Ukraine War Impact on Ind's Oil Import: রুশ জ্বালানি পরিকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা বেড়েছে ১১ গুণ, ভারতের উপর প্রভাব কতটা?
ভারত বর্তমানে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল রাশিয়া। তাই ইউক্রেনের এই হামলাগুলির দিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লিও।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধরন এখন অনেকটাই বদলে গিয়েছে। সীমান্তে সরাসরি যুদ্ধ চললেও, গত কয়েক মাসে রাশিয়ার অভ্যন্তরে ড্রোন হামলা অনেকটাই বাড়িয়েছে ইউক্রেন। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালানো হচ্ছে। এর ফলে রাশিয়ার জ্বালানি শিল্পের উপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলার প্রভাব ভারতের রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে আপাতত পড়ার সম্ভাবনা কম।
পোল্যান্ডের গবেষণা সংস্থা রোচান কনসাল্টিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত স্থাপনায় অন্তত ১৯৪ বার হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেশি। মে মাসের পর থেকে হামলার মাত্রা আরও বেড়েছে। বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ১ মে থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোয় অন্তত ৩৬টি ড্রোন হামলা হয়েছে।
এই হামলাগুলির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়ার তেল শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলি। একাধিক অঞ্চলে একসঙ্গে হামলা হওয়ায় রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপরও চাপ বাড়ছে। এই আবহে সম্প্রতি ইউক্রেনের একটি দূরপাল্লার ড্রোন রাশিয়ার সাইবেরিয়ার ওমস্ক শহরের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারে আঘাত হানে। এটি রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রিফাইনারি। গত বছর এই শোধনাগারে প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল তেল প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছিল। হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, সাইবেরিয়াও এখন ইউক্রেনের ড্রোনের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক নিখিল দুবের মতে, এই হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলির প্রায় ৪০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রিফাইনারিগুলি মেরামত করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পাওয়া কঠিন হওয়ায় মেরামতের কাজ আরও ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
তবে ভারতের জন্য আপাতত বড় উদ্বেগের কারণ নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ ইউক্রেনের ড্রোন হামলা মূলত রিফাইনারিগুলিকে লক্ষ্য করে হচ্ছে, তেল রপ্তানির জন্য ব্যবহৃত বন্দর বা টার্মিনালগুলিকে নয়। ফলে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ব্যবস্থা এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
বরং পরিস্থিতির কারণে রাশিয়া আগের তুলনায় আরও বেশি অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করছে। কারণ দেশের ভিতরে তেল শোধনের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বেশি পরিমাণ কাঁচা তেল বিদেশে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে। আগে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ৫২ লাখ ব্যারেল তেল শোধন করত। বর্তমানে সেই পরিমাণ কমে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে।
ভারত বর্তমানে রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল রাশিয়া। তাই ইউক্রেনের এই হামলাগুলির দিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লিও।
যদিও রাশিয়ার তেল শোধন শিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে, তবু এখনও পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বড় ধরনের কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। তবে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানির ঘাটতি মেটাতে রাশিয়াকে কিছু পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের খবরও প্রকাশ্যে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এবং হামলার মাত্রা আরও বাড়লে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই মুহূর্তে ভারতের জন্য রাশিয়া থেকে তেল সরবরাহে কোনও বড় বাধার আশঙ্কা নেই।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


