Trump on Artificial Intelligence: AI নিয়ে আতঙ্ককে ‘ভাঁওতা’ বললেন ট্রাম্প, NVDIA-র মঞ্চে ফোনে সরব মার্কিন প্রেসিডেন্ট

ট্রাম্পের বক্তব্য, এআই উন্নয়নের গতি কমানোর যে দাবি উঠছে, তার পিছনে রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে। এমনকি এর মাধ্যমে চিনও লাভবান হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর মতে,আমেরিকার এআই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত এমন শক্তিরই সুবিধা করবে, যারা এই প্রযুক্তিতে আমেরিকার এগিয়ে যাওয়া দেখতে চায় না।

Updated on: Sep 15, 2026, 10:15:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যখন প্রযুক্তি দুনিয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলায়। সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে All-In Summit-এর একটি প্যানেল আলোচনার মাঝেই Nvidia-র CEO জেনসেন হুয়াংয়ের ফোনে সরাসরি কল করেন ট্রাম্প। মঞ্চে সেই ফোন ধরেন হুয়াং। আর সেখানেই এআই নিয়ে বাড়তে থাকা আশঙ্কাকে কার্যত ‘ভাঁওতা’ বা ‘hoax’ বলে উড়িয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যখন প্রযুক্তি দুনিয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলায়। (AP Photo/Mark Humphrey)
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে যখন প্রযুক্তি দুনিয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই সম্পূর্ণ উল্টো সুর শোনা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গলায়। (AP Photo/Mark Humphrey)

ট্রাম্পের বক্তব্য, এআই উন্নয়নের গতি কমানোর যে দাবি উঠছে, তার পিছনে রাজনৈতিক স্বার্থ থাকতে পারে। এমনকি এর মাধ্যমে চিনও লাভবান হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তাঁর মতে, আমেরিকার এআই অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত এমন শক্তিরই সুবিধা করবে, যারা এই প্রযুক্তিতে আমেরিকার এগিয়ে যাওয়া দেখতে চায় না।

জেনসেন হুয়াংও ট্রাম্পের বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বিষয়টির জটিল দিকগুলি বুঝতে পেরেছেন এবং আসল ছবিটা দেখতে সক্ষম হয়েছেন। অর্থাৎ দ্রুত এআই উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা—এই দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করা ঠিক নয় বলেই মনে করেন Nvidia-র প্রধান।

তবে হুয়াং এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা গবেষকদের পুরোপুরি খারিজও করেননি। বরং Anthropic-এর প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সনের সাহসের প্রশংসা করেছেন। কক্সন সম্প্রতি পদত্যাগ করে এআই নিয়ে গুরুতর আশঙ্কার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। হুয়াংয়ের মতে, নিজের প্রতিষ্ঠানের ভিতরের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করা ‘whistleblower’-দের গুরুত্ব দিয়ে শোনা উচিত। কোনও সংস্থার ভিতর থেকে কেউ গুরুতর বিপদের কথা জানালে সেটি উপেক্ষা করা উচিত নয় বলেও তিনি বার্তা দিয়েছেন।

এই বিতর্কের সূত্রপাত সাম্প্রতিক কয়েকটি সতর্কবার্তাকে ঘিরে। জ্যাকব কক্সন পদত্যাগের সময় অভিযোগ করেছিলেন, Anthropic ও OpenAI-সহ বড় এআই সংস্থাগুলি এমন এক প্রযুক্তির দিকে ছুটছে, যার ঝুঁকি শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনকেই বিপন্ন করতে পারে। তিনি বলেছিলেন, সংস্থাগুলি কার্যত মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘জুয়া’ খেলছে।

এর পরেই এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণ করার দাবি আরও জোরালো হয়। শনিবার Anthropic-এর CEO দারিও আমোডেই একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি এআই-এর সম্ভাব্য ঝুঁকি সামলাতে কিছুটা ধীরগতির উন্নয়নের পক্ষে মত দেন। তাঁর এই অবস্থানকে পরে OpenAI-এর CEO স্যাম অল্টম্যান এবং SpaceX-এর CEO ইলন মাস্কও সমর্থন করেন।

এই বিতর্কের প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও। সোমবার এআই খাতে বিনিয়োগের গতি কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কায় মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলির শেয়ারে বড় পতন দেখা যায়। Nvidia-র শেয়ারও ৩.৪ শতাংশ কমে যায়। এআই মডেল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিপের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে Nvidia গত কয়েক বছরে এআই অবকাঠামো তৈরির বিস্ফোরক বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীদের একটি।

অন্যদিকে ট্রাম্প এআই-ভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের জোরালো সমর্থক। বিভিন্ন মার্কিন অঙ্গরাজ্যে নতুন ডেটা সেন্টার তৈরির অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিকাঠামো তৈরি হলে সাধারণ মানুষ এবং রাজ্য—দুই পক্ষই বিপুল অর্থনৈতিক লাভ পেতে পারে।

ট্রাম্প এআই-কে আগামী দিনের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সম্পদ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের জন্য এটি ‘তেলের’ মতো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এমনকি তাঁর মতে, এআই-এর সম্ভাবনা ইন্টারনেটের থেকেও বড়।

ফলে একই সময়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় দুটি বিপরীত বার্তা সামনে এসেছে। একদিকে গবেষক ও কিছু প্রযুক্তি সংস্থা উন্নয়নের গতি কমিয়ে নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলছে। অন্যদিকে ট্রাম্প ও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব মনে করছেন, অতিরিক্ত আতঙ্ক এআই বিপ্লবকে পিছিয়ে দিতে পারে। এখন প্রশ্ন, দ্রুত অগ্রগতি আর নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য শেষ পর্যন্ত কীভাবে তৈরি হবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More