Trump on Zelensky: ‘নতুন প্রেসিডেন্ট আনুক ইউক্রেন’, রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তির পরেই জেলেনস্কিকে সরানোর বার্তা ট্রাম্পের

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরাসরি নিশানা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর পরামর্শ, ইউক্রেনের এ বার নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। এমন একজন নেতা দরকার, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে যুদ্ধ থামাতে পারবেন।

Published on: Oct 11, 2026, 08:07:02 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামছে না। তার মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরাসরি নিশানা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর পরামর্শ, ইউক্রেনের এ বার নতুন প্রেসিডেন্ট বেছে নেওয়ার সময় এসেছে। এমন একজন নেতা দরকার, যিনি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করে যুদ্ধ থামাতে পারবেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, জেলেনস্কি একাধিক বার চুক্তির সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাননি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আমেরিকার ডিজেল সরবরাহের চুক্তি হওয়ার পরেই এই আক্রমণ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরাসরি নিশানা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (AP Photo/Nathan Howard)
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সরাসরি নিশানা করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। (AP Photo/Nathan Howard)

‘নতুন নেতা দরকার’, কেন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প?

শনিবার, ১০ অক্টোবর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জেলেনস্কিকে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, ‘‘ইউক্রেনের এমন এক জন নতুন নেতা দরকার, যিনি চুক্তি করতে পারবেন। জেলেনস্কি কেন বার বার সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন, তা বুঝতে পারি না।’’

শুধু জেলেনস্কির নেতৃত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ২০২২ সালে তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থাকলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুই হত না। এই যুদ্ধকে নেতৃত্বের ব্যর্থতার ফল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের অভিযোগ, এই যুদ্ধে ইউক্রেনের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁর দাবি, দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকা হারিয়েছে ইউক্রেন। দুই পক্ষের মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ২০ লক্ষ ছাড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও ট্রাম্পের দেওয়া এই পরিসংখ্যান স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। যুদ্ধের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাবেও পার্থক্য রয়েছে।

পুতিনের সঙ্গে ডিজেল চুক্তি, ক্ষোভ জেলেনস্কির

ট্রাম্পের এই আক্রমণের পিছনে রয়েছে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সাম্প্রতিক ডিজেল চুক্তি। জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার কথা ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়া অবিলম্বে আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ৩ লক্ষ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। পরবর্তী সময়েও আরও ডিজেল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কিন্তু এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ জেলেনস্কি। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়ার উপর থেকে জ্বালানি সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে মস্কোর যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা আরও বাড়বে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এই সিদ্ধান্তকে সহযোগীদের কাছ থেকে আসা দুর্বল পদক্ষেপ বলেও সমালোচনা করেছেন।

জেলেনস্কির অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পরেই রাশিয়া ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে হামলা চালিয়েছে। আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়েছে রুশ বোমা। ফলে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার এই চুক্তি নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধ থামাতে চাপ, নাকি ইউক্রেনের উপর দায় চাপানো?

ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট, ইউক্রেনের যুদ্ধনীতি নিয়ে তিনি আর সন্তুষ্ট নন। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে ইউক্রেনের হামলার বিরোধিতা করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের হামলা জ্বালানির বাজারে সমস্যা তৈরি করছে। আমেরিকার কৃষক ও ব্যবসায়ীদেরও তার খেসারত দিতে হচ্ছে।

অন্য দিকে, ইউক্রেনের যুক্তি, রাশিয়ার সামরিক শক্তি দুর্বল করতে সে দেশের জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলা চালানো প্রয়োজন। কিয়েভের আশঙ্কা, রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার নতুন সমঝোতা মস্কোকে আর্থিক সুবিধা দেবে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ থামানোর প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে। এক দিকে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প, অন্য দিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে অনড় জেলেনস্কি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বদলের পক্ষে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সওয়াল সেই সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে দিল।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More