Russia-Ukraine War Update: আবু ধাবিতে মুখোমুখি হবে রাশিয়া-ইউক্রেন, যুদ্ধ থামাতে ত্রিপাক্ষিক আলোচনায় মধ্যস্থতা আমেরিকার

আমেরিকার মধ্যস্থতায় এই বৈঠকে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি হিসেবে থাকার কথা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের। ইউক্রেন এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিদলও আলোচনায় অংশ নেবে। উইটকফ জানিয়েছেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথ খুঁজে বের করা।

Published on: Nov 3, 2026, 08:02:39 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
Copy link
  • copy link

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ফের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করল আমেরিকা। দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবু ধাবিতে মুখোমুখি বসতে চলেছে রাশিয়া, ইউক্রেন এবং আমেরিকা। আগামী ১০ ও ১১ নভেম্বর এই ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরেই আলোচনায় বসতে চলেছে তিন দেশ। যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি ইউক্রেনের নিরাপত্তা, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং সংঘাত কমানোর পথ নিয়েও আলোচনা হবে। সোমবার আমেরিকার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এই বৈঠকের কথা জানিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে ফের একবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে চলেছে মস্কো এবং কিয়েভ।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ফের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করল আমেরিকা।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে ফের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করল আমেরিকা।

আমেরিকার মধ্যস্থতায় এই বৈঠকে ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি হিসেবে থাকার কথা স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের। ইউক্রেন এবং রাশিয়ার প্রতিনিধিদলও আলোচনায় অংশ নেবে। উইটকফ জানিয়েছেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর পথ খুঁজে বের করা। পাশাপাশি যুদ্ধের পর দুই দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা, মানবিক পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংঘাত কমানোর বিষয়েও আলোচনা হবে।

পুতিনের সম্মতি, আলোচনায় ফিরছে মস্কো

এই বৈঠকের পথ তৈরি হয়েছে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মার্কিন বিশেষ দূত উইটকফের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর। প্রায় দু'সপ্তাহ আগে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে দু'জনের মধ্যে সাক্ষাৎ হয়েছিল। সেখানেই নতুন করে ত্রিপাক্ষিক আলোচনার বিষয়ে সম্মতি জানান পুতিন। এর আগে চলতি বছরের গোড়া থেকে আমেরিকার মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা কার্যত থমকে ছিল।

রাশিয়ার তরফেও বৈঠকের বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে। গত অক্টোবর মাসে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছিলেন, নভেম্বরের প্রথমার্ধে আবু ধাবিতে তিন দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠক হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য দিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দ্রুত আলোচনায় বসার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

আলোচনার আগে ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে বৈঠক

আবু ধাবির মূল বৈঠকের আগে ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গেও আলোচনা করবে আমেরিকা। ব্রাসেলসে ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মার্কিন আলোচকেরা। ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনে আর্থিক সহায়তা নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা।

ওয়াশিংটনের লক্ষ্য, যুদ্ধ বন্ধের কোনও চুক্তি হলে তার বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী শান্তির পথ তৈরি করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সবচেয়ে বড় বাধা ভূখণ্ড নিয়ে বিবাদ

তবে আলোচনার পথ যে খুব সহজ হবে, এমনটা মনে করছেন না কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ, যুদ্ধ বন্ধের শর্ত নিয়ে মস্কো এবং কিয়েভের মধ্যে এখনও বিস্তর মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ডনবাস অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। রাশিয়া ওই অঞ্চলের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করেছে। কিন্তু ইউক্রেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে নারাজ।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের বক্তব্য, আলোচনায় যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। অন্য দিকে, ইউক্রেনও নিজেদের সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনও সমঝোতায় যেতে রাজি নয়।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছনোর জন্য কিয়েভের উপর চাপ বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। ফলে আবু ধাবির বৈঠককে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপের দীর্ঘতম ও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসানে এই আলোচনা কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে শেষ পর্যন্ত ভূখণ্ডের দাবি এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে রাশিয়া ও ইউক্রেন কতটা নমনীয় হয়, তার উপরই নির্ভর করছে শান্তির সম্ভাবনা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More