ভারতের নিরাপত্তা নির্দেশিকা নিয়ে কান্নাকাটি ইউক্রেনের, জেলেনস্কির মন্ত্রীকে পাত্তা দিচ্ছেন না জয়শঙ্কর?
কৃষ্ণসাগরে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের দাবি, সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলেও এখনও পর্যন্ত সেই অনুরোধের কোনও জবাব মেলেনি।
ইউক্রেনের ব্ল্যাক সি (কৃষ্ণ সাগর) ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা নির্দেশিকা বা অ্যাডভাইজরিকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কৃষ্ণসাগরে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের দাবি, সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চাইলেও এখনও পর্যন্ত সেই অনুরোধের কোনও জবাব মেলেনি।

এই বিতর্ক এমন এক সময় সামনে এসেছে, যখন ইউক্রেনের চর্নোমোর্স্ক বন্দরে এমভি এএমআইআর-১ (MV AMIR1) জাহাজে ১৩ জন ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে ব্ল্যাক সি অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষার জন্য আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইউক্রেনের দূতাবাস ভারতের নৌপরিবহণ মহানির্দেশালয় (ডিজিএমএ)-র জারি করা দুটি পৃথক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নির্দেশিকার তুলনা করে প্রশ্ন তুলেছে। দূতাবাসের বক্তব্য, ১৫ জুলাই হরমুজ প্রণালীর জন্য জারি করা অ্যাডভাইজরিতে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চলে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিকদের নিয়োগ না করতে। কিন্তু ২৩ জুলাই ব্ল্যাক সি-র জন্য প্রকাশিত অ্যাডভাইজরিতে তেমন কোনও কঠোর নিষেধাজ্ঞা বা সতর্কতা জারি করা হয়নি।
ইউক্রেনের মতে, ব্ল্যাক সিতে বর্তমানে যে নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে, তার তুলনায় ভারতের নির্দেশিকা যথেষ্ট কঠোর নয়। দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুটি অ্যাডভাইজরির তুলনা করলে প্রশ্ন ওঠে, ব্ল্যাক সি-র জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কি বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? বিশেষ করে যখন বেসামরিক জাহাজে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং তাতে ভারতীয় নাবিকদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
ইউক্রেন আরও জানিয়েছে, চর্নোমোর্স্ক বন্দরে আটকে থাকা ১৩ জন ভারতীয় নাবিককে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং ইউক্রেনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, যাতে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। এর আগে ইউক্রেনে ভারতীয় দূতাবাসও জানিয়েছিল, এই ঘটনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
এদিকে, ভারতের ফরওয়ার্ড সিমেনস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এফএসইউআই)-এর দাবিকেও সমর্থন করেছে ইউক্রেন। সংগঠনটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের জন্য আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছে। ইউক্রেনের দূতাবাসও একই দাবি তুলে ধরে আশা প্রকাশ করেছে যে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং নৌপরিবহণ মহানির্দেশালয় ব্ল্যাক সি-র বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারতীয় নাবিকদের সুরক্ষায় আরও কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে ব্ল্যাক সি এখনও বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ। এই পরিস্থিতিতে সেখানে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারত ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর, ইউক্রেনের উদ্বেগের জবাবে ভারত সরকার কোনও নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা জারি করে কি না এবং আটকে থাকা ১৩ ভারতীয় নাবিককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


