Hantavirus: বাড়ছে আশঙ্কা! হান্টাভাইরাসের হানায় আক্রান্ত জাহাজে দুই ভারতীয়, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
Hantavirus: বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মূলত ইঁদুর থেকে ছড়ায় হান্টাভাইরাস। ইঁদুরের মলমূত্র, দেহাবশেষ থেকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
Hantavirus: সাম্প্রতিক সময়ে 'এমভি হন্ডিয়াস' ক্রুজ থেকে হান্টাভাইরাস সংক্রমণের কথা বারবার খবরের শিরোনামে এসেছে। আটলান্টিক মহাসাগরে এই বিলাসবহুল ক্রুজ থেকে এই ভাইরাস ছড়াচ্ছিল। ওই ক্রুজে ছিল মোট ১৪৯ জন যাত্রী। কিন্তু এই যাত্রীদের মধ্যে নাকি ছিলেন দুই জন ভারতীয়। আর এই নিয়েই বাড়ছে চিন্তা। এই দুইজন ভারতীয় এখন কোথায়? তা নিয়ে মেলেনি কোনও স্পষ্ট খবর। তবে ভারতীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি সংস্থাগুলি বলছে যে হান্টাভাইরাস নিয়ে দেশের এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। কারণ ভারতে এর আগেও বিচ্ছিন্নভাবে হান্টাভাইরাস সংক্রমণ এবং এর সংস্পর্শে আসার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

সূত্রের খবর, ওই জাহাজটিতে থাকা দুই ভারতীয় নাগরিক বর্তমানে উপসর্গবিহীন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু) বলেছে যে, হান্টাভাইরাস নিয়ে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। এমভি হন্ডিয়াস নামের এই জাহাজটি এক মাস আগে আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এরপরেই এই জাহাজে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তিনটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং আরও পাঁচটি সন্দেহভাজন। চারজন যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য জাহাজ থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই ভাইরাসের সংক্রমণে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংক্রমণে যে 'অ্যান্ডেস স্ট্রেইন' পাওয়া গিয়েছে, সেটি খুব বিরল এবং মারাত্মক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোভিডের থেকেও এই ভাইরাসের মৃত্যুর হার বেশি। তবে সাধারণত হান্টাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। তবে এর অ্যান্ডেস স্ট্রেইন খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে সীমিতভাবে ছড়াতে পারে। তবে, এই ভাইরাস কোভিড-১৯ বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সহজেই মানুষের মধ্যে ছড়ায় না।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, মূলত ইঁদুর থেকে ছড়ায় হান্টাভাইরাস। ইঁদুরের মলমূত্র, দেহাবশেষ থেকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। পশুর থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। করোনার মতোই আরএনএ ভাইরাস হওয়ায় হান্টা দ্রুত এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢুকলে ফুসফুস ও কিডনির ক্ষতি করে দেয়। ফুসফুসের গুরুতর সংক্রমণে, যা কার্ডিওপালমোনারি হান্টাভাইরাস ডিজিজ নামে পরিচিত, মৃত্যুর হার ৩০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। পিএসআরআই ইনস্টিটিউট অফ পালমোনারি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড স্লিপ মেডিসিনের চেয়ারম্যান ডা. জি সি খিলনানি বলেন, কোভিড-১৯ এর মতো এই ভাইরাস অতটা সংক্রামক নয় এবং প্রধানত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মলের সংস্পর্শে ছড়ায় এটি ছড়ায়। তিনি বলেছেন, ভারতে এখন পর্যন্ত কেবল বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা দেখা গেছে। স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের বায়োটেকনোলজি ও রিসার্চ বিভাগের চেয়ারপার্সন ডা. এন কে গাঙ্গুলি বলেছেন, অ্যান্ডেস স্ট্রেইনটি এর আগে আর্জেন্টিনার প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং প্রাথমিকভাবে এটি কোভিড-সদৃশ শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতার লক্ষণ দেখাতে পারে। তিনি বলেন, 'রোগীদের প্রথমে জ্বর, শরীরে ব্যথা, অসুস্থ বোধ এবং হালকা শ্বাসকষ্টজনিত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এরপর কারও কারও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তাদের নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
E-Paper

