NEET paper leak case: ৩০ লক্ষে প্রশ্ন কেনাবেচা! নিট-কাণ্ডে পুলিশের জালে রাজস্থানের ২ ভাই, আপের নিশানা কেন BJP?

NEET paper leak case: তদন্তকারী সূত্রে খবর, গত ২৬ এপ্রিল গুরুগ্রামের ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কেনেন রাজস্থানের দুই ভাই মাঙ্গিলাল ও দিনেশ বিওয়াল। ইতিমধ্যেই ওই দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

Published on: May 13, 2026 3:02 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

NEET paper leak case: ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। এবার তদন্তকারীদের আতসকাচের তলায় গুরুগ্রামের এক চিকিৎসক। প্রাথমিক তদন্তে মহারাষ্ট্রের নাসিক থেকে প্রশ্ন ফাঁসের সূত্রপাত মনে করা হলেও, বর্তমানে তদন্তের অভিমুখ ঘুরে গিয়েছে হরিয়ানার গুরুগ্রামের দিকে। উঠে এসেছে জনৈক এক চিকিৎসকের নাম, যিনি এই চক্রের অন্যতম ‘মাথা’ বলে মনে করা হচ্ছে।

নিট-কাণ্ডে পুলিশের জালে রাজস্থানের ২ ভাই (সৌজন্যে টুইটার)
নিট-কাণ্ডে পুলিশের জালে রাজস্থানের ২ ভাই (সৌজন্যে টুইটার)

তদন্তকারী সূত্রে খবর, গত ২৬ এপ্রিল গুরুগ্রামের ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কেনেন রাজস্থানের দুই ভাই মাঙ্গিলাল ও দিনেশ বিওয়াল। ইতিমধ্যেই ওই দুই ভাইকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁরা জামওয়া রামগড়ের বাসিন্দা। তদন্তে জানা গিয়েছে, গত ২৬ এপ্রিল প্রশ্নপত্রটি হাতে পাওয়ার পর মাঙ্গিলাল তা তুলে দেন তাঁর ছেলের হাতে। ওই তরুণ রাজস্থানের সিকরে থেকে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে শুধু নিজের পরিবারেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তাঁরা। অভিযোগ, ২৯ এপ্রিল তাঁরা সেই প্রশ্নপত্রটি চড়া দামে একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে দেন। এই চক্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উঠে আসছে সিকরের নাম, জামওয়া রামগড় থেকে যার দূরত্ব মাত্র আড়াই ঘণ্টা।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, জামওয়া রামগড় থেকে প্রশ্নপত্রটি পৌঁছয় সিকারের এক এমবিবিএস কাউন্সেলিং এজেন্ট রাকেশ কুমার মাণ্ডওয়ারিয়ার কাছে। রাকেশ কোনও নামী কোচিং ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও তাঁর নিজস্ব নেটওয়ার্ক চালাতেন। তিনি ৩০ হাজার টাকায় প্রশ্নটি বিক্রি করেন তাঁর এক সহযোগীকে, যিনি কেরলে এমবিবিএস পড়ছেন। এরপর পরীক্ষার আগের দিন ওই ছাত্র তাঁর বাবাকে প্রশ্নপত্রটি পাঠিয়ে মেসেজ করেন, 'পাপা, সিকরের এক বন্ধু এটা পাঠিয়েছে। তোমার হোস্টেলের মেয়েদের এটা দিয়ে দাও। কালকের পরীক্ষায় এগুলোই আসবে।' ওই ছাত্রের বাবা সিকরে একটি পিজি চালান। মেসেজ পাওয়ার পরই তিনি হোস্টেলের ছাত্রীদের মধ্যে প্রশ্নপত্রটি ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ। রাজস্থান পুলিশ সূত্রে খবর, এই প্রশ্নফাঁসের উৎস সম্ভবত নাসিকের কোনও প্রিন্টিং প্রেস। সেখান থেকেই একটি শক্তিশালী ‘চেইন নেটওয়ার্ক’-এর মাধ্যমে প্রশ্নপত্রটি গুরুগ্রামের ওই চিকিৎসকের কাছে পৌঁছয়। তবে গুরুগ্রামের ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি ডাঃ রাজেশ কাটারিয়া জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত কোনও তদন্তকারী সংস্থা ওই অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

এদিকে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই ভাইয়ের মধ্যে ধৃত দিনেশের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে আম আদমি পার্টি। রাজস্থানের একাধিক বিজেপি নেতাদের সঙ্গে দিনেশের ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে আপ লিখেছে, বিজেপি সরকারের ছত্রছায়ায় একজন বিজেপি নেতার মাধ্যমে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাটি সাজানো হয়েছিল। নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বিজেপি নেতা দিনেশ বিওয়ালের গ্রেফতারি আবারও প্রমাণ করেছে যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা মাফিয়া ও ক্ষমতার আঁতাতের শিকার হয়েছে। প্রশ্নপত্রটি ৩০ লক্ষ টাকায় কেনা হয়েছিল এবং তারপর বিভিন্ন সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। এরপরেই আপ প্রশ্ন তুলেছে, 'যখনই কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, কেন বিজেপি নেতা, বিজেপির সঙ্গে সংযোগ এবং অভিযুক্তকে বিজেপি নেতাদের সুরক্ষায় থাকা অভিযোগ সব সময় সামনে আসে? ডাবল-ইঞ্জিন বিজেপি সরকারের অধীনে প্রতিটি বড় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন সবসময় বিজেপি নেতারাই জড়িত থাকেন?'