পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় আফগানিস্তানে ৩৯৯ সাধারণ মানুষ হতাহত, জানাল রাষ্ট্রসংঘ

ইউএনএএমএ-র মানবাধিকার পরিষেবার এই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, হতাহতদের মধ্যে ৪০ জন নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১১২ জন শিশু এই সংঘর্ষের শিকার হয়েছে। নিহত শিশুর সংখ্যা ২৬ এবং আহত হয়েছে ৮৬ জন। এই পরিসংখ্যানকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

Published on: Aug 3, 2026, 09:16:53 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

আফগানিস্তানে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে সাধারণ মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ)। সংস্থার প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্তবর্তী সংঘর্ষে মোট ৩৯৯ জন সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৭ জন নিহত এবং ৩৪২ জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এই সময়ে আফগানিস্তানে সীমান্ত অতিক্রম করে সংঘটিত সব সাধারণ মানুষের হতাহতের ঘটনাই পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের ফল।

২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্তবর্তী সংঘর্ষে মোট ৩৯৯ জন সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। (AP Photo/Saifullah Zahir)
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্তবর্তী সংঘর্ষে মোট ৩৯৯ জন সাধারণ মানুষ হতাহত হয়েছেন। (AP Photo/Saifullah Zahir)

ইউএনএএমএ-র মানবাধিকার পরিষেবার এই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, হতাহতদের মধ্যে ৪০ জন নারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নিহত এবং ৩৪ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১১২ জন শিশু এই সংঘর্ষের শিকার হয়েছে। নিহত শিশুর সংখ্যা ২৬ এবং আহত হয়েছে ৮৬ জন। এই পরিসংখ্যানকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের প্রাণহানির প্রধান কারণ ছিল বিমান হামলা এবং স্থলপথে গোলাবর্ষণ। বিশেষ করে গত ২৮ জুন পাকতিয়া, পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান হামলায় সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটে। এছাড়া ২৭ থেকে ২৯ এপ্রিল কুনার প্রদেশে গোলাবর্ষণের ঘটনাতেও বহু সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন।

ইউএনএএমএ জানিয়েছে, এই প্রতিবেদন তাদের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণের দায়িত্বের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী, ইউএনএএমএ শুধুমাত্র আফগানিস্তনের ভেতরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলি পর্যবেক্ষণ, নথিভুক্ত এবং বিশ্লেষণ করে। পাকিস্তানের ভেতরে ঘটে যাওয়া কোনও ঘটনার তদন্ত বা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের নেই।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে নথিভুক্ত সব হতাহতের তথ্য সে দেশের কার্যত ক্ষমতাসীন প্রশাসন এবং পাকিস্তান সরকারের কাছেও পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের মন্তব্যও প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ইউএনএএমএ-র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সীমান্তবর্তী সংঘর্ষে মোট ১,২১৬ জন সাধারণ মানুষ আহত এবং ৪৯৯ জন নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির মতে, সীমান্তে সামরিক অভিযান চালানোর সময় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

ইউএনএএমএ-র এই রিপোর্টে যে তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, তা সীমান্তবর্তী এলাকায় চলমান সংঘর্ষের মানবিক দিককে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। সংস্থার মতে, ভবিষ্যতে এমন প্রাণহানি এড়াতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং যুদ্ধের নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা কমিয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বানও জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের এই সংস্থা।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More