে বিমানেই ভ্রমণ করতেন, সেটিই সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারত। ট্রাম্পের গোপন তৃতীয় বিমানে যাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউং বলেন, কাতারের দেওয়া বিমানে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমন বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক শত্রু তাঁকে টার্গেট করছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা ব্যবহার করি।’ ওয়াশিংটন পোস্টকেও একই বক্তব্য দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।

কাতারের উপহার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সাল থেকে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমান ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত দুটি পুরোনো বোয়িং ৭৪৭–এর অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। পরে গত বছর কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বিলাসবহুল একটি বিমানকে দ্রুত সংস্কার করে তিনি সেটিকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করা শুরু করেন। গত ১ জুলাই প্রথমবারের মতো এটি ট্রাম্পকে নিয়ে নর্থ ডাকোটায় পৌঁছয়। মাত্র কয়েক দিন পর তিনি বিমানে প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে যান। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান একটি অত্যাধুনিক বিমান, যাতে উচ্চমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। এটি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।