TVK-Congress Tussle: ২০২৯-এ ‘বিজয় ফর পিএম’ প্রচার, তামিলনাড়ুতে টিভিকে-কে কটাক্ষ জোটসঙ্গী কংগ্রেসের

তামিলনাড়ুর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ডি সারথকুমারও বিজয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে ‘পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বিজয় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এবং মানুষের কাছে তিনি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে সেই নেতৃত্ব দেশের স্তরেও পৌঁছবে বলেই তাঁর প্রত্যাশা।

Published on: Aug 26, 2026, 11:33:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা তামিলগা ভেত্রি কাজাগমের প্রধান সি জোসেফ বিজয়কে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা বাড়ছে দলের অন্দরে। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক টিভিকে নেতা প্রকাশ্য সভায় বিজয়কে দেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরেছেন। আর এই প্রচার নিয়েই কংগ্রেসের সঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক চাপানউতোর।

HT Image
HT Image

রবিবার তিরুপুরে আয়োজিত এক সভায় টিভিকে-র প্রবীণ নেতা কে এ সেনগোট্টাইয়ান দাবি করেন, শুধু তামিলনাড়ু নয়, উত্তর ভারতের মানুষও বিজয়কে দেশের নেতৃত্বে দেখতে চাইছেন। তাঁর কথায়, বিজয়ের মধ্যে গোটা দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এম জি রামচন্দ্রন এবং জয়ললিতার পর বিজয়ই এমন এক নেতা, যিনি তামিলনাড়ুর পাশাপাশি ভবিষ্যতের ভারতকেও নেতৃত্ব দিতে পারেন।

টিভিকে সরকারের ১০০ দিনের কাজের খতিয়ান তুলে ধরতে ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই দলের নেতাদের বক্তব্যে বিজয়কে জাতীয় রাজনীতির সম্ভাব্য মুখ হিসেবে তুলে ধরার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।

তামিলনাড়ুর মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী ডি সারথকুমারও বিজয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁকে ‘পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বিজয় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এবং মানুষের কাছে তিনি ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে সেই নেতৃত্ব দেশের স্তরেও পৌঁছবে বলেই তাঁর প্রত্যাশা।

টিভিকে বিধায়ক কল্লানাইও একই সুরে কথা বলেন। তাঁর দাবি, বিজয়ের নেতৃত্বের উপর মানুষের বিপুল আস্থা রয়েছে। একদিন তিনি দেশের নেতৃত্ব দেবেন এবং লালকেল্লা থেকে তামিল জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন বলেও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

টিভিকে-র নেতাদের এই ‘বিজয় ফর পিএম’ প্রচার নিয়েই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে কংগ্রেস। তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ বি মানিকম ঠাকোর বলেন, টিভিকে-র নেতারা এখনও ‘ফ্যান ক্লাব’-এর মানসিকতা থেকে বেরোতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য, দলের নেতাদের নিজেদের প্রিয় নেতাকে নিয়ে আবেগ বা প্রত্যাশা থাকতেই পারে, কিন্তু জাতীয় রাজনীতির বাস্তবতা আলাদা।

কংগ্রেস সাংসদ কার্তি চিদম্বরমও একই সুরে বলেন, দলের কর্মীদের নিজেদের নেতার প্রতি ভালোবাসা ও প্রশংসা থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা ঠিক করে লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা। তাঁর বক্তব্য, লোকসভায় মোট ৫৪৩টি আসন রয়েছে এবং সংবিধান অনুযায়ী যে দল বা জোট অন্তত ২৭২টি আসনের সমর্থন পাবে, তার নেতাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে শুধু দলের ভিতরের জনপ্রিয়তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব নয়।

কংগ্রেস সাংসদ পি জ্যোথিমানিও টিভিকে-র নেতাদের উদ্দেশে বলেন, দলটির উচিত তামিলনাড়ুর প্রশাসন এবং রাজ্যের মানুষের সমস্যা সমাধানে বেশি মন দেওয়া। একই সঙ্গে কংগ্রেস বা ইন্ডিয়া জোটের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে রাহুল গান্ধি ছাড়া অন্য কাউকে তারা মেনে নেবেন না বলেও বার্তা দেন তিনি।

এই বিতর্কের সময়ে কংগ্রেসও ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গান্ধিকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সামনে আনার চেষ্টা করছে। ফলে তামিলনাড়ুতে বিজয়কে ঘিরে জাতীয় রাজনীতির প্রচার কংগ্রেসের সঙ্গে টিভিকে-র রাজনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, টিভিকে ও কংগ্রেসের পুরনো যোগাযোগের প্রসঙ্গও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। বি মানিকম ঠাকোরের দাবি, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর টিভিকে-র ১০৮টি আসনে জয়ী হওয়ার পর সরকার গঠনে কংগ্রেসের সমর্থন চেয়ে বিজয় প্রথমে রাহুল গান্ধির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁর দাবি, টিভিকে-র বর্তমান মন্ত্রীরাও সেই ঘটনার বিষয়ে অবগত।

সব মিলিয়ে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এখন শুধু রাজ্য সরকার নয়, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে ঘিরেও বিজয়কে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লড়াইয়ে শেষ কথা বলবে লোকসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতা—কংগ্রেস সেই রাজনৈতিক বাস্তবতাই সামনে আনছে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More