Turkey-India Relation Update: পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ তুরস্কের সুর বদল? ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতে উদ্যোগ
একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। এরই মাঝে আবার নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার বার্তা দিচ্ছে আঙ্কারা। এর পিছনে কূটনৈতিক হিসাবের পাশাপাশি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থ।
অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো তুরস্ক এবার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠতা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। এরই মাঝে আবার নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করার বার্তা দিচ্ছে আঙ্কারা। এর পিছনে কূটনৈতিক হিসাবের পাশাপাশি রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক স্বার্থ। একই সময়ে সাংহাই সহযোগিতা সংগঠন বা এসসিও-র পূর্ণ সদস্য হওয়ার তুরস্কের আগ্রহও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যব এরদোয়ান ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন, এসসিও-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়া বা পূর্ণ সদস্য হওয়ার প্রচেষ্টা মানেই পশ্চিমা দেশ কিংবা ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাওয়া নয়। এই সবের মাঝেই ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে সম্প্রতি সরাসরি বার্তা দিয়েছেন তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান। তাঁর বক্তব্য, ভারত ও তুরস্কের মধ্যে কোনও সীমান্ত সমস্যা নেই, কোনও বড় দ্বিপাক্ষিক বিরোধও নেই। অতীতেও দুই দেশের মধ্যে এমন কোনও খারাপ ইতিহাস নেই, যা সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বরং সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই দেশের সামনে বহু সুযোগ রয়েছে বলেই দাবি তাঁর।
ফিদান আরও জানিয়েছেন, তুরস্ক বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও নেতিবাচক বিষয়গুলিকে সরিয়ে ইতিবাচক এজেন্ডা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ভারত-তুরস্ক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণের পক্ষে তিনি। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তানের সঙ্গে তুরস্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাই বলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খারাপ হওয়ার কোনও কারণ নেই।
এর পিছনে অর্থনৈতিক স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। ভারতীয় বাজার, ব্যবসা, বিনিয়োগ এবং পরিকাঠামো ক্ষেত্রে তুরস্কের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে, তুরস্কে ভারতীয় পর্যটকদের উপস্থিতিও দেশটির পর্যটন ও পরিষেবা খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্ক ভারত থেকে বিভিন্ন রাসায়নিক, যন্ত্রপাতি ও অটোমোবাইল-সম্পর্কিত পণ্য আমদানি করে। আবার ভারতীয় বাজারে তুরস্কের মার্বেল, যন্ত্রপাতি এবং কৃষি-সংক্রান্ত পণ্যের চাহিদা রয়েছে।
তবে সম্পর্কের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে তুরস্কের অবস্থান। এরদোয়ান একাধিকবার কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পক্ষে বক্তব্য রেখেছেন। পাহেলগাম হামলার পর ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেছিল আঙ্কারা। অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তান তুরস্কে তৈরি কিছু ড্রোন ব্যবহার করেছিল বলেও বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়।
তবু গত কয়েক মাসে বরফ গলার ইঙ্গিত মিলেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে চার বছর পর ভারত ও তুরস্কের মধ্যে বিদেশ দফতর পর্যায়ে আলোচনা ফের শুরু হয়। দুই পক্ষই ভুল বোঝাবুঝি ও মতপার্থক্য কমিয়ে সংলাপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে। সম্প্রতি ভারতীয় নাগরিক তথা মাদক পাচারকারী সলিম ডোলার প্রত্যর্পণেও তুরস্ক সহযোগিতা করেছে বলে জানা গিয়েছে। অন্য অপরাধীদের প্রত্যর্পণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।
পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে তুরস্কের বক্তব্যও তাৎপর্যপূর্ণ। আঙ্কারার দাবি, পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা কোনও নতুন উদ্যোগ নয়, বরং পুরনো প্রতিরক্ষা সমঝোতার ধারাবাহিকতা। এরই মধ্যে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে তুরস্ক মক্কা চুক্তিতে সই করেছে।
সব মিলিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেও ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করছে তুরস্ক। অর্থনীতি, কূটনীতি এবং এসসিও-র সমীকরণ—সব মিলিয়ে আগামী দিনে দিল্লি-আঙ্কারা সম্পর্ক কোন পথে যায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


