UAE: ইরান যুদ্ধের ইতি নেই! ক্ষতি সামাল দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ প্রস্তাব UAE-র
UAE: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
UAE: ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সম্ভাব্য আর্থিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের' একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সংঘাত আরও তীব্র হলে এবং অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করলে সম্ভাব্য বিকল্প ব্যবস্থা কী হতে পারে, তা নিয়েই মূলত এই আলোচনা চলছে।

এই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের গভর্নর খালেদ মহম্মদ বালামারের কারেন্সি সোয়াপ লাইনের প্রস্তাব। ফেডারেল রিজার্ভ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট-সহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তবে এটিকে আনুষ্ঠানিক কিছু নয়, বরং প্রাথমিক পর্যায়ের পরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির কর্মকর্তারা 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'কে জানান, এখনও পর্যন্ত দেশটি সংঘাতের সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক প্রভাব এড়াতে সক্ষম হলেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি রয়ে গিয়েছে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা হঠাৎ সৃষ্ট ধাক্কা সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে। এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে যে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমিয়ে দিতে পারে এবং পুঁজি পাচারের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত সোয়াপ লাইনের জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়নি।
অর্থনীতির উপর যুদ্ধের প্রভাব
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় দেশটির ডলার আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ফুজাইরাহর শাসক শেখ হামাদ বিন মহম্মদ আল শারকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ইস্যু পর্যালোচনার পাশাপাশি জনকল্যাণকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির নীতিনির্ধারণ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কেন্দ্রে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। এই সফরের অংশ হিসেবে দুই নেতা ফুজাইরাহ বন্দর পরিদর্শন করেন। বন্দরে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও উচ্চমাত্রার পরিচালন দক্ষতা বজায় রাখতে নিয়া পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করেন এই দুই নেতা। পাশাপাশি, দুই নেতা দেশের জাতীয় উন্নয়ন এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এদিকে, সম্প্রতি এবিসি-র 'দিস উইক'কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রিম বিনতে ইব্রাহিম আল হাশেমি বলেন, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ২৮০০-রও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
E-Paper

