UAE Silent on Omani Copilot: ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে নয়া রহস্য, ওমানি সহ পাইলটের পরিচয় নিয়ে নীরব সংযুক্ত আরব আমিরশাহি

অভিযুক্ত ওমানি সহ পাইলটের পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। কেন তিনি বিমানের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেছিলেন, তিনি একা ছিলেন কি না, নাকি এর পিছনে আরও কেউ ছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। 

Published on: Oct 2, 2026, 13:02:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

মাঝ আকাশে ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানের ককপিটে হামলার ঘটনায় রহস্য ক্রমেই ঘন হচ্ছে। অভিযুক্ত ওমানি সহ পাইলটের পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। কেন তিনি বিমানের ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা করেছিলেন, তিনি একা ছিলেন কি না, নাকি এর পিছনে আরও কেউ ছিল, সেই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ বা আগে থেকে তৈরি কোনও পরিকল্পনার যোগ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

People disembark from a FlyDubai carrying Israeli passengers who had earlier been aboard another FlyDubai aircraft that made an emergency landing in Saudi Arabia approaches Ben Gurion International Airport near Tel Aviv, Israel, Wednesday, Sept. 30, 2026. (AP Photo/Ariel Schalit) (AP Photo/Ariel Schalit)
People disembark from a FlyDubai carrying Israeli passengers who had earlier been aboard another FlyDubai aircraft that made an emergency landing in Saudi Arabia approaches Ben Gurion International Airport near Tel Aviv, Israel, Wednesday, Sept. 30, 2026. (AP Photo/Ariel Schalit) (AP Photo/Ariel Schalit)

ঘটনাটি ঘটে বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানে। দুবাই থেকে তেল আবিবের দিকে যাচ্ছিল বিমানটি। মাঝ আকাশে আচমকাই ককপিটের মধ্যে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছরের উপর হামলা চালান তাঁর সহ পাইলট বলে অভিযোগ। হামলার জেরে বিমানটি আচমকা প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলেও আহত অবস্থাতেই স্মিত ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এর পর যাত্রী এবং বিমানকর্মীদের কয়েক জন এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটির জরুরি অবতরণ করা হয়।

তাবুকে নামার পর সৌদি কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সহ পাইলটকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরে বৃহস্পতিবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তার পর থেকেই তদন্তের মূল দায়িত্ব সামলাচ্ছে আবু ধাবি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তের নাম বা তাঁর বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। কোন অস্ত্র ব্যবহার করে তিনি হামলা করেছিলেন, সেটিও নিশ্চিত নয়। ছুরি দিয়ে হামলা করা হয়েছিল, নাকি বিমানের ককপিটে থাকা জরুরি ব্যবহারের কুঠার ব্যবহার করা হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত চলছে।

ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, অভিযুক্ত সহ পাইলট সাম্প্রতিক সময়ে ধর্মীয় উগ্র মতাদর্শের প্রভাবে এসেছিলেন। তাঁর কথায়, এই হামলার নেপথ্যে আরও কোনও যোগ আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা দরকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে হামলার কোনও যোগের প্রমাণ সামনে আসেনি। ফলে তদন্তে এই সম্ভাবনা কতটা গুরুত্ব পায়, সেটিও নজরে রয়েছে।

অন্য দিকে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি খুব সতর্ক ভাবে পুরো বিষয়টি সামলাচ্ছে। সরকারি ভাবে তারা জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের ওই ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে হামলার উদ্দেশ্য, কোনও সন্ত্রাসী যোগ, আগে থেকে পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না এবং বাইরের কারও নির্দেশ ছিল কি না, সবই রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। সৌদি আরব থেকে বিমানে করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে যাওয়ার পরে ভারতীয় আধিকারিকরা হাসপাতালে গিয়ে স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু সূত্রের দাবি, তাঁকে ওই ঘটনার বিষয়ে কোনও প্রশ্ন না করতে বলা হয়েছিল। স্মিত এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁর পাশে রয়েছেন।

ঘটনাটি শুধু একটি বিমানের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, গোটা পশ্চিম এশিয়ার বিমান চলাচল নিয়েই নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে এমন একটি সময়ে এই ঘটনা ঘটেছে, যখন ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে সংঘাত নিয়ে গোটা অঞ্চল উত্তপ্ত। তাই তদন্তকারীদের সামনে এখন মূল প্রশ্ন একটাই, এটি কি এক ব্যক্তির আচমকা সিদ্ধান্ত ছিল, নাকি এর পিছনে ছিল আরও বড় কোনও পরিকল্পনা? ওমানি সহ পাইলটের পরিচয় এবং তাঁর উদ্দেশ্য প্রকাশ্যে এলেই সম্ভবত সেই রহস্যের অনেকটাই সমাধান হবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More