Cargo Ship Sank: বঙ্গোপসাগরে ডুবেছে জাহাজ! ২ চিনা নাবিককে উদ্ধার ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর, এখনও নিখোঁজ ২২
Cargo Ship Sank: মঙ্গলবার উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, আইসিজিএস বরাদ তল্লাশি এলাকায় এমভি ওশান উইনারের একটি লাইফবোট খুঁজে পায়। একটি বোর্ডিং টিম লাইফবোটটি পরীক্ষা করে, কিন্তু সেখানে কোনও নাবিককে পাওয়া যায়নি।
Cargo Ship Sank: সম্প্রতি ২০ জন চিনা নাগরিক-সহ ২৪ জন নাবিককে নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবে যায় বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনকারী জাহাজ (কার্গো শিপ)। বৃহস্পতিবার ডুবে যাওয়া সেই বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি ওশান উইনারের দুই চিনা নাবিককে নিরাপদে পারাদ্বীপে নিয়ে এল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ (ICG) 'বরাদ।' এদিকে, প্রায় এক সপ্তাহ পরেও বাকি ২২ জন নিখোঁজ ক্রু সদস্যের খোঁজে এখনও তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর (Indian Coast Guard) পাবলিক রিলেশন অফিসার (PRO) কমান্ড্যান্ট অমিত উনিয়াল জানিয়েছেন, ২২ আগস্ট একটি লাইফ-র্যাফট থেকে উদ্ধারের পর ভারতীয় কোস্ট গার্ডের জাহাজ ‘বরাদ’ প্যান টংলাই এবং চেন জিয়ানহেকে পারাদ্বীপে নিয়ে আসে। একটি সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, '২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট, উদ্ধার হওয়া দুই নাবিককে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ বরাদে করে নিরাপদে পারাদ্বীপে আনা হয়েছে। যাত্রাপথে তাদের চিকিৎসা করা হয় এবং ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন ও স্থানীয় পুলিশের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কোম্পানির এজেন্টদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।'
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজে করে পারাদ্বীপে আনার সময় পুরো পথেই তাঁদের চিকিৎসা চলে। পারাদ্বীপে পৌঁছানোর পর ব্যুরো অফ ইমিগ্রেশন এবং স্থানীয় পুলিশের উপস্থিতিতে তাঁদের শিপিং কোম্পানির এজেন্টদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। তাঁরা আরও জানান, ভাষাগত সমস্যার কারণে ওই দুই চিনা নাগরিকের কাছ থেকে খুব বেশি তথ্য জানা যায়নি। মঙ্গলবার উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, আইসিজিএস বরাদ তল্লাশি এলাকায় এমভি ওশান উইনারের একটি লাইফবোট খুঁজে পায়। একটি বোর্ডিং টিম লাইফবোটটি পরীক্ষা করে, কিন্তু সেখানে কোনও নাবিককে পাওয়া যায়নি। তবে আইসিজিএস বরাদ ওই এলাকার অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের জন্য ব্যাপক তল্লাশি চালাচ্ছে। আকাশপথে তল্লাশির সময়, একটি নৌবাহিনীর বিমান একটি বিপদ সংকেত শনাক্ত করে এবং আইসিজিএস বরাদকে নির্দিষ্ট স্থানের দিকে পথ দেখায়।
পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজটি ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক নিয়ে চিনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে প্রায় ৭১,২০০ মেট্রিক টন আয়রন ওর ফাইনস বা সূক্ষ্ম লৌহ আকরিক ছিল। বন্দর থেকে প্রায় ২৯০ নটিক্যাল মাইল দূরে পৌঁছনোর পরে জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক নটিক্যাল মাইল প্রায় ১.৮৫২ কিলোমিটারের সমান। সেই হিসাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় জাহাজটি পারাদ্বীপ থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দূরে ছিল। এই কার্গো জাহাজটিতে মোট ২৪ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। এর মধ্যে ২০ জন চিনের, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। এদিকে, বঙ্গোপসাগরের গভীরে নির্দিষ্ট এলাকায় তল্লাশি চালানোর জন্য আরও ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর (ICG) জাহাজ এবং বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। নিখোঁজ ২২ জন ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করতে কর্তৃপক্ষ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে।
E-Paper

